Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৮ জুলাই ২০২৬

১৭টি আসন নদীগর্ভে বিলীন, আগ্রাসী গঙ্গা গিলছে রাজনগর পঞ্চায়েত

নির্বাচন কমিশনের মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে মালদহের কালিয়াচকের এই গ্রাম।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৪, ২০১৯, ১৭:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৪, ২০১৯, ১৭:৫৬

options
link
১৭টি আসন নদীগর্ভে বিলীন, আগ্রাসী গঙ্গা গিলছে রাজনগর পঞ্চায়েত zoom

বাবুল হক, মালদহ: ভোটের মুখেই আস্ত একটা পঞ্চায়েত গিলে খেতে চলেছে আগ্রাসী গঙ্গা। রাজ্যজুড়ে যখন মনোনয়ন ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিবেশ, তখন তাঁদের পঞ্চায়েতটাই আদৌ থাকবে কি-না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় মালদহের কালিয়াচকের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। ভাঙনে নদীগর্ভে যেতে যেতে এমন পরিস্থিতি যে, নির্বাচন কমিশনের মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে এই রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম। আর এবছর ভোট হবে কি-না, তা নিয়েই সংশয়ে এলাকাবাসী।  ছিল ২২টি আসন। এখন বেঁচে রয়েছে মাত্র ৫টি! এক এক করে ১৭টি আসনই গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। আর একটি মাত্র গ্রাম সংসদ এলাকা নদী ভাঙনের জেরে গঙ্গার গ্রাসে চলে গেলেই নির্বাচন কমিশনের নিয়মে সরকারিভাবে মুছে যাবে এই পঞ্চায়েতের নাম। এমনই এক সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতেও ভোটের আয়োজন চলছে বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে কি-না, তা নিশ্চিত নয় কেউই।

[অনুব্রতর নির্দেশ মেনে ভোট ‘উৎসবে’ বীরভূমে ব্লকে ব্লকে গুড়-বাতাসা বিলি]

এক সময় ছিল ২২টি সংসদ। এখন এসে ঠেকেছে মাত্র ৫টিতে। ভাঙনের ভাঙ্গাগড়ায় জমি খুইয়ে এখন জেলার সর্বকনিষ্ঠ গ্রাম পঞ্চায়েত এটিই। দোরগোড়ায় ভোট। কিন্তু ভোটারদের চিন্তা একটাই, তাঁদের গ্রাম পঞ্চায়েতটা থাকবে তো? অস্তিত্ব টিকিয়ে থাকার লড়াই এখন তাঁদের। পাঁচ আসনের এই গ্রাম পঞ্চায়েতটি বর্তমানে কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। গতবার তিন আসনে জিতেছিল কংগ্রেস।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বিজেপি ও সিপিএম পেয়েছিল একটি করে আসন। বিদায়ী পঞ্চায়েত প্রধান কংগ্রেসের সামাউন শেখ, উপ-প্রধান নুরেজা বিবি এবং এক সদস্য মাইনুল শেখ কংগ্রেসের। বিরোধী দলনেত্রী রয়েছেন বিজেপি‌র জ্যোৎস্না মণ্ডল এবং সিপিএমের সদস্য রয়েছেন অসীম ঘোষ। এবার ফের পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। তবু ভোটের লড়াইয়ের প্রস্তুতি, তোড়জোড় নেই। প্রধান সামাউন শেখের কথায়, “‌আমাদের এখানে তেমন কোনও রেষারেষি নেই। উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গেই কাজ করি। চিন্তা একটাই, পঞ্চায়েতটা থাকবে তো?”

[‘কে সন্ত্রাস করে দেখে নেব’, গ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিএমের প্রার্থী ৭৪ বছরের ‘তরুণী’ নমিতা]

স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ মণ্ডল, সুফল মণ্ডলরা বলেন, “গঙ্গাপাড়ে থাকি। ভাঙন আর বন্যা কবলিত এলাকা। রাস্তাঘাট সংস্কার করা হয়, আবার গঙ্গার জলে সব একাকার হয়ে যায়। আমাদের ঘরবাড়িও গঙ্গাবক্ষে চলে যেতে পারে। সেটাই ভাবতে হচ্ছে।” ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে মাত্র তিন-চার কিলোমিটার ভাটির দিকে গঙ্গার পাড়েই রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েত। ১৯৭৮ সালে ২২ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতটি পথচলা শুরু করেছিল। সেই সময় থেকেই একটু একটু নদী ভাঙন শুরু হয়। গঙ্গাগর্ভে বিলীন হতে শুরু করে বিঘার পর বিঘা জমি, বসতবাড়ি। বেগমগঞ্জ, দোগাছি, গাজিয়াপাড়া, হাকিমাবাদ, চরবাবুপুর, ইসলামপুর, নয়াগ্রাম মৌজাগুলি এখন গঙ্গাবক্ষে। এখন টিকে রয়েছে রাজনগর উত্তর মডেল, রাজনগর দক্ষিণ মডেল, তাম্বুটোলা-‌ব্রক্ষ্মোত্তর, নয়াগ্রাম তিথিপাড়া ইসমাইলটোলা ও নয়াগ্রাম ফিল্ড। রাজনগরের এক প্রবীণ নাগরিক প্রফুল্ল ঘোষ বলেন, “এক সময় কতবড় গ্রাম পঞ্চায়েত ছিল। নির্বাচন এলেই যেন উৎসব নেমে আসত গোটা এলাকা জুড়ে। চোখের সামনে সব তলিয়ে গেল। আর কতদিন পঞ্চায়েতটা টিকে থাকবে, কে জানে!”

[সংরক্ষণের গেরোয় ভোট মরশুমে রীতিমতো তারকা বাঁকুড়ার আলপনা মোদক]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.