১২  আষাঢ়  ১৪২৯  মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

বাংলার দাঁতালদের শায়েস্তা করতে ১৫ কন্নড় কুনকি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 17, 2017 5:05 pm|    Updated: January 17, 2017 5:05 pm

Kannada Koonki to tame Bengal tuskers

ব্রতীন দাস: বাংলার ‘বেয়াড়া’ দাঁতালদের শায়েস্তা করতে কর্নাটক থেকে আনা হচ্ছে পনেরোটি কুনকি৷ চিকিৎসক, মাহুত-সহ বনকর্তাদের পাঁচজনের টিম ইতিমধ্যেই ওই কুনকিদের দেখে এসে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ দিয়েছে৷ এর পরই পাঠানো হয়েছে চুক্তিপত্র৷ কিছুদিনের মধ্যেই ওই কুনকিরা চলে আসবে বলে জানিয়েছেন বনমন্ত্রী বিনয় বর্মন৷

কন্নড় ভাষায় পাঠ নেওয়া ওই কুনকিরা এ-রাজ্যে পা রাখার পর ডুয়ার্সে হাতিদের ‘পাঠশালায়’ তাদের নতুন করে বাংলায় তালিম দেওয়া হবে বলে বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে৷ এজন্য তৈরি করা হয়েছে স্বল্পকালীন বিশেষ ‘পাঠ্যক্রম’৷ দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্তারা জানিয়েছেন, জলদাপাড়ার কাছে শীলতোর্সা এলাকায় ‘এলিফ্যান্ট ক্যাম্প’ করা হচ্ছে৷ সেখানেই রাখা হবে ওই পনেরো কুনকিকে৷ এখানকার মাহুতদের ভাষা শেখাতে তিনমাসের ট্রেনিং হবে তাদের৷

নতুন জায়গায় এসে যাতে ওই কুনকিরা কোনও বদমায়েশি না করে তা দেখতে কর্নাটক থেকে আসছেন সাতজন সিনিয়র মাহুত৷ এখানে কুনকিদের ট্রেনিং চলাকালীন তাঁরা থাকবেন বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) এন এস মুরলি৷

এদিকে, চলতি মাস থেকেই শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সাফারি চালু হতে চলেছে৷ কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে দু’টি বাঘ সেখানে চলে এসেছে৷ আরও দু’টি সাদা বাঘ আনার কথাবার্তা চলছে৷ তবে খাঁচায় নয়, এখানে জঙ্গলে ছাড়া থাকবে বাঘ৷ কাচ ঘেরা বাসে চড়ে তা দেখতে পাবেন পর্যটকরা৷ তবে শুধু সাফারি নয়, এখানে রয়্যাল বেঙ্গলের প্রজনন ঘটানো হবে বলে জানিয়েছেন বেঙ্গল সাফারি পার্কের অধিকর্তা অরুণ মুখোপাধ্যায়৷

রয়্যাল বেঙ্গলের পাশাপাশি আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে লেপার্ড সাফারি চালু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব৷ সেজন্য এখন জোরকদমে পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে৷ সেইসঙ্গে শিলিগুড়িতে মহানন্দা অভয়ারণ্যে ফিরতে চলেছে হাতি সাফারি৷

বর্তমানে শুধুমাত্র ডুয়ার্সের জলদাপাড়া ও গরুমারায় হাতির পিঠে সাফারি হয়ে থাকে৷ কিন্তু কুনকির সংখ্যা কম হওয়ায় পর্যটকদের অনেকেই হাতি সাফারির সুযোগ পান না৷ সেক্ষেত্রে শিলিগুড়িতে মহানন্দার জঙ্গলে হাতি সাফারি চালু হলে পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা এবার যাতায়াতের পথে হাতি সাফারির শখ মেটাতে পারবেন৷ পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেছেন, “বেশ কয়েক বছর আগে সুকনা থেকে মহানন্দায় হাতি সাফারি চালু হয়েছিল৷ কিন্তু কয়েকদিন তা চলার পরই বন্ধ হয়ে যায়৷ ফের মহানন্দায় হাতি সাফারি ফেরানো যায় কি না তা দেখা হচ্ছে৷ বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে৷” বনমন্ত্রী বলেছেন, শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কের পাশাপাশি চিতাবাঘ সাফারির ব্যবস্থা চালু হচেছ ডুয়ার্সের দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে৷ তেইশ হেক্টর এলাকায় ওই সাফারি পার্ক গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক সেরে ফেলেছেন বনমন্ত্রী৷ বলেছেন, দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রটি জৌলুস হারিয়ে ফেলায় পর্যটকদের আকর্ষণ কমেছে৷ সেখানে ফের যাতে পর্যটকরা ভিড় জমান, সেজন্যই লেপার্ড সাফারি পার্ক তৈরির কথা ভাবা হয়েছে৷

দক্ষিণ খয়েরবাড়ির জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে পাহাড়ি নদী৷ ওই নদীর পশ্চিম প্রান্তে চিতাবাঘ এবং পূর্বপ্রান্তে হরিণ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে খবর৷ এদিকে, ঘন ঘন লোকালয়ে চিতাবাঘের হানা ঠেকাতে জঙ্গলে খাবারের ব্যবস্থা করতে মহানন্দা অভয়ারণ্যে ১৮০ টি হরিণ ছাড়া হয়েছে৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে