বিজেপি সরকারের আচরণে স্তম্ভিত এবং দুঃখিত: মমতা
মমতা বলেন, "বিজেপি সরকারের আচরণে স্তম্ভিত এবং দুঃখিত। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বিজেপিকে তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, একমাসও হয়নি ওরা ক্ষমতায় এসেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাতে ভর্তি করা না হয় সেজন্য ওরা সব হাসপাতাল এবং নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে।" তৃণমূল নেত্রীর দাবি, আমার সামনে ডিজি ফোন করেছিলেন।
চাপ রয়েছে, দাবি তৃণমূলের
আঘাত গুরুতর নয়! তাই বাইপাসের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তিতে 'নারাজ' মিন্টো পার্কের নামী বেসরকারি হাসপাতালও। কুণাল ঘোষ জানান, ওই হাসপাতালের আইটিইউ-তে ভর্তি করানো হয়েছে অভিষেককে। কিন্তু এই হাসপাতালের উপরেও চাপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ-প্রশাসন চাপ তৈরি করছে। বিজেপির নির্দেশেই এমনটা হচ্ছে।
কেমন আছেন অভিষেক, জানালেন শোভন
সোনারপুরে প্রবল জনরোষে পড়ে কেমন কেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জানালেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। মিন্টো পার্কে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "আমি কোনও রাজনৈতিক কথা বলব না। অভিষেককে আমি জন্মাতে দেখেছি। মমতাদির পাশে বড় হয়েছি। অভিষেকের মাথায় একটু চোট আছে। বিভিন্ন জায়গায় চোট আছে। ও বলছে গা বমি ভাব আছে। চিকিৎসা হলে, চিকিৎসকেরা এ বিষয়ে সঠিক ভাবে বলতে পারবেন।"
অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে বেরলেন মমতা
অ্যাপোলো থেকে বের করা হল অভিষেককে। জানা গিয়েছে, অভিষেকের ঘাড়-পিঠ-কোমড়ে ব্যথা রয়েছে। নিজের গাড়িতেই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বেলভিউ হাসপাতালে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, "এখানে ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না। অন্য হাসপাতালে শিফট করছি।" মমতার গাড়িতেই অভিষেকের পাশে বসে শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।
হাসপাতালে অভিষেক
সোনারপুর থেকে ফেরার পথে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নামিয়ে হুইলচেয়ারে বসিয়ে হাসপাতালে ঢোকানো হল অভিষেককে। হাসপাতালের পৌঁছলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গিয়েছেন অভিষেকের মা-ও। হাসপাতালে ডেরেক ও'ব্রায়েন, শোভন চট্টোপাধ্যায়। অনেকদিন পর তৃণমূলের এত কাছাকাছি দেখা গেল শোভনকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি।
অভিষেকের উপর হামলা, নিন্দা খাড়গে-অখিলেশের
সোনারপুরের কামরাবাঁধে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁরা অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার দিন্দা জানান। অখিলেশ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে।
কী বললেন কুণাল-কৌস্তভ?
দলের অন্যতম মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘‘এটা প্রতিবাদ দেখানোর কোনও অংশ হতে পারে না। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নিহত কর্মীর বাড়িতে যাচ্ছেন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, সেখানে তাঁকে এভাবে বিক্ষোভ দেখানো হবে! রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে, তাঁরা শান্তি স্থাপনের কথা বলছেন। এটাই কি তার নমুনা?” পালটা বারাকপুরের বিজেপি কৌস্তভ বাগচির দাবি, "এটা স্বতঃস্ফর্ত জনরোষ। পুলিশ-প্রশাসন ছিল বলেই অভিষেক অক্ষত বেরতে পারছেন।"
বিজেপিকে তোপ অভিষেকের
আক্রান্ত কর্মীর বাড়িতে অভিষেক বলেন, "পুলিশ না এলে এখান থেকে বেরবো না। যার ভাবছে ভোট লুঠ করে শাসন করব, তারা ভুল ভাবছে। লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে। জনতার দরবারে দেখা হবে। লড়াইয়ের পথে তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে, থাকবে। আমাদের বিধায়কদের উপরে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।"
শান্তি রক্ষার বার্তা শমীকের
অভিষেকের উপর এই হামলা নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আজ বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা অক্ষত রয়েছেন। ওরা যে পরিমাণ অত্যাচার মানুষের উপর করেছে, আমাদের জেলা সভাপতি, আমাদের দলের কর্মীদের উপর করেছে, তারপর আমরা ছিলাম বলেই ওদের বিধায়ক-সাংসদরা এখনও এই অবস্থায় আছেন। অন্য কোনও দল থাকলে এতক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেতেন না। কীসের ডায়মন্ড হারবার মডেল? কেন ফলতায় প্রচারে আসেননি? এখনও বলছি, হিংসার পথ ছাড়ুন। সবাইকে শান্তিতে থাকতে দিন।”
কী বলছেন অভিষেক?
সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সেই বাড়িতে বসেই অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুূনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি।কিন্তু এই পরিবারের উপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এঁদের ছেড়ে যেতে পারব না। বাহিনী পাঠিয়ে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
সোনারপুরে আছড়ে পড়ল জনরোষ
সোনারপুর ঢুকতেই অভিষেককে ডিম ছোড়া হয়, ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। অভিষেকের পোশাক ডিমে মাখামাখি হয়ে যায়। তিনি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে চাইলে সেখানেও প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় ডিম এসে পড়ে তাঁর মাথায়। ছোড়া হয় কাদা, জুতো।
শুধু তাই নয়, জামা ছিঁড়ে মারধর করা হয় অভিষেককে। রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।