২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থানার নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন। বছর দু’য়েক আগে সেই উদ্বোধন হলেও অব্যবহৃত হয়েই পড়েছিল থানার আধুনিক ভবন! স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে থানা চালুর দাবি জানালেও সেই ভবনে পেট্রাপোল থানা স্থানান্তর করা হয়নি৷ অভিযোগ উঠেছিল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করা থানার ওই ভবন গ্রহণ করেনি তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার।
পালাবদল হতেই নতুন সরকার সে বিষয়ে পদক্ষেপ করে৷ শনিবার ওই নতুন থানার ভবনটি চালু হল। সেই উপলক্ষ্যে বন্দরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে নতুন থানা ভবনটির ফিতে কেটে সূচনা করেন খাদ্যমন্ত্রীর অশোক কীর্তনীয়া ও বনগাঁর পুলিশ সুপার কলিতা দাশগুপ্ত৷ খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “আমি এবং জেলার পুলিশ সুপার ভবনটি আগেই গিয়ে দেখে এসেছিলাম। এদিন থেকে ওই ভবনেই থানার কাজ চালু হয়ে গেল। এই এলাকায় থানার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”
আরও পড়ুন:

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে পেট্রাপোল থানা। অভিযোগ, থানায় গিয়ে বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ জানাতে বিএসএফের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় আঁটসাঁট নিরাপত্তা থাকে ওই এলাকায়৷ নিরাপত্তার কারণে গভীর রাতে কোনও অভিযোগ জানাতে থানায় যেতে চায় না সাধারণ মানুষ! গভীর রাতে থানায় গেলে কোনও পরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়! ব্যস্ততার সময় আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ড নিয়ে যেতে ভুলে গেলে থানার সামনে পর্যন্ত পৌঁছনো যায় না! নোম্যান্স ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় থানা থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।

সে কারণে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার ব্যবসায়ীরা পেট্রাপোল থানাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল৷ কেন্দ্র সরকার পদক্ষেপ করে ল্যান্ডপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ২০২৩ সালে একটি আধুনিক থানার ভবন তৈরি করা হয় যশোর রোডের পাশে। সেটির উদ্বোধন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূল আমলে ওই ভবনের উদ্বোধন হলেও সেখানে থানা স্থানান্তরিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার থানার ভবন তৈরি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই ভবনের উদ্বোধন করায় তৃণমূল পরিচালিত সরকার সেই ভবন ব্যবহার করেনি। ফলে মানুষকে এই দু’বছর বিভিন্ন সময়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল। রাজ্যে সরকার বদল হতেই বাসিন্দারা নতুন ভবন ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছেন৷ এবার সেই থানা ভবনের উদ্বোধন হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা৷
এশিয়ার বৃহত্তম ল্যান্ডফোর্ট এই পেট্রাপোল বন্দর৷ দৈনিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলে। পাশাপাশি দুই দেশের যাত্রীও পারাপার হয়। জনবহুল পেট্রাপোল বন্দর ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ছয়ঘড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছিল পেট্রাপোল থানা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা’, লেবাননে হামলার মাঝেই ইজরায়েলের প্রশংসা! কী চাইছেন ট্রাম্প?
-
রান্নাঘরের অন্ধকারে মা-মেয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল যুবক! তারপর…
-
অভিষেকের বিমান-বিলাস, ৪ বছরে হাওয়ায় উড়েছে তৃণমূলের ১৫০ কোটি!
-
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন আমেরিকা-ইজরায়েলের! জবাবে ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান
-
কাবাব-পকোড়ার সঙ্গত হিসেবে অসামান্য এই ৫ চাটনি, বানিয়ে নিন সহজেই