BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বাংলার মানচিত্রে ফিরে এল ‘মারাত্মক’ শঙ্খচূড়

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 21, 2016 1:01 pm|    Updated: June 21, 2016 1:03 pm

An Images

গৌতম ব্রহ্ম: এক ছোবলে হাতি মারতে পারে৷ গিলে ফেলতে পারে বাছুর৷ এতটাই ভয়ঙ্কর শঙ্খচূড়৷ কেউটে প্রজাতির এই রাজা হারিয়ে গিয়েছিল বাংলার মাটি থেকে৷ দীর্ঘদিন দেখা মিলছিল না৷ বাংলার সর্পবিশারদরা শোকপালন শুরু করেছিলেন৷
অবশেষে বাংলার মানচিত্রে নাটকীয়ভাবে ফিরে এল ‘কিং কোবরা’ বা শঙ্খচূড়৷ আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতা অঞ্চলে৷ বিষও ঢালল৷ যদিও বিশ্বের সবথেকে বিষাক্ত সাপের ছোবল খেয়েও বেঁচে গেলেন এক পানচাষি৷
ঘটনার সূত্রপাত ১৪ জুন বিকেলে৷ বাড়ির পাশে পানের বরজে কাজ করছিলেন সুকুমার দাস৷ সন্ধ্যা নামছে৷ এমন সময় বাঁ পায়ের পাতায় ছোবল মারে শঙ্খচূড়৷ তারপরই ক্ষীপ্র গতিতে ঢুকে যায় একটি মরা সুপুরি গাছের কোঠরে৷ ৫৫ বছরের সুকুমারবাবু কোনওক্রমে টলতে টলতে বাড়িতে আসেন৷ সময় নষ্ট করেননি বাড়ির লোকজন৷ ছেলে সুজয় দাস জানান, বাবাকে মিনিট কুড়ির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে৷
সর্পাঘাতের ক্ষতস্থান দেখে আঁতকে ওঠেন মেডিক্যাল অফিসার পার্থপ্রতিম দাস৷ বুঝতে পারেন, এ যেমন-তেমন সাপ নয়৷ এ সাপের প্রতিষেধক নেই৷ তবু, প্রোটোকল মেনে চিকিৎসা শুরু করেন৷ প্রথমে দশ ভায়াল, তারপর আরও কুড়ি ভায়াল এভিএস দেওয়া হয়৷ ১৫ জুন সকালে চোখ মেলে তাকায় রোগী৷ কিন্তু বিকেলে ফের অবনতি হয় শারীরিক অবস্থার৷ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় সুকুমারবাবুর৷ শুরু হয় যমে-মানুষে টানাটানি৷ সুকুমারবাবুকে সিসিইউ-তে নিয়ে যাওয়া হয়৷ দেওয়া হয় আরও ৭০ ভায়াল এভিএস৷ পার্থবাবু জানিয়েছেন, সিসিইউ-তে রাখা হলেও সুকুমারবাবু এখন সঙ্কটমুক্ত৷ দু’দিন পর্যবেক্ষণে রেখে ছুটি দেওয়া হবে৷

shankhachur1_webএ দিন শঙ্খচূড়ের দেখা পাওয়া, ছোবল, সর্পাঘাত থেকে রোগীকে বাঁচিয়ে তোলা– এই সব নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে সর্পবিশেষজ্ঞ মহলে৷ সাপের চিকিৎসার প্রশিক্ষক ডা. দয়ালবন্ধু মজুমদার জানিয়েছেন, শঙ্খচূড় অত্যন্ত বিরল৷ বাংলা থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছিল৷ যদিও কালচিনিতে সম্প্রতি জোড়া শঙ্খচূড়ের দেখা মেলে৷ কিন্তু, এবার তো একেবারে দংশন!যদিও বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ সাপের বিষ নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্টনি গোমেজ বলেন, ‘‘আগে উত্তরবঙ্গে দেখা মিলত শঙ্খচূড়ের৷ পুরুলিয়ার জঙ্গলেও ছিল৷ এখন শুধু অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেখা মেলে৷ এই শঙ্খচূড়টি সম্ভবত জয়ন্তী পাহাড় থেকে এসেছে৷’’ যদিও এভিএস দিয়ে শঙ্কচূড়-দংশনের মোকাবিলা করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক গোমেজ৷ জানিয়েছেন, “আমার সংগ্রহে শঙ্খচূড়ের বিষ রয়েছে৷ আমি জানি এভিএস তৈরিতে এই বিষ ব্যবহার হয় না৷ কেউটে, গোখরো, কালাচ, চন্দ্রবোড়ার বিষ ব্যবহার হয়৷ কী করে কাজ করল বুঝতে পারছি না৷” বিস্মিত চিকিৎসকরাও৷ তাঁরা সাপের প্রজাতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ যদিও পার্থবাবু বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, শঙ্খচূরই দংশন করেছে সুকুমারবাবুকে৷ঘটনাটি এতটাই নাড়া দিয়েছে যে, সর্পবিশারদরা দফায় দফায় গিয়ে সুকুমারবাবুকে দেখে আসছেন৷ দয়ালবন্ধুবাবু জানিয়েছেন, শঙ্খচূড় কেউটেরই প্রজাতি৷ বিষের প্রকৃতিও প্রায় এক৷ তবে পরিমাণ অনেক বেশি৷ মেডিক্যাল জার্নাল ‘জিমা’-র ২০০৭ সালের জুন সংখ্যায় বলা হয়েছে, ‘কিং কোবরা’-র দংশনের চিকিৎসায় ১০০ বা তার বেশি ভায়াল এভিএস ব্যবহার করা যেতে পারে৷ সেই গাইডলাইন অনুসরণ করেই আলিপুরদুয়ারে সফল হয়েছেন পার্থ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement