'ভোটের জন্য বাজেট তৈরি করিনি'
"ভোটের জন্য বাজেট তৈরি করিনি", কেন্দ্রকে তোপ দেগে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, "ঘাটাল মাস্টার প্লান আমরা শুরু করেছি। গঙ্গাসাগর জুড়ে যাচ্ছে। অনেক ধর্মীয়স্থান, বেরিয়াল গ্রাউন্ডের কাজ হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা নেই গিগ ওয়ার্কারদের। একটা পোর্টাল খোলা হবে। সেখানে অ্যাপ্লাই করতে পারবে। একটা সার্ভে হবে। অসুস্থ হলে, মারা গেলে পরিজনরা সাহায্য পাবে। ভারত সরকারের রিপোর্ট মোতাবেক ৬৫ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। আমরা ভোটের দিকে তাকিয়ে বাজেট তৈরি করিনি। বাংলা বললে বাংলাদেশি বলছে। পহেলগাঁওয়ের জন্য আমরা দায়ী, দিল্লি বিস্ফোরণের জন্য আমরা দায়ী।"
'ভারতের অর্থমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল অমিত মিত্রের'
অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রর ভূয়সী প্রশংসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বলেন, "ভারতের অর্থমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল অমিতদার। এত বঞ্চনা সত্বেও আমরা কাজ করে গিয়েছি। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাও বন্ধ। আমরা কথা রাখি। ভোট এলে বলি, আমরা তোমন নই। কথা গিয়ে কথা রাখা মানুষের ধর্ম। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফেব্রুয়ারি থেকেই বেড়ে যাবে। আশাকর্মী, প্যারা টিচার অনেকেই পাবেন। আশাকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া উচিত। আমি এটা মনে করি।
বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাড়ল মহার্ঘ ভাতা
বাজেটে বিরাট ঘোষণা! বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-ডিএ, আসছে যুব সাথী নামে নতুন প্রকল্পও। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়ল ৫০০ টাকা। ডিএ ৪% বাড়ানো হল। প্যারা টিচার শিক্ষাবন্ধু আশাকর্মীদের ভাতা বাড়ল ১০০০ টাকা। ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটিও পাবেন আশাকর্মীরা। রাজ্যের ১০০ দিনের কাজে ২০০০ কোটি বরাদ্দ। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত বেকার যুবকরা পাবেন 5 ১৫০০ করে মাসে, ৫ বছর পর্যন্ত।
আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বললেন মমতা
"ওদিন ২৬ শে জানুয়ারি ছিল। আগে থেকেই অনেক কর্মসূচি থাকে। সারাদিন ব্যস্ততা থাকে। সবাই জানেন। রাতে রাজ্য পালের ওখানে কর্মসূচি থাকে। আমি না গেলেও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে স্থানীয় বিধায়ক এবং অন্যরা গিয়েছেন। পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। শুনুন আমাদের নিন্দা করে কিছু হবে না। বাংলা হিরো ছিল হিরোই থাকবে। এর নাম বাংলা কিচ্ছু করতে পারবেন না। বাংলার মানুষ আপনাদের ধিক্কার জানায়। কথায় কথায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলেন তার হাল দেখুন। আর আমরা আর্থিক বঞ্চনার পরেও কি কাজ করছি সেটা দেখুন। এক টাকাও কোন প্রকল্পে দেন না আবার বড় বড় কথা বলেন। বিরোধীদের শুভেচ্ছা জানাই সবাই ভালো থাকবেন এবং এটাও জেনে রাখবেন আগামী ভোটে অনেক আসন হারাবেন আপনারা।"
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জবাব মমতার
মমতা বলেন, "আগে বাইরে থেকে কেউ এলে রেল এভিয়েশন বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য শেয়ার করতে রাজ্যকে। কিন্তু গত কয়েক বছর কেন করা হয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে বারবার বলার পরেও কথা শোনা হচ্ছে না। আর সীমান্তে জমির কথা বলছেন। অনেক প্রকল্পে অনেক জমি দিয়েছি তার কি কাজ হয়েছে সেটা বলুন। বিএসএফকেও তো আগে জমি দিয়েছি।"
রাজ্যে উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
মমতা বলেন, "বাংলার উন্নয়ন নিয়ে আমরা গর্বিত। ১৫ বছর অপেক্ষা করেছি আমরা, এখম ঘাটাল মাস্টার প্লানের কথা বলছেন। ১৫০০ কোটি টাকা দিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ৩০০ কোটির কাজ হয়েছে। আমাদের টাকা তুলে আমাদের ফেরত দেওয়া হয়। আইন যেমন আছে, আইন প্রণয়ন করাও যাবে। ২ লক্ষ ২০ হাজার কিমি রাস্তা তৈরি করেছি। গান্ধীজির নামে প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। আমি অরূপ ও ববিকে আনন্দপুর পাঠিয়েছিলাম। ওইদিন রাজ্যপালের চা-চক্রে যাইনি।"
শুভেন্দু কে জবাব মমতার
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, "আগে যা জমি দিয়েছি সেখানে কাজ শেষ করুন, তার পরে আবার জমি দেব? রাজ্যপাল যা বলার বলে গিয়েছেন। ১.১৫ বিমান রয়েছে। তাই তিনি টেবিল করে গিয়েছেন। আমাকে কী বলেছেন, রাজ্যপাল বলুন। আমি জানি কেন পুরো ভাষণ পড়েননি। বলা উচিৎ নয় তবে তাঁর ফ্লাইট ধরার তাড়া ছিল আমি জানি।"
বিধানসভায় অনুপ্রবেশ ইস্যু তুললেন শুভেন্দু
বিধানসভায় অনুপ্রবেশ ইস্যু তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে। আটবার স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়েছেন সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে জমি চেয়ে। জমি সমস্যার কারণে কাঁটাতার দেওয়া যায়নি। বিরোধী দলের সাংসদ বিধায়করা আক্রান্ত হচ্ছেন। বিরোধী দলকে কর্মসূচি করতে আদালতে যেতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী নেত্রী ছিলেন। তিনি কতবার আদালতে গিয়েছেন? আমি তাঁর সাথে ২১ বছর ছিলাম। তাই জানি।”
ক্ষুব্ধ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী
এনিয়ে প্রতিবাদ করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা বলেন, “বিজনেস অ্যাডভাইসরি (বিএ) কমিটির রেজলিউশন সকালে জানানো হল। এখন বদলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জানানো হল এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা তৈরি হয়ে এলাম। কিন্তু এখন বলবে না।”
অধিবেশনে কারা ভাষণ দেবেন এনিয়ে স্পিকার জানান, সরকার পক্ষ থেকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী বলবেন। বিরোধী দলনেতাকে ১০ মিনিট বলার সময় দিয়েছেন স্পিকার। তাতে শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, “না বলতেই দিতে পারতেন।”
কী বললেন রাজ্যপাল বোস
মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিসহ উৎপাদনমুখী পরিকাঠামো, বাস্তব ক্ষেত্রের পরিকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নগত ক্ষেত্রগুলি যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়েছে।
গত ১৫ বছরে রাজ্যের সেচপরিসর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সেচের আওতাভুক্ত চাষযোগ্য জমির পরিমাণ জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণরূপে নিজ দায়িত্বে গ্রহণ করেছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে মোট ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ ধান ও পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং কাট ফ্লাওয়ার্স, আনারস ও মাংস উৎপাদনেও পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সবজি, মৎস্য এবং চা উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। ডিম উৎপাদনে এই রাজ্য বর্তমানে স্বনির্ভর হয়েছে।
ভোটমুখী বাংলায় থাকবে বাজেট চমক?
যদিও ভোট অন অ্যাকাউন্ট তবু বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘মা-মাটি-মানুষ সরকার’-এর এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ ‘সুখবর’ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলার বাড়ি, কৃষি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা থাকতে পারে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেটে।
ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট
রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের আজ, বৃহস্পতিবার ভোট অন অ্যাকাউন্ট বা অন্তর্বর্তী বাজেট। দুপুর আড়াইটেয় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করবেন। তা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য তার আগে বেলা সাড়ে বারোটায় ভাষণ দেবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের ভাষণ ও বাজেট পেশ, দুই সময়েই বিধানসভায় থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।