Advertisement
Advertisement

উৎসবের মহাভোজে চিতাবাঘের মাংস!

ইতিমধ্যেই বাঘ শিকারের ঘটনায় জড়িত তিনজনের নাম জানতে পেরেছে বনদফতর৷

Leopard's meat is used for new year celebration!
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:January 3, 2017 12:36 pm
  • Updated:January 3, 2017 12:36 pm

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শুকর, হরিণ, বুনো খরগোশের কথা শোনা যেত৷ এবার উৎসবের বলি হল বনের চিতাবাঘ৷ চিতাবাঘ মেরে মহাভোজের আয়োজন৷ শেষ মুহূর্তে খবর পেয়ে যা ভেস্তে দিল বনদফতর৷ উদ্ধার হয়েছে চামড়া৷ তবে পাওয়া যায়নি হাড় আর মাংস৷ যা খুঁজে পেতে জলদাপাড়া থেকে আনা হচ্ছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর৷ ইতিমধ্যেই বাঘ শিকারের ঘটনায় জড়িত তিনজনের নাম জানতে পেরেছে বনদফতর৷ তাদের ধরতে বিভিন্ন্ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে৷ একাজে বানারহাট থানার পুলিশেরও সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বনাধিকারিক বিদ্যুত্‍ সরকার জানিয়েছেন৷

ঘটনাস্থল ডুয়ার্সের হলদিবাড়ি চা বাগান৷ রবিবার সন্ধ্যায় মরাঘাটরেঞ্জের বনকর্মীরা জানতে পারেন, বাঘ শিকারের ঘটনা ঘটেছে চা বাগানে৷ মৃত বাঘের চামড়া ছাড়িয়ে মাংস দিয়ে রাতে বর্ষবরণের মোচ্ছবের প্রস্তুতি চলছে৷ খবর পেয়ে আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি রেঞ্জের কর্মীরা৷ রেঞ্জ অফিসার অজয় ঘোষ জানান, ততক্ষণে কাটাকাটি শেষ৷ বাগানে বনকর্মীদের দেখতে পেয়ে চামড়া ফেলে মাংস নিয়ে উধাও দুষ্কৃতীরা৷ লেজ থেকে মাথা পর্যন্ত সাতফুট লম্বা পুরুষ চিতাবাঘের চামড়াটি উদ্ধার হলেও রাতভর অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি হাড় ও মাংস৷

Advertisement

হলদিবাড়ি চা বাগানের পাশেই মরাঘাটের জঙ্গল৷ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বনকর্মীরা জানতে পারেন এদিন দুপুরেই ফাঁদ পেতে ধরা হয় বাঘটিকে৷ তারপর সেটিকে মেরে, কেটে রাতে ভোজের পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতীদের৷ কিন্তু আগেভাগে খবর পেয়ে বনকর্মীরা পৌঁছে যাওয়ায় চামড়া ফেলে মাংসটুকু নিয়েই পালিয়ে যায় তারা৷ তবে সোমবার রাত পর্যন্ত সেই মাংসের হদিশ পাননি বনকর্মীরা৷ বনকর্তাদের দাবি, যেভাবে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়েছে, তাতে সম্ভবত ইচ্ছে থাকলেও সেই মাংস সাবাড় করতে পারেনি দুষ্কৃতীরা৷ হয়তো কোথাও লুকিয়ে রেখেছে তারা৷ লুকনো সেই মাংস খুঁজে পেতে জলদাপাড়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরকে নিয়ে আসার কথা ভাবা হচেছ বলে বনাধিকারিক বিদ্যুত্‍ সরকার জানিয়েছেন৷

Advertisement

উৎসবের মরশুমে ডুয়ার্সের জঙ্গল ও সংলগ্ন লোকালয়ে বন্যপ্রাণী মেরে ভোজ খাওয়ার ঘটনা নতুন নয়৷ হোলি উৎসবের আগে শিকার রুখতে বাড়ানো হয় নজরদারি৷ তবুও বিভিন্ন সময় শূকর, হরিণ, বুনো খরগোশ শিকারের ঘটনা নজরে পড়ে বনকর্মীদের৷ গত ২৯ তারিখ একটি বুনো শুকরকে শিকার করেন ডুয়ার্সের মেলা বস্তির বেশ কয়েকজন মানুষ৷ ঘটনায় তিনজনের নামে অভিযোগ দায়ের হয় বানারহাট থানায়৷ গত ৩১ তারিখ বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের খেড়িপাড়া বনবস্তিতে শকুন শিকারের ঘটনা ঘটে৷ এবং নতুন বছর শুরুর দিনেই বাঘ শিকারের ঘটনায় রীতিমতো বিব্রত বনদফতর৷ বনাধিকারিক, বিদ্যুত্‍ সরকার জানান, অভিযুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না৷ এখনও পর্যন্ত তিনজনের নাম জানতে পেরেছেন তাঁরা৷ বাঘের মাংস-সহ ফেরার তিনজনের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ