অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। প্রায় দু’বছর ধরে নানা টানাপোড়েনের পর একেবারে জোড়া চিতা বাঘ পা রাখতে চলেছে পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে সুরুলিয়া মিনি জু’তে। দোল-হোলির মরশুমেই ওই মিনি চিড়িয়াখানায় জোড়া চিতা বাঘ দর্শন করতে পারবেন বনমহল পুরুলিয়া-সহ এই জেলায় আসা বিপুল সংখ্যক পর্যটকরা। সম্প্রতি এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটি। চলতি সপ্তাহে ওই টিমের সদস্যরা মিনি চিড়িয়াখানার লেপার্ড বা চিতাবাঘের নাইট শেল্টার, এনক্লোজার-সহ সমস্ত খুঁটিনাটি ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন:
তবে ওই চিড়িয়াখানায় স্থায়ীভাবে চিতাবাঘের বসবাসে পরিকাঠামোগত দিক থেকে কিছু বদল প্রয়োজন। সেই বদল-সহ কারিগরি পরামর্শ রিপোর্ট আকারে আসার পরেই জোড়া চিতার উপযুক্ত বাসস্থানে কাজ শুরু করবে এই মিনি জু’র দায়িত্বে থাকা কংসাবতী উত্তর বনবিভাগ। তাদের আশা, ১৫ দিনের মধ্যে সেই কাজ তারা শেষ করে ফেলবেন। ফলে উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে ফেব্রুয়ারিতে ওই জোড়া চিতা পা রাখা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের ডিএফও মুদিত কুমারের কথায়, “চিতাবাঘ আসার সবুজ সংকেত মিলেছে। খুব শীঘ্রই সুরুলিয়া মিনি জু’তে আসবে।” ওই জোড়া চিতাবাঘের মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি পুরুষ ও একটি মাদী চিতা বাঘ থাকছে। এই চিতাবাঘের পর আসবে একটি নেকড়ে। তারপর আবার নতুন করে এই চিড়িয়াখানায় নতুন অতিথিদের জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি হবে।
উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাধারণভাবে অসুস্থ বা সদ্য উদ্ধার হওয়া চিতাবাঘদের রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের চিড়িয়াখানা কিংবা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়ে থাকে। বছর দুয়েক আগে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সুরুলিয়ার মিনি জু’তে একটি চিতাবাঘ পাঠানো হবে। সেই অনুযায়ী, বেঙ্গল সাফারি থেকে চিতাবাঘ ‘জ্যাকি’কে সুরুলিয়ায় নিয়ে আসার প্রাথমিক কথাবার্তা হয়। কিন্তু তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। কোন কোন জোড়া চিতাবাঘ সুরুলিয়ায় পা রাখবে, সেটা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বছর দুইয়ের বেশি সময়ের আগে এই মিনি জু’তে চিতাবাঘের পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু আসবে আসবে করে আর সে আসে না! ফলে এই চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা চিতা বাঘের বোর্ড ও এনক্লোজার দেখে হতাশ হন। নানা সমালোচনাতেও পড়ে জু কর্তৃপক্ষ। ফলে চিতাবাঘের বোর্ড এখন সবুজ চট দিয়ে ঢাকা।

তবে ওই ছবি শীঘ্রই বদলে যাবে। চিতাবাঘের ওই এনক্লোজারে রয়েছে তার জলকেলির ব্যবস্থা ওয়ালো পুল। সেই সঙ্গে জল খাওয়ার ব্যবস্থা, দুটি আচ্ছাদন। যেহেতু চিতাবাঘ গাছের মগডালে বসে তাই কৃত্তিম ভাবে গাছের ডালও তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই চিড়িয়াখানায়। চিতাবাঘের বংশবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে চারটি নাইট শেল্টার করা হয়েছে। চিতাবাঘ দর্শনে দর্শকদের যাতে কোনওরকম ঝুঁকি না থাকে, তার জন্য দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। কিন্তু এই বলয় থাকলেও দর্শনে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেই কাজ এখনও চলছে।
সর্বশেষ খবর
-
যুদ্ধের জেরে সংকটে দেশের অর্থনীতি! বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বড় পদক্ষেপ মোদি সরকারের
-
ধর্ষণের পর গলায় লেগিংস পেঁচিয়ে খুন! দিনহাটার পাটক্ষেতে উদ্ধার নাবালিকার দেহ, ক্ষোভ গ্রামবাসীদের
-
‘সিস্টেম সঙ্গে নেই, এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না মোদি’, বিস্ফোরক দাবি রাহুলের
-
আগামী সপ্তাহেই ‘অপারেশন লোটাস’! ভাঙার অপেক্ষায় তৃণমূলের সংসদীয় দলও, তালিকায় কারা?
-
হাজিরা দিলেই গ্রেপ্তারির আশঙ্কা, মেসি কাণ্ডে সমন এড়ালেন ‘অসুস্থ’ অরূপ বিশ্বাস, ক্ষুব্ধ শতদ্রু