বিক্রম রায়, কোচবিহার: কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। শপথগ্রহণের পরদিনই জানিয়েছিল, ভোটের সময় শীতলকুচিতে (Sitalkuchi) মৃত পাঁচজনের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতির ছ’দিনের মধ্যেই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। বুধবার রাতেই ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যদের হাতে নিয়োগ সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করেছেন কোচবিহারের জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়।
বুধবার কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকদের মাধ্যমে শীতলকুচি-কাণ্ডে নিহতদের পরিবারের একজনের হাতে স্পেশাল হোমগার্ডের নিয়োগ সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারও তাঁদের ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, নিয়োগ সংক্রান্ত আরও কিছু নথি জমা দেওয়ার আছে। উল্লেখ্য এদিনই শীতলকুচি যাচ্ছেন জগদীপ ধনকড়। তার এই সফর নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে বিবাদ চরমে উঠেছে।
আজ কোচবিহার ল্যান্সডাউন হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জেলাশাসক ও জেলা…
Posted by Partha Pratim Ray on Wednesday, 12 May 2021
প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল কোচবিহারে ভোটের দিন শীতলকুচি (Sitalkuchi) বিধানসভা এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরনোর সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে আনন্দর মৃত্যু হয়। তাঁকে দলীয় কর্মী বলে দাবি করে ‘গুলি করে খুনের’ অভিযোগে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলে বর্মন পরিবার এবং জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। দিন কয়েক পরে জোড়পাটকিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) আনন্দ-সহ জোড়পাটকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃতদের পরিবারকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি দফতরে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়ে ছেলের খুনের জন্য তৃণমূলকে দুষে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চাকরি নেবেন না বলে জানান আনন্দর মা বাসন্তী বর্মন। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ফের শপথগ্রহণের পরদিন বৃহস্পতিবারই শীতলকুচিতে গুলিতে মৃত পাঁচ জনের পরিবারেরই একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যরা কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই মাসখানেকের মাথায় কার্যত সুর বদলালেন সন্তানহারা সেই মা। আনন্দ বর্মনের মা বাসন্তী বর্মন এদিন বলেন, “আমরা পুরনো কোনও কথা ধরে রাখতে চাইছি না। মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দিচ্ছেন। সেই চাকরি আমরা নেব। তাঁর দেওয়া অর্থসাহায্যও গ্রহণ করব।” এর দিন কয়েকের মধ্যেই ওই পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।
নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন