সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন বসিরহাটের বাসিন্দারা। কে হিন্দু আর কে মুসলিম, কীসের বিভেদ, কী বিভাজন সব ভুলে শিশু-অন্তঃসত্ত্বাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন হাতে হাত মিলিয়ে। ঘোর অশান্তির মধ্যেও মাস্টারমশাইরা ছাত্রদের শেখাচ্ছেন সম্প্রীতির পাঠ। এগিয়ে এসেছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরাও। যে ফেসবুক পোস্ট থেকে দাঙ্গার সূত্রপাত, সেই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেই অশান্তির আগুনে জল ঢালতে উদ্যোগ নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। অথচ এই সম্প্রীতির বাতাবরণে কিছু মানুষ আশ্চর্যভাবে নিশ্চুপ। তাঁরা রাজ্যের শিল্পী-তারকা। বাংলার ঘোর দুর্দিনেও মুখে একরকম কুলুপই এঁটেছেন তাঁরা।
[ মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন সত্ত্বেও গন্তব্য বসিরহাট, গ্রেপ্তার রূপা-লকেট ]
বাংলার সংস্কৃতি কি এমনটাই ছিল? প্রশ্নটা ঘুরছে ইতিউতি। যখনই কোনও সামাজিক প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তখন তো বারেবারে এগিয়ে এসেছে শিল্পীমহল। বাস্তুহারাদের জন্য ঋত্বিককুমার ঘটক কীভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, বা বন্যাত্রাণে সাহায্য তুলতে উত্তমকুমার বেরলে কীভাবে মহিলারা গয়না ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সে সব গল্প বাঙালির কাছে চিরন্তন সুখপাঠ্য। শ্লাঘার বিষয়। আর অতীতে না গিয়েও যদি ফিরে দেখা যায়, তবে এই সেদিনও নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর পর্বেও শিল্পীরা পথে নেমেছিলেন। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যে নাগরিক সমাজের ধারণা প্রায় ফসিলে পরিণত হয়েছিল, তা ক্ষীণ হয়েও সেদিন জেগে উঠেছিল। কিন্তু গত এক দশকে তা কি এত বদলে গেল যে, রাজ্য অশান্ত হলেও শিল্পীরা কোনও বার্তা দিতে এগিয়ে এলেন না? হাতে গোনা ব্যতিক্রমী দু-একজন ছাড়া সাম্প্রতিক বসিরহাট পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেননি প্রায় কেউই।
[ বসিরহাট নিয়ে রিপোর্ট নেই, রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্র ]
যে সময়টা রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী বারবার বার্তা দিয়েছেন, সেই ‘টাইমলাইনে’ শিল্পী-তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল দেখলে বেশ অবাকই হতে হয়। কেউ শেয়ার করেছেন তাঁর ছবির ফার্স্ট লুক। কেউ বা দিয়েছেন পারফরম্যান্সের খবর। কেউ আবার নস্ট্যালজিয়ায় ডুব দিয়ে সোনালি অতীতে মুখ লুকোতে ব্যস্ত। কেন এই মুখ ফিরিয়ে থাকা? শিল্পীরা কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় সড়গড় নন এমনটা তো নয়! নিজেদের প্রমোশনের বিষয় হলে রাত দিন এক করে তাঁরা এই মাধ্যমকে যে ব্যবহার করেন, তা অজানা নয়। যে বসিরহাট উত্তপ্ত সেখানে কি তাঁদের ফ্যান নেই, নাকি এখানে কখনও কোনও অনুষ্ঠান করেননি তাঁরা? তাহলে সম্প্রীতির বার্তা দিতে এগিয়ে এলেন না কেন? কেন তাঁদের ফ্যানদের সামনে বললেন না, এই অশান্তির আগুনে, প্ররোচনার ফাঁদে পা না দিতে! কেন মিডিয়ার সামনে এগিয়ে এসে পারস্পরিক সহাবস্থানের আরজি জানালেন না তাঁরা? অথচ উৎসবে শুভেচ্ছা দিতে, এমনকী নিজেদের বাড়ির পুজো-আচ্চাতেও মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে তাঁদের হাসি হাসি মুখে দেখা যায়। সেই তাঁরাই রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হলে এতটা নীরব থাকতে পারলেন কীকরে!
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশে এই তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়। কোনও তারকা, তিনি যে মাধ্যমেরই হোক না কেন, তাঁর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতামত থাকতেই পারে। কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি তাই অবাক করা কিছু হতে পারে না। কিন্তু যখন সমস্ত রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে আসার সময়, তখন কেন নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখল এই শিল্পীমহল? কেন তাঁদের ফ্যানদের সামনে অশান্তি থেকে সরে আসার বার্তা দিলেন না? বহু পারফর্মার আছেন যাঁদের এক ডাকে বহু তরুণ উৎসাহিত হয়ে থাকেন, ভিড় জমান, এমনকী তাঁদের আদর্শ মনে করে বাধ্যও থাকেন, সেই শিল্পীরা কেন অশান্তির পথে পা বাড়ানো তরুণদের ফিরিয়ে নিলেন না?
[ দাঙ্গায় উসকানি, রাজ্যে ‘নিষিদ্ধ’ হতে চলেছে কয়েকটি হিন্দু ও মুসলিম সংগঠন ]
তবে কি গা বাঁচানোটাই এই সময়ের সবথেকে বড় পন্থা হয়ে দাঁড়াল শিল্পীদের কাছে? নাকি অন্য কোনও বাধ্যবাধকতায় আটকে গেলেন তাঁরা? নাকি বাংলা যখন অশান্ত, সাধারণ মানুষ যখন ক্ষুব্ধ তখন, ভিনদেশের বঙ্গসম্মেলনে অংশগ্রহণ করাই তাঁদের কাছে বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়াল? প্রশ্নগুলো সহজ, কিন্তু উত্তর বোধহয় আর জানা নেই। আর কয়েকটাদিন পর এঁরাই হাসি হাসি মুখ করে এসে দাঁড়াবেন মিডিয়ার সামনে, পুজোর শুভেচ্ছা জানাবেন। এঁরাই নিজেদের কাজের প্রমোশনে দ্বারস্থ হবেন সাধারণ মানুষের কাছে। পাশে দাঁড়িয়ে ভাল কাজকে(?) সমর্থন জানানোর আরজি জানাবেন। শুধু সংকটে প্রয়োজনে তাঁদের কোনও মুখে কোনও শব্দ থাকবে না। এ নীরবতা শুধু কষ্টদায়ক নয় ভবিষ্যত বাংলার সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও যে অশনিসংকেত, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
সর্বশেষ খবর
-
কাচ ঢাকা কালো গাড়িতে অভিষেক, ঝুলতে ঝুলতে যাতায়াত নিরাপত্তারক্ষীদের! ‘যুবরাজে’র বিরুদ্ধে এফআইআর
-
হেপাইটাইটিস বি পজিটিভ রোগীর ত্বকে সফল অস্ত্রোপচার, দেবেন মাহাত মেডিক্যালে অসাধ্যসাধন
-
জোড়া গোলে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা কেন, শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপে কঙ্গোর রূপকথায় ইতি
-
অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে গা ঢাকা দিয়েও হল না শেষরক্ষা, কীভাবে এসটিএফের জালে অদিতির স্বামী দেবরাজ?
-
খাস কলকাতায় নাবালিকাকে ‘গণধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত