সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ‘হুঁকো বুড়ো’র চাহিদা প্রচুর৷ কিন্তু, রথের মেলার প্রথাগত ‘হুঁকো বুড়ো’ এখন প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে৷ মোটু-পাতলু, ছুটকি কিংবা ছোটা ভীম আসর জাঁকিয়ে বসেছে রথের মেলায় পুতুলের দোকানে৷ মাথা হেলানো পুতুলের চাহিদা আজকের নয়৷ কাঁকসায় রথের মেলায় মূল আকর্ষণই হল এই মাথা হেলানো হুঁকো বুড়ো৷
রথতলার বাসিন্দা সুশান্ত সূত্রধরের দুই পুরুষের ব্যবসা এই পুতুল তৈরি করা৷ সুশান্তবাবুর বাবা শিবশঙ্কর সূত্রধরই এই ‘হুঁকো বুড়ো’ আসল রুপকার৷ শিবশঙ্করবাবু নদীয়াতে মেলায় ঘুরতে ঘুরতে এই ধরনের পুতুলের সন্ধান পান৷ নিজে ছিলেন দক্ষ কারিগর৷ নিজের মতন করে গড়ে তুলেছিলেন আজকের মাথা হেলানো ‘হুঁকো বুড়ো’কে৷ সুশান্তবাবুর পরিবারের সব সদস্যই মেলার এই ক’টা দিন চরম ব্যস্ত থাকেন৷ স্ত্রী চায়না সূত্রধরও স্বামীকে সাধ্যমতো সাহায্য করেন৷ বিয়ের পর থেকেই এই কাজ শিখেছেন তিনি৷ এখন বিভিন্ন পুতুলে রঙের কাজ করেন চায়নাদেবী৷ দশম শ্রেণির ছাত্র ছেলে সুরজিতও এই পেশাকে ভালবেসেই বাবাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ পাকা হাতেই সুরজিতও বাবাকে মূর্তি গড়তে সাহায্য করে৷ বছর বছর কাঁকসা রথতলার মাঠে রথের মেলায় দোকান দিচ্ছেন সুশান্তবাবু তার তিন সদস্যের পরিবারকে নিয়েই৷ আর প্রতিবছরই মেলায় সেরা ‘হুঁকো বুড়ো’৷
[কয়েক শতক পরেও উচ্ছাসে পড়েনি ভাটা, কেমন ছিল মাহেশ-মহিষাদলের রথযাত্রা?]
গত বছর আবহাওয়া প্রতিকুল থাকায় বেচা-কেনা হয়নি৷ ‘হুঁকো বুড়ো’ তৈরি হয়েও মেলাশেষে বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে৷ এবারও প্রায় চার হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ‘হুঁকো বুড়ো’-সহ বিভিন্ন ধরনের পুতুল তৈরি করেছেন সুশান্তবাবু৷ আগে শুধুই মাথা হেলানো ‘হুঁকো বুড়ো’ তৈরি করতেই হিমশিম হয়ে যেতে হত৷ কিন্তু, দিন দিন চাহিদা কমছে বুড়োর৷ বদলে কার্টুন ভিত্তিক পুতুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে৷ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাও শিখতে হয়েছে সুশান্তবাবুকে৷ দুই বছর ধরে একই দর ‘হুঁকো বুড়ো’র৷ দশ টাকা মাত্র৷ কাঁচামালের দাম বাড়লেও ‘হুঁকো বুড়ো’র দর এখনও একই৷ অন্য সময়ে প্রতিমা তৈরি করেন৷ সিমেন্টের ছাঁচে নানাধরনের মডেলও করেন সুশান্তবাবু৷ ঘরেই ওয়ার্কশপ৷ এই বছরের পাঁচটি দুর্গাপ্রতিমা গড়ার বায়না এখনই পেয়ে গিয়েছেন সুশান্তবাবু৷ পেশায় দক্ষতা থাকলে অভাব হয় না৷ এই আপ্ত কথাটি অক্ষরে অক্ষরে মানেন সুশান্তবাবুও৷
কিন্তু, এই পেশা ছেড়ে আর অন্য কিছু ভাবতেই পারেন না তিনি৷ সুশান্তবাবু বলেন, “আর এই বয়সে এসে অন্য কোনও উপায় নেই৷ এই কাজই করে যেতে হবে যতদিন হাত চলবে৷ অভাব থাকলেও সরকারিভাবে সাহায্যেরও আবেদন করিনি৷” ছেলে সুরজিতের এই কাজে আগ্রহ থাকলেও পূর্ব পুরুষের এই ব্যবসা সে ধরে রাখবে কি না তা নিয়েও প্রবল সন্দেহ সুশান্তবাবুর মনে৷ আগামী দিনে কাঁকসার ‘হুঁকো বুড়ো’ হারিয়ে যাবে কিনা তা নির্ভর করছে সুশান্ত সূত্রধরের পরবর্তী প্রজন্মের উপর৷
সর্বশেষ খবর
-
বিয়ের বছর ঘোরার আগেই উত্তাল পরকীয়া! ডিভোর্সের পথে টলিপাড়ার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি?
-
ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে অসন্তোষ খোদ এনডিএ ভোটারদের! কোন পথে হাঁটবে মোদি সরকার?
-
আগামী দু’বছর রাজ্যে কোনও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন নয়, বার্তা সুকান্তের
-
‘রঘু ডাকাত’ ফ্লপ করার পর শুনতে হয়েছিল ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ফিনিশড’! কী জবাব পরিচালকের?
-
মেলবোর্নে মোদির অনুষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে ভিড়! রাহুল-খাড়গেকে ক্ষমা চাইতে বলল আয়োজকরা