Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৬ জুলাই ২০২৬

অভাবের তাড়নায় গঙ্গায় আত্মহত্যার চেষ্টা, পুলিশের উদ্যোগে বাঁচল ২টি প্রাণ

পুলিশের মানবিকে মুখে মুগ্ধ কাটোয়ার মানুষ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১২:২৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১২:২৩

options
link
অভাবের তাড়নায় গঙ্গায় আত্মহত্যার চেষ্টা, পুলিশের উদ্যোগে বাঁচল ২টি প্রাণ zoom

ধীমান রায়, কাটোয়া: একসময় সচ্ছল পরিবার ছিল। পরপর লোকসানের জেরে  পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তার উপর মেয়ে কঠিন রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার খরচ জুটছে না। কিন্তু আত্মসন্মানের খাতিরে পরিবারের কেউ কারও কাছে হাত পাততে পারেন না। দারিদ্রের জ্বালা সইতে না পেরে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন মা ও মেয়ে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হল। কাটোয়া থানার পুলিশ দাঁইহাটে গঙ্গার ঘাট থেকে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠাল।

[গল্প হলেও সত্যি, ২৪ ঘণ্টায় অপরাধের কিনারা করল কলকাতা পুলিশ]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে এখানেই শেষ হয়নি পুলিশের দায়িত্ব। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে কাটোয়া মহকুমা পুলিশ। মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে নতুন করে বাঁচার আশা দেখছে মন্তেশ্বর থানার বাঘাসন গ্রামের দাসপাড়ার নন্দী পরিবার। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে প্রতিদিনের মতো দাঁইহাটের ঘাটের কাছে টহল দিচ্ছিল কাটোয়া থানার পুলিশবাহিনী। সেসময় তাদের নজরে পড়ে এক প্রৌঢ়া ও তাঁর সঙ্গে এক যুবতী উদভ্রান্তের মতো ঘাটের কাছে ঘুরছেন। পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই দুজনকে বিধ্বস্ত অবস্থায় লাগছিল। পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দুই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখনই জানা যায় মা ও মেয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে আসে। নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিল। নৌকা ধরে মাঝ গঙ্গায় একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে ওঁদের আত্মহত্যার পরিকল্পনা ছিল।’’

[এক ছাদের নিচে এটিএম ও শৌচাগার, জোড়া সুবিধায় খুশি গ্রাহকরা]

পুলিশ জানিয়েছে ওই দুজনের নাম মমতা নন্দী (৫১) ও সীমা নন্দী (২২)। বাড়ি মন্তেশ্বর থানার বাঘাসন গ্রামের দাসপাড়ায়। মমতাদেবী জানান, তাঁর স্বামী রাইচরণ নন্দীর (৫৮) একসময় লেদ মেশিনের ব্যবসা ছিল। ব্যবসায় পরপর ক্ষতি মুখে পড়ে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন রাইচরণবাবু। ব্যবসায় ঝাঁপ পড়ার পর তিনি অন্য এক ব্যবসায়ীর কাছে কাজে লাগেন। কিন্তু তাতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই অবস্থায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাদের কার্যত অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে। মমতাদেবী ও রাইচরণবাবুর দুটি মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট মেয়ে সীমা বিএ পাশ। তবে সীমা অনেকদিন ধরে পেটের কঠিন অসুখে ভুগছে। মমতাদেবীর কথায়, একদিকে সংসার চলছে না। তার উপর মেয়ের ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। মা হয়ে  এ আর সহ্য করা যায় না। তাই মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে মা ও মেয়ে শুক্রবার বিকেলে বাস ধরে বাঘাসন থেকে দাঁইহাটে যান। ঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষায়  ছিলেন।  কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হতেই তাঁরা ধরা পড়ে যান।

[জামাইয়ের শখ জানেন, বিরাটকে অন্যরকম উপহার শ্বশুরের]

শুক্রবার রাতে দাঁইহাট থেকে উদ্ধার করে কাটোয়া থানায় দুজনকে আনা হয়। প্রথমে তাদের যত্ন করে খাওয়ানো হয়। তারপর বাড়িতে যোগাযোগ করে রাতেই বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মমতাদেবীকে আশ্বাস দিয়েছেন তাদের সংসার চালানোর জন্য কিছু একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এই ভরসায় বুক বেধেছেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে যাওয়া মা ও মেয়ে।

ছবি: জয়ন্ত দাস

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.