ব্রতদীপ ভট্টাচার্য: বাদুড়িয়া ও বসিরহাটে অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিক রিপোর্টে এমনই দাবি করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-এর। সূত্রের খবর, এনআইএ যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে। এলাকার কিছু মানুষ সেই দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দিয়েছে। এই রিপোর্টে তাঁরা এটাও দাবি করেছেন যে, বাদুড়িয়া ও বসিরহাটের অশান্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কালিয়াচকের ঘটনার। আর গোটা গণ্ডগোলের পিছনে হাত রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবারও। এনআইএ-এর এই রিপোর্টের পরই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
[১২ ঘণ্টা দামোদরে ভেসেও বাঁচলেন বৃদ্ধা]
গোয়েন্দাদের এই রিপোর্টের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বহিরাগতরা তবে কারা? রাজ্যের গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলাটি সংগঠিত করেছে একটি দেশবিরোধী, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই বিতর্কিত পোস্টের বিরুদ্ধে এক সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে টানা তিনদিন বাদুড়িয়া ও বসিরহাট এলাকায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল তারা। স্থানীয় মানুষকে উসকানোর পাশাপাশি, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা, গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া মূলত তাদেরই কাজ। তাদের সঙ্গে ভিড়ে গিয়েছিল এলাকার কিছু গরু পাচারকারী এবং চোরাচালানকারীও। আর এই কাজে তাদের সরাসরি মদত দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। যেভাবে হামলা হয়েছে এবং গন্ডগোলের ছবি আর জেহাদি বক্তব্য সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা দেখে এমনই ধারণা করছেন রাজ্যের এবং কেন্দ্রের গোয়েন্দারা।
[মধুচক্রের ফাঁদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ঘনিষ্ঠ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা]
বাদুড়িয়ার রুদ্রপুর এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ফেসবুকের ওই বিতর্কিত পোস্টের প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদল অচেনা যুবক অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসে পুলিশের উপর আক্রমণ শুরু করে। পোস্টটি যে যুবক করেছিল তার বাড়িতে আগুন ধড়িয়ে দেওয়া হয়। পর পর পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এখানেই থামেনি দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। এরপর একের পর এক বাড়ি ভাঙা হয়। তাঁদের দাবি, ওই হামলাকারীদের বয়স খুব জোর ১৬ থেকে ২২ বছর। মালবাহী গাড়ি বা মোটরবাইকে চেপে এসে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা। একই বক্তব্য বসিরহাটবাসীরও। হরিশপুর এলাকার এক গৃহকর্তার দাবি, “৪ এবং ৫ জুলাই লাগাতার হামলা চলেছে। সব ছোট ছোট ছেলে। বয়স ১৬ থেকে ২০ হবে। কারও মুখ চিনি না। ধারালো অস্ত্র, বোমা, বন্দুক নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে তারা।”
[রাখিবন্ধনেও ছোঁয়া স্বচ্ছ ভারতের, বোনদের জন্য ভাইদের উপহার শৌচালয়]
রাজ্যের গোয়েন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময়ে এই নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের ঘাঁটি ছিল বাদুড়িয়া। এছাড়া হাড়োয়া, মিনাখাঁ ও ঘোড়ারাস এলাকায় এই সংগঠনের ব্যাপক প্রভাব ছিল। গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানের টাকায় এই সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে বেশ কিছু অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলি একটিও সরকারের খাতায় নথিভুক্ত নয়। এগুলিতেই ঘাঁটি ওই সংগঠনের। বাদুড়িয়া বসিরহাটে যে ১৬ থেকে ২২ বছরের হামলাকারীদের কথা শোনা যাচ্ছে, তারা এই ঘাঁটিগুলি থেকেই এসেছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
[ছোট প্যান্ট পরতে পারবে না ছেলেরা, নিদান খাপ পঞ্চায়েতের]
সর্বশেষ খবর
-
অনুপ্রবেশ নিয়ে শীঘ্রই কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, বঙ্গে আসছে জনবিন্যাস কমিটি
-
শাস্ত্রীর ভুল থেকে অভিষেকের বিশ্বরেকর্ড, শিরোনামে ভারত-ইংল্যান্ড টি-২০, জয়ের অপেক্ষা বাড়ল শ্রেয়সের
-
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ভ্রুকূটি! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, জারি ফিশারম্যান অ্যালার্ট!
-
‘নিজেকে বলিউডের বাপ ভাবলেই প্রভাব খাটানো যায় না’, সলমনকে চ্যালেঞ্জ প্রযোজকের
-
পাকিস্তানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ১২৫ বছরের গুরুদ্বার! তুঙ্গে বিতর্ক, কড়া নিন্দা ভারতের