ধীমান রায়, কাটোয়া: ‘জীবন কাহিনি’ ছবিতে অনুপ কুমারের চরিত্রের কথা মনে পড়ে। বারবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও নানা কারণে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন ওই অভিনেতা। কাটোয়াতেও যেন সেলুলয়েডেরর সঙ্গে মিশে গেল বাস্তব। সন্তানদের দুর্ব্যবহারে বেঁচে থাকার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন বহরমপুরের বাসিন্দা কল্পনা ঘোষ(৫৫)। কাটোয়ার গৌরাঙ্গবাড়ি আশ্রমে মহাপ্রভু দর্শন করে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়া। কিন্তু অক্ষত অবস্থায় প্রাণ বাঁচল তাঁর। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন গৌরাঙ্গই জলে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাচাঁন কল্পনা ঘোষের।

[তিন ছেলে পুলিশ অফিসার, তবুও ভিক্ষা করেন মা]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৭.১৫ নাগাদ কাটোয়া ফেরিঘাট থেকে একটি নৌকা যাচ্ছিল ওপারে বল্লভপাড়া ঘাটের দিকে। নৌকায় বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিল। ছিলেন দুজন মাঝি গৌরাঙ্গ রাজোয়া ও কাসু হালদার। যাত্রীরা জানান, নৌকাটি যখন নদীর মাঝামাঝি জায়গায় তখনই হঠাৎ নৌকা থেকে জলে ঝাঁপ দেন কল্পনাদেবী। যা দেখে একটি টিউব নিয়ে মাঝি গৌরাঙ্গ জলে ঝাঁপ দেন। তিনি কল্পনাদেবীকে টেনে ধরেন। আর এক মাঝি নৌকা দাঁড় করিয়ে কাছে নিয়ে যান। টেনে তোলা হয় ওই প্রৌঢ়াকে।
[মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসে বিনয় তামাংয়ের উত্থান, উধাও গুরুংরা]
পুলিশ জানায় বহরমপুর থেকে কাটোয়ায় এসে নদীতে ওই মহিলা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন মরতে যাচ্ছিলেন তিনি? জানা গিয়েছে, কল্পনা ঘোষের তিন ছেলে। স্বামী আগে ব্যবসা করতেন। বয়স বাড়ার কারণে বড় ছেলে বিশ্বরূপকে ব্যবসা ছেড়ে দেন। মেজ ছেলে ভগীরথ পৃথক ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে স্বরূপ একটি দোকানে কাজ করেন। তিন ভাইই পৃথকভাবে একই বাড়িতে থাকেন। স্বামী শম্ভুনাথ ও কল্পনাদেবী ওই বাড়িতেই থাকেন। কল্পনাদেবীর কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করে ছেলেদের বাড়ি লিখে দিই। কিন্তু কেউ আমাদের দেখে না। স্বামীর সামান্য কিছু টাকা আছে। তা থেকে যেটুকু মাসিক সুদ পাওয়া যায় তাতে পেট চলে না। একে অভাব, তার উপর ছেলে-বউমাদের দুর্ব্যবহারে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিই।’
[ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে যুবক খুন]
কল্পনাদেবী আরও জানান, তিনি স্বামীকে না জানিয়ে শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তারপর আসেন সালারে। সেখানে ট্রেনের তলায় মাথা দিয়ে মরার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু লোকজন থাকায় তা হয়নি। তারপর ট্রেনে চেপে কাটোয়ায় নামেন। কাটোয়াতেও সুযোগ হয়নি। জিআরপি দেখে কল্পনাদেবী চলে যান নবদ্বীপে। সেখানে নিরিবিলি জায়গা না পেয়ে সন্ধ্যায় ট্রেনে চেপে চলে যান ব্যান্ডেলে। কল্পনাদেবী বলেন, ব্যান্ডেলে স্টেশনে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ট্রেন এলেই চাকার তলায় গলা দিতাম। কিন্তু একটি ছেলে বুঝতে পেরে আমার কাছে চলে আসে। ছেলেটি আমাকে খাবার খাওয়ায়। তারপর অনেক বোঝায়। সে বাড়িতে ফেরার অনুরোধ করে রাতে ট্রেনে তুলে দেয়। তারপর গভীর রাতে কাটোয়া স্টেশনে আসি। কাটোয়া স্টেশনে বাকি রাত কাটিয়ে খুব সকালে গঙ্গার দিকে চলে যাই। প্রথমে তিনি গৌরাঙ্গবাড়ি আশ্রমে দেবতার দর্শন করেন। তারপর হেঁটে চলে যান ফেরিঘাটে। সেখানে নৌকা ধরে শেষবারের মতো চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝিদের তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পান তিনি। পুলিশের উদ্যোগে কল্পানাদেবীকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে।
ছবি: জয়ন্ত দাস
সর্বশেষ খবর
-
১৫০ অতিথি, পছন্দের মেনু, আমিরের তৃতীয় বিয়েতে আমন্ত্রিত বলিউডের কারা?
-
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য, গ্রেপ্তার ডিএমকে বিধায়ক, অশান্তি তামিলনাড়ুতে
-
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির চার্জশিটে নাম, আদালতে অনুপস্থিত মানিক, ক্ষুব্ধ আদালত
-
এবার উদয়ন গুহর বেআইনি নির্মাণেও বুলডোজার? মাপজোক করে কী নির্দেশ ভূমি সংস্কার দপ্তরের
-
ভুয়ো নথিতে ভিনরাজ্যের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেন সিএবি কর্তা! বিতর্কে কী সাফাই অভিযুক্তর?