Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৭ জুলাই ২০২৬

গণধর্ষণ কাণ্ডে আদিবাসীদের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ কুশমণ্ডি

পোড়ানো হল অভিযুক্ত ও তার আত্মীয়দের বাড়ি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮, ১৯:২৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮, ১৯:২৮

options
link
গণধর্ষণ কাণ্ডে আদিবাসীদের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ কুশমণ্ডি zoom

রাজা দাস, বালুরঘাট: রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে দুই মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে মাসকয়েক আগেই রায়গঞ্জ শহর জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল আদিবাসীরা। সেই ঘটনারই ছায়া এবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে। মহিলাকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে অভিযুক্তদের বাড়িতে আদিবাসীদের আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল কুশমণ্ডির দেহাবন্ধ এলাকা। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে ধৃত রামপ্রবেশ শর্মার বাড়ি। আরও একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে কুশমণ্ডি থানার পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আদিবাসীদের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে তাঁদের বক্তব্য, বারবার আদিবাসী সম্প্রদায়ের তরুণী-মহিলারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তার প্রতিবাদ জানাতেই এদিন তাঁরা জড়ো হন। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় এখনও এলাকায় পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় আরেক অভিযুক্তের বাড়ি ইটাহার এলাকায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন গেলেও পুলিশের বাধায় সেখানে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যায়নি।

[কুশমণ্ডি ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও এক, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নির্যাতিতার]

জানা গিয়েছে, আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে দেহাবন্ধ গ্রামের রামপ্রবেশ শর্মা এবং উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের আন্ধারু বর্মন নামে দুই অভিযুক্ত। শুক্রবার গণধর্ষণের প্রতিবাদে সরব হয় জেলার বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আদিবাসীরা তির ধনুক নিয়ে জমায়েত হন দেহাবন্ধের ঘাটপাড়া এলাকায়। প্রায় ৩০টি গাড়ি করে পাঁচ শতাধিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর পুলিশের সামনেই ধৃত রামপ্রবেশ শর্মা ও তার অন্যান্য আত্মীয়ের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ৪টি বাড়ি, দুটি কাঠের গুদামে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভাঙচুর চালানো হয় একাধিক বাড়িতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দমকল ও পুলিশ। ঘণ্টা দেড়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে সব কিছু পুলিশের সামনে ঘটলেও কার্যত দর্শকের ভূমিকা পালন করে পুলিশ। ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকে ওই এলাকায়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। রয়েছে কমব্যাট ফোর্স। আক্রান্ত পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

‘নির্ভয়ার জন্য প্রতিবাদ হলে, কুশমণ্ডির নিগৃহীতার জন্য কেন নয়?’

ঘটনাস্থলে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিপুল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুশমণ্ডি থানার আইসি শ্যামল বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ওয়াং জেন ভুটিয়া-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয় কুশমন্ডির থানার দেহাবন্দের ঘাটপাড়া এলাকায়। ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হয় সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের। দুপুর থেকে বিকেল অবধি ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কাউকেই। এমনকী, ছবি তুলতেও বাধা দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে এ বিষয়ে জেলা পুলিশ আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি।

[ফিরল নির্ভয়া স্মৃতি, ধর্ষণের পর আদিবাসী তরুণীর উপর নারকীয় অত্যাচার]

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে দেহাবন্ধের ওই মহিলা উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের পতিরাজপুরে মেলায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমে দেহাবন্ধ থেকে রামপ্রবেশ শর্মা (৪৫) এবং ইটাহার থেকে আন্ধারু বর্মন (৫০) নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে মালদহ মেডিক্যালে চিকিৎসা চলছে ওই তরুণীর।

ছবি- রতন দে

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.