Advertisement
Advertisement
Fake CID

দেবাঞ্জন কাণ্ডের ছায়া! ভুয়ো CID পরিচয় দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত মহিলা

ইতিমধ্যেই মহিলার বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Krishnanagar Woman accused of fraud as a CID officer | Sangbad Pratidin
Published by: Suparna Majumder
  • Posted:July 5, 2021 10:18 pm
  • Updated:July 5, 2021 10:18 pm

বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: ভুয়ো IAS অফিসারের পর এবার ভুয়ো CID আধিকারিক। করোনা (Corona Virus) পরিস্থিতিতে সমাজসেবী ও সিআইডির DSP পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। যদিও এর পিছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। ইতিমধ্যেই ওই মহিলার নামে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই মহিলার নাম রাধারানি বিশ্বাস। তাঁর বাড়ি কৃষ্ণনগর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালপোতার জে কে সাহা লেন এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা মুনমুন খাতুন নামে একজন মহিলা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, রাধারানি বিশ্বাস নিজেকে সমাজসেবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আছে বলেও দাবি করেছিলেন। প্রাথমিক স্কুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে রাধারানি তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মুনমুন খাতুন। যদিও সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

Advertisement

তবে গৌরব চট্টোপাধ্যায় নামে একজনের অভিযোগ, করোনা কালে বহু মানুষকে খাবারের সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছিলেন রাধারানি বিশ্বাস। নিজেকে সিআইডির ডিএসপি বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন। গৌরবের কথায়, “আমাকেও স্বাস্থ্য দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারিত করেছেন। বগুলা হাসপাতালে মেডিক্যাল করিয়ে আমাকে নিয়োগপত্র পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরে জানতে পারি ওনার ই-মেল আইডি এবং নিয়োগপত্র সবটাই ভুয়ো। আমি জানতে পেরেছি, উনি বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে এইভাবে টাকা-পয়সা নিয়ে প্রতারণা করেছেন। আমিও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: দুর্ঘটনার কবলে রাজ্যের মন্ত্রী, গাড়ির চাকা ফেটে বিপত্তি]

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন স্থানীয় কাউন্সিলর অর্পিতা চক্রবর্তীর স্বামী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “আমাদের দলের বড় বড় নেতার সঙ্গে রাধারানি বিশ্বাসের পরিচয় রয়েছে। প্রচুর মানুষকে উনি সাহায্য করেছেন। উনি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। তবে উনি একটি বিশাল নতুন বাড়ি করছেন। আমার কাছে খবর রয়েছে, ইতিমধ্যে উনি ১৭ জনকে প্রতারণা করেছেন। শুধু তাই নয়, উনি আরও অনেককেই প্রতারণা করেছেন, যাঁদের কথা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ওনার ব্যবহৃত ই-মেল আইডি এবং নিয়োগপত্র্র সবটাই ভুয়ো।” যদিও এই ঘটনার পেছনে তৃণমূলেরই একটা অংশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শিবনাথ চৌধুরীর বক্তব্য, “রাধারানি বিশ্বাসের নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। কোভিড (COVID-19) পরিস্থিতিতে উনি প্রচুর মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ওনাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। তা থেকেই উনি দানধ্যান করেন। কিন্তু আমাদের দলের একটি গোষ্ঠী তাঁর কাছে সাহায্যের জন্য একটা বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছিল। তিনি দিতে রাজি না হওয়ার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।” রাধারানি বিশ্বাসের মেয়ে তিয়াশা বিশ্বাস তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যে বলে জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাধারানি বিশ্বাস ও তার স্বামী নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের নামে প্রতারণা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত রাধারানি বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদও করছে।

[আরও পড়ুন: দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের দ্রুত ট্যাব পাইয়ে দিতে ব্যাংক নথি জমার সময় বেঁধে দিল শিক্ষাদপ্তর]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ