নিজস্ব সংবাদদাতা: এক বসত বাড়ির জিনিসপত্র সাফ করে গা ঢাকা দিয়েছিল চোর। পালটা ওই চোরের মন চুরি করে তাকে ফাঁদে ফেলল পুলিশ। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে এক মহিলা পুলিশ। সেই মহিলা পুলিশের প্রেমের টোপে পা দিয়ে শেষ পর্যন্ত হাজতবাস হল চুরির দায়ে অভিযুক্ত বছর ছাব্বিশের ওই যুবক আবদুল মণ্ডলের। উদ্ধার হল চুরি যাওয়া সোনার গয়না, মোবাইল-সহ অন্যান্য জিনিস। থানার লক আপে বসে এখন হয়তো সেই প্রবাদ বাক্যটিই মনে পড়েছ ওই যুবকের, “সব কোরো, প্রেম কোরো না!”
ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানা এলাকার। আগস্ট মাসের এগারো তারিখ বনগাঁ পূর্বপাড়ার রিনা মণ্ডলের বাড়িতে সিঁধ কাটে চোর। এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে ফিরে তিনি দেখেন, আলমারি ভেঙে সোনার গয়না, নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোর। সঙ্গে একটি মোবাইল ফোনও খোয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। চোরের সন্ধানে নামে পুলিশও। তবে পুলিশেরই একাংশ বলেন, ডাকাত ধরার চেয়ে ছিঁচকে চোর ধরা নাকি ঢের কঠিন। তবে এক্ষেত্রে চোর ধরার একটা সূত্র ছিল। সেটি হল, রিনাদেবীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মোবাইলটি। তাই সেটিকেই ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ।
[বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে সিআইডির নোটিস ঋতব্রতকে]
এই চুরির ঘটনার তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ দল তৈরি করেন বনগাঁ থানার আইসি। অবশেষে মাসখানেক আগে সন্ধান মেলে চুরি যাওয়া মোবাইলটির। সেটি ট্র্যাক করে পুলিশ তার নম্বরটি জানতে পারে। তারপরই নাটকীয় মোড় নেয় গোটা ঘটনা। ওই চোরকে বাগে আনতে প্রেমের টোপ দেয় পুলিশ। বনগাঁ থানা সূত্রে খবর, এক মহিলা কনস্টেবল নিজের পরিচয় গোপন করে ওই চোরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রায় এক মাস তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবক আবদুলও নিজের পরিচয় গোপন রেখে ওই পুলিশকর্মীর সঙ্গে খোসমেজাজে গল্প চালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আবদুলকে প্রেমের জালে জড়িয়ে নেন ওই পুলিশকর্মী। মঙ্গলবার আবদুলকে দেখা করতে বলেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার লেডি কনস্টেবলের কথামতো বনগাঁ স্টেশনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে আবদুল। সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার থেকে রিনাদেবীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মোবাইলটিও উদ্ধার হয়। গ্রেফতারির পর চুরির কথা স্বীকার করে আবদুল।” ধৃতকে জেরা করে চুরি যাওয়া গয়নারও সন্ধান পায় পুলিশ। আবদুল জানায়, বনগাঁ স্টেশন সংলগ্ন একটি সোনার দোকানে সেগুলি বিক্রি করেছিল সে। চুরি জিনিস কেনার দায়ে ওই দোকানের মালিক গৌরাঙ্গ সূত্রধরকেও গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেপাজতে নেয় পুলিশ। জেলার পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলায় সাফল্যের জন্য ওই মহিলা কনস্টেবলকে পুরস্কৃত করা হবে।
[ফেসবুকে ধর্ষণের হুমকি, পুলিশের জালে সল্টলেকের যুবক]
সর্বশেষ খবর
-
ডিজে মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক, সই জাল মামলায় কী জানাল হাই কোর্ট?
-
১১ বছর ধরে শরীরে রোগ পুষছেন দিলজিৎ, করছেন না অস্ত্রোপচারও! কেন উদাসীন অভিনেতা?
-
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে কেপ ভার্দের অধিনায়কের ধর্ষণ-কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন, কী পদক্ষেপ ফিফার?
-
ডে-কেয়ারেও শিশুদের উপর নির্যাতন! নিশ্চিন্তি কোথায়?
-
যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ‘জিরো ইয়ার’, ব্যাপারটা কী?