Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
সুরক্ষা ছাড়াই কাজ

ন্যূনতম সুরক্ষা ছাড়াই কাজ ICDS কর্মীদের, বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা

মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার বিলি কর্মীদের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২০, ২০২০, ২১:৪৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২০, ২০২০, ২১:৪৬

options
link
ন্যূনতম সুরক্ষা ছাড়াই কাজ ICDS কর্মীদের, বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা zoom

দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: মুখে নেই মাস্ক। হাতে ধোয়া নেই লিকুইড সোপ বা স্যানিটাইজারে। শরীরে নেই কোনও সুরক্ষা বর্ম। এসব ন্যূনতম সুরক্ষা ছাড়াই প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন আইসিডিএস কর্মীরা। সরকারি নির্দেশ মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অঙ্গওয়াড়ি, আশা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মীরা যাচ্ছেন এলাকার বাড়িতে বাড়িতে। খবর নিতে হচ্ছে, বাইরে থেকে কেউ এলাকায় ঢুকেছে কি না। বিদেশ থেকে কেউ এল কি না। কারও জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হল কি না। সব মিলিয়ে করোনা রুখতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাঁরাও। কিন্তু সুরক্ষা কোথায়, তা নিয়ে উঠছে বিস্তর প্রশ্ন।

icds-unsafe

Advertisement

রাজ্য সরকার বলছে, মাস্কের কোনও রকম সমস্যা হবে না।  অথচ মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই জনপরিষেবা প্রদানকরী কর্মীরা।   সরকারি নির্দেশ মেনে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল কলেজ এবং আইসিডিএস সেন্টারগুলি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে আইসিডিএস সেন্টার বন্ধ থাকলেও, কর্মীদের প্রতিনিয়ত ও উপস্থিত হতে হচ্ছে সেন্টারে ও নিজের কাজের এলাকায়। চাল, আলু-সহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিতে হচ্ছে বাড়িতে বাড়িতে। শুধু পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত থাকছেন না তাঁরা। যে এলাকায় তিনি কাজ করছেন, সেই সমস্ত এলাকায় ঘুরে প্রতিটি বাড়িতে চালাচ্ছেন নজরদারি। বাইরে থেকে আগত কেউ করোনা ভাইরাস বহন করেই ঢুকে পড়ছেন কি না এলাকায়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।  আইসিডিএস কর্মীরা এবং আশা কর্মীদের সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্য দপ্তর অন্যান্য কর্মীরা।

[আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্ক: মতুয়া মেলার পাশাপাশি বন্ধ হল পুণ্যস্নান ও প্রসাদ বিতরণ]

তবে যাঁরা অন্যদের সচেতন করতে নিজেদের প্রাণপাত করছেন, সেই সমস্ত কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে কোনওরকম হেলদোল নেই প্রশাসনের। তাঁদের জন্য নেই কোনও মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা।এ বিষয়ে এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বলছেন, “ আমরা সরকারি নির্দেশ পালন করছি। কিন্তু মাস্ক,হ্যান্ডগ্লাভস – কোনও কিছুই আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে আমরা পুষ্টিকর খাবার বিলি করে আসছি। কোনও বাড়িতে অতিথির আগমন ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ফর্ম ফিলআপ করে জানানো হচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তরকে। সে কত দিন বাইরে ছিল বা কোথা থেকে আসছে সব তথ্যই নেওয়া হচ্ছে। এত কিছু করছি কোনও সুরক্ষা ছাড়াই। ফলে আমরা আক্রান্ত হলে যাব কোথায়?”

জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতে তৈরি করা হয়েছে টাস্ক ফোর্স। বানানো হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। প্রতিটি ব্লক এলাকায় সেই কুইক রেসপন্স টিম কাজ করে চলেছে। কিন্তু উঠছে সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন। শুধু গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা আশা কর্মীদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটছে, তা নয়। হাসপাতালে যুক্ত কর্মীদের অনেকেই দেখা যাচ্ছে ন্যূনতম শারীরিক সুরক্ষা বা পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট ছাড়াই করে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজ।

[আরও পড়ুন: দাম্পত্য কলহের জের, স্বামীকে খুন করে সটান থানায় স্ত্রী]

জেলাশাসক পি উলগানাথান বলেন, “স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মী-সহ যাঁরা ফিল্ডে কাজ করছেন, তাঁদেরকে করোনা প্রতিরোধে সব কিছু দেওয়া হচ্ছে । তবে এখনও সকলের কাছে সেই পরিষেবা পৌঁছায়নি। তা খুব শীঘ্রই দেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।” কিন্তু সেই দিন কবে আসবে, তার অপেক্ষায় নিরলস জনপরিষেবা প্রদানকারী এই কর্মীরা।

ছবি: বিশ্বজিৎ নস্কর।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.