Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৩ অক্টোবর ২০২৬
Hooghly

ঠোঁটস্থ চণ্ডীপাঠ-গীতা, সংসারের জোয়াল টানতে গেরুয়া বসনে অটোর স্টিয়ারিংই ভরসা ‘সাধুদা’র

গত সাত বছর ধরে পান্ডুয়া-মহানাদ রুটে অটো চালান তিনি।

সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১৫:৪৯

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১৫:৪৯

options
link
ঠোঁটস্থ চণ্ডীপাঠ-গীতা, সংসারের জোয়াল টানতে গেরুয়া বসনে অটোর স্টিয়ারিংই ভরসা ‘সাধুদা’র zoom
হুগলির অটোচালক 'সাধুদা'। নিজস্ব চিত্র
Advertisement

একঝলক দেখলে তাঁকে মনে হতে পারে যেন সন্ন্যাসী। আর মনে হবেই না বা কেন? পরনে গেরুয়া ধুতি, পাঞ্জাবি। মাথায় ফেট্টি বাঁধা। তবে ভুল ভাঙবে ক্ষণিকেই। কারণ, সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নেওয়ার পর থেকে হুগলির (Hooghly) পোলবার মহানাদের দক্ষিণপাড়ায় অটো চালিয়েই দিন গুজরান করতে হয় তাঁকে। গত সাত বছর ধরে পান্ডুয়া-মহানাদ রুটে অটো চালান। কথা হচ্ছে অটোচালক ভবতোষ পালকে নিয়ে।

বছর সাতান্নর ভবতোষ এলাকায় ‘সাধুদা’ বলেই পরিচিত। অটো চালানোর পর বাকি যেটুকু সময় পাওয়া যায় ‘সাধুদা’ ধর্মকর্মে ডুবে থাকেন। চণ্ডীমন্ত্র তাঁর ঠোঁটস্থ। কখনও আবার সুর করে মনসামঙ্গল পাঠ করেন। রামায়ণ, গীতার শ্লোক সবই তাঁর মুখস্থ। প্রায় ২৮ বছর ধরে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করছেন ভবতোষ। দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে এলাকার বারোয়ারিতলায় তাঁর চণ্ডীপাঠের জন্য ভিড় করেন স্থানীয়রা। কালীপুজোতেও ডাক আসে। শুধু চণ্ডী নয়। শ্রাদ্ধে গীতাপাঠ করেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভবতোষের বাবা ছিলেন ব্রজেন্দ্রনাথ পাল। তিনি পূর্ববঙ্গের মানুষ। দেশভাগের পরে ধুবুলিয়ার রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন। সেখান থেকে মহানাদে চলে আসা। সাত ভাই, এক বোনের মধ্যে দাদা, ভাই এবং বোনেরা আত্মহত্যা করেন। একের পর এক মৃত্যু ভবতোষকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কেন এমন হচ্ছে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ধর্মকর্মে ডুবে যান। মনসা পুজো করতে শুরু করেন। শ্রাবণ মাসে এক মাস সন্ন্যাস পালনও করেন। অন্নগ্রহণ করেন না। ছোলা আর খেজুরেই কাটে দিন। ভবতোষের কথায়, “এখন দুর্যোগ অনেকটাই কেটে গিয়েছে। মা মনসাকে জোড়া মোষ উৎসর্গও করেছি।”

আপাতত অটো, ধর্মকর্ম আর সংসারই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। পুজোর মরশুমে বাড়তি আয়ের আশায় চণ্ডীপাঠ করেন। চণ্ডীপাঠের জগতে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে’ শুনলে তাঁর নিজের রোমই খাড়া হয়ে ওঠে। আজও পাঠ শুরুর আগে-পরে তাঁকে স্মরণ করেন। প্রতিদিন মোবাইল ফোনে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শোনা তাঁর নেশা। স্বামীকে নিয়ে বেজায় খুশি স্ত্রী গোপাও। তাঁর কথায়, “স্বামী অটো চালায়। আমি বিড়ি বাঁধি। এভাবেই সংসার চলে।” আবার কখনও খোলা মঞ্চে ‘কলির কেস্ট আসে’ যাত্রপালায় অভিনয়ও করেন। একদিকে ধর্মকর্ম এবং সংসারের ওঠাপড়া সামলে দিব্যি বাঁচেন ‘সাধুদা’।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.