ধীমান রায়, কাটোয়া: সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মিড-ডে মিলের রাঁধুনির কাজ করেন। পড়াশোনার দৌড় বেশিদুর নয়। তাই সংবাদপত্র পড়া হয়ে ওঠে না। টিভির খবর দেখারও সময় তার হাতে নেই। তাই বর্হিজগতের খবর খুব একটা রাখতে পারেন না তিনি। কিন্তু অন্তর কাঁদে মানুষের জন্য কিছু করার। পরোপকারের ভাবনা থেকেই মরনোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত নিলেন প্রত্যন্ত গ্রামের নিতান্ত ছাপোষা ঘরের এক বিধবা প্রৌঢ়া। ভাতারের বেলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জ্যোৎস্না মল্লিক (৫৩) মরনোত্তর দেহদানের জন্য বুধবার প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদন জানালেন ভাতার থানার ওসির কাছে। ওসির সই পাওয়ার পর তিনি তার আবেদন পাঠিয়ে দিতে চলেছেন স্ংশ্লিষ্ট দপ্তরে। জ্যোৎস্নাদেবী জানিয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এনিয়ে তার কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। তারপর পরিবারের সদ্যসদের সন্মতি নিয়ে থানার মাধ্যমে তিনি তার আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবেন।
[উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দূর অস্ত, টোটো চালিয়েই সংসারের জোয়াল টানছেন সাধনা]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বেলডাঙ্গা গ্রামে এক সাদামাটা মাটির ঘরে বসবাস করেন জ্যোৎস্নাদেবী। তার স্বামী বনগোপাল মল্লিক ১৪ বছর আগে মারা গিয়েছেন। বাড়িতে রয়েছেন দুই ছেলে। তারা বিবাহিত। পৃথক সংসারে থাকেন। আলাদা থাকলেও ছেলেদের পরিবারের সঙ্গে বিবাদ নেই জোৎস্নাদেবীর। জানা গিয়েছে, বেলডাঙ্গা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী মিড-ডে মিলের রান্নার কাজ করে তার সদস্যা জ্যোৎস্নাদেবী। সামান্য রোজগার। তাই রান্নার কাজ করেও তাকে পরিচারিকার কাজ করেন।
[আর্থিক প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা রেবতী মোহন ভট্টাচার্য]
কী থেকে এই ভাবনা এল তার? এই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোৎস্নাদেবী জানিয়েছেন দুসপ্তাহ আগে তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। তখন সেখানে গিয়ে দেখেন কয়েকজন কিছু লেখালেখি করছে। জ্যোৎস্নাদেবী বলেন, ‘তাঁদের কাছে জানতে চাইলে জানতে পারি ওরাও দেহদানের অঙ্গীকার করে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছে। তাদের মধ্য একজন আমাকে দেহদানের উপকারিতা ব্যাখ্যা করেন। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই আমিও দেহদানের অঙ্গীকার করে রাখব।’ জ্যোৎস্নাদেবীর কথায়, ’আমি সামান্য মানুষ। তাই সমাজের জন্য তেমন কিছু করতে পারি না। তাই মরনের পর যদি আমার দ্বারা কেউ প্রাণ ফিরে পায় তাহলে জানব আমার জীবন সার্থক।’ ভাতারের বিডিওর কানেও পৌঁছায় জোৎস্নাদেবীর এই সিদ্ধান্তের কথা। বিডিও শুভ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, ’ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। জোৎস্নাদেবীর এই অবদান সমাজের আরও বহুজনকে মরনোত্তর দেহদানের প্রেরণার দিশা দেখাবে।
ছবি: জয়ন্ত দাস
সর্বশেষ খবর
-
বিয়ের বছর ঘোরার আগেই উত্তাল পরকীয়া! ডিভোর্সের পথে টলিপাড়ার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি?
-
ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে অসন্তোষ খোদ এনডিএ ভোটারদের! কোন পথে হাঁটবে মোদি সরকার?
-
আগামী দু’বছর রাজ্যে কোনও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন নয়, বার্তা সুকান্তের
-
‘রঘু ডাকাত’ ফ্লপ করার পর শুনতে হয়েছিল ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ফিনিশড’! কী জবাব পরিচালকের?
-
মেলবোর্নে মোদির অনুষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে ভিড়! রাহুল-খাড়গেকে ক্ষমা চাইতে বলল আয়োজকরা