Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Purulia

ব্যবহার হত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়! পুরুলিয়ার সেই ছড়রায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য বরাদ্দ ২ হাজার কোটি

পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে এই বিমানবন্দর তৈরি হলে রাজ্যের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। ওই প্রকল্পে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ২১:৪৯

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ২১:৪৯

options
link
ব্যবহার হত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়! পুরুলিয়ার সেই ছড়রায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য বরাদ্দ ২ হাজার কোটি zoom
পুরুলিয়ার ছড়রা এয়ারস্ট্রিপের রানওয়ে। নিজস্ব ছবি।
Advertisement

ডবল ইঞ্জিনের সুফল। রাজ্য বাজেটে ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই পুরুলিয়ার ছড়রায় বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপের মানচিত্র-সহ পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনকে নিয়ে সম্প্রতি পরিদর্শন করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তিনি জানান, “রাজ্য বাজেটে পুরুলিয়ার জন্য ঘোষিত বিমানবন্দরের কাজ খুব শীঘ্রই ছড়রাতে শুরু হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসনকে নিয়ে আমি পরিদর্শন করেছি। ওই প্রকল্পে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, এই এয়ারস্ট্রিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হত। জ্বালানি নিতে বিমানগুলি এই এয়ারস্ট্রিপে নামত বলে জানা গিয়েছে। 

It was used during World War II, Now, an airport is set to be built at that Chharra airstrip in Purulia
পুরুলিয়ার ছড়রার এয়ারস্ট্রিপের ম্যাপ দেখছেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। নিজস্ব ছবি।

সেই বাম আমল থেকে ছড়রায় বিমানবন্দরের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু একটি ইঁটও পড়েনি। বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা। দীর্ঘ সময়ে শুধু সমীক্ষা আর পরিদর্শন হয়েছে। আসলে বিগত সরকার এই মেগা প্রকল্পের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেভাবে কেন্দ্রকে সাহায্য করেনি। তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই রাজ্য বাজেটে এই বিমানবন্দরের কথা ঘোষণা করা হয়। আর তারপরেই টাকা বরাদ্দ করে জেলা প্রশাসনকে নিয়ে সাংসদের ঘুরে দেখা। তবে এই বিমানবন্দর নিয়ে কিছু জমি জট রয়েছে। ওএলএস (অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস) সমীক্ষায় প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে গিয়েছে একদিকে রেললাইন। অন্যদিকে হাইটেনশন লাইন। এই সমস্যাকে কীভাবে দূর করা যায় তা দেখতে দিল্লি থেকে এক্সপার্টরা আসছেন বলেও খবর। রেললাইনের কাছে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ১১ ব্যাটেলিয়নের যে ক্যাম্পাস রয়েছে তা সরাতে হবে বলে এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়াররা পরিবহণ দপ্তরকে জানিয়েছিল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিম (আরসিএস)-র আওতায় দেশের প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ গড়ে তোলার কাজে কিছুদিন আগে ‘উড়ান’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় কেন্দ্র। সেই প্রকল্পের অধীনেই ওই প্রস্তাবিত বিমানবন্দর গড়ে উঠবে। পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে এই বিমানবন্দর হলে রাজ্যের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। ওই বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। আরও জমি প্রয়োজন হলে অধিগ্রহণ করবে সরকার। এমন ইঙ্গিত দেন সাংসদ। এই এয়ারস্ট্রিপের পূর্ব দিকে যেখানে রানওয়ে শেষ হচ্ছে সেখান থেকে আরও দেড় হাজার থেকে দু’হাজার মিটার এবং একইভাবে পশ্চিম দিকে যেখানে রানওয়ে শেষ হচ্ছে সেখান থেকে আরও দেড় হাজার মিটার জমি প্রয়োজন। যেহেতু পশ্চিম দিকে রেললাইন রয়েছে তাই ওই দিকে পরিকাঠামো বৃদ্ধির কোন সুযোগই নেই। ফলে পূর্বদিকে জমি অধিগ্রহণ করতে হতে পারে।

প্রকল্প রিপোর্ট অনুযায়ী, এখানে ওয়ান বি অর্থাৎ ১১০০ মিটার রানওয়ে হবে। যদিও প্রকল্প রিপোর্টে আগামী দিনে টু সি ১৭০০ মিটার রানওয়ের প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে আপাতত পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মোট ৩ হাজার ও রানওয়ের জন্য ১১০০ মিটার-সহ মোট ৪১০০ মিটারের ক্লিয়ারেন্স দরকার। ওই হাইটেনশেন লাইনের ক্ষেত্রে উচ্চতা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিমানবন্দরের জন্য দমকল, এটিসি বিল্ডিং, ইলেকট্রিক সাব স্টেশন, নিরাপত্তারক্ষীর ছাউনি, ৩ টি ওয়াচ টাওয়ার, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাঙ্ক ও বম্ব কুলিন পিট নির্মাণ করতে হবে। অর্থাৎ বোমা পাওয়া গেলে তা যাতে সুরক্ষিতভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ছররা এয়ারস্ট্রিপে বিমান ওঠানামা করত জ্বালানি নেওয়ার জন্য। তারপর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রানওয়ে নষ্ট হয়ে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছে। পণ্য বোঝাই লরি যাতায়াত করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাই ১৯৪২ সালে তৈরি হওয়া ওই রানওয়ের কংক্রিট পুনরায় নির্মাণ করতে হবে। এই জমি কেন্দ্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে ছিল। বাম আমলে বাঘমুন্ডির তৎকালীন বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো বিধানসভায় এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তারপর জমি হস্তান্তর হয়। কিন্তু কাজ আর এগোচ্ছিল না। এবার নতুন সরকারের হাত ধরে ওই পরিত্যক্ত রানওয়েতে প্রাণ ফিরবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.