Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

মাধ্যমিকে অভাবনীয় সাফল্য, ‘গোলা-বারুদের’ গ্রামে রোল মডেল এখন তামান্না-রফিকুল

কালিয়াচকে খুশির হাওয়া।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৭, ২০১৮, ০৯:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৭, ২০১৮, ০৯:৪৪

options
link
মাধ্যমিকে অভাবনীয় সাফল্য, ‘গোলা-বারুদের’ গ্রামে রোল মডেল এখন তামান্না-রফিকুল zoom

বাবুল হক, মালদহ: ‘গোলা-বারুদের গ্রাম’ থেকে মাধ্যমিকে মিলল নজরকাড়া সাফল্য। রফিকুল হাসান ও তামান্না ফিরদৌস। মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার এই দু’জন কালিয়াচকের মুখ উজ্জ্বল করেছে। পর্ষদের মেধাতালিকায় যুগ্মভাবে নবম হয়েছে রফিকুল। অন্যদিকে দশম স্থানে রয়েছে তামান্না। বুধবার যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি অম্লান ভাদুড়ি দুই কৃতীর বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা দেন। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনায় সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

[অশান্তি কেড়ে নিয়েছে সন্তানকে, মাধ্যমিকের মার্কশিটেই তবু শান্তি খুঁজছেন ইমাম রশিদি]

একটা সময় বারবারই যে গ্রামের মুখ পুড়িয়েছে বকুল শেখ-জাকির শেখরা। সেই নওদা যদুপুরের এবার মান রেখেছে তামান্না আর রফিকুল। মাধ্যমিকের এই দুই কৃতীকে ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকানের আড্ডায় বুধবার দিনভর জারি রইল চর্চা। আফিম চাষ থেকে জালনোটের কারবার। সংঘর্ষ,  বোমাবাজি আর খুনোখুনি। অস্ত্র তৈরির কারখানা। এমন সব অপরাধের সঙ্গে নাম জড়িয়ে থাকা যে গ্রাম এখনও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে।  সেই ‘গোলা-বারুদের গ্রাম’ থেকেই মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল করে রাতারাতি কালিয়াচকের তারকা হয়ে উঠেছে এই দুই কিশোর কিশোরী। বছর দু’য়েক আগেও যদুপুরের হাটখোলায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি চলত। গুলি-বোমার শব্দে সেই সময় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে। কারণ, যদুপুরের এই হাটখোলাতেই বাড়ি রফিকুলের। ঢিল ছোড়া দূরেই এলাকার ত্রাস বকুল শেখের বাস্তুভিটে। বকুল এখন জেল হাজতে রয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[অভাবকে জয়, মাধ্যমিকে ৬৭৩ পেয়ে বসতির ঘুপচি ঘরে সূর্যের আলো এনেছে রবি]

আর এক আলোর পথযাত্রী তামান্না ফিরদৌসের বাড়ি যদুপুরের কাশিমনগর গ্রামে। এই কাশিমনগর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াত আর এক ত্রাস জাকির শেখ। সে-ও জেলবন্দি। এলাকার পড়ুয়ারা এখন শান্তিতেই পড়াশোনা করতে পারছে। এদিন বিকেলে যদুপুরে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলোই বলেন প্রবীণ এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। মালদহের কালিয়াচক থানার নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙত বোমা-গুলির আওয়াজে। এই মোজমপুরে একদা ‘রাজত্ব’ চালাতেন কালিয়াচকের দাপুটে নেতা আসাদুল্লাহ বিশ্বাস। মোজমপুর হাই স্কুলের পরিচালন সমিতির সম্পাদকও তিনি। দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যেত সেই স্কুল। এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনা করে রফিকুল এবার মাধ্যমিকে নবম হয়েছে। রফিকুল জানিয়েছে,  প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হতে চায় রফিকুল। পাশের কাশিমনগরের মেয়ে তামান্নার লক্ষ্য,  আইএএস অফিসার হওয়া। স্থানীয় বামনগ্রাম হাইস্কুলের ছাত্রী সে। বাবা মনসুর আলি হাইস্কুলের শিক্ষক। শুধু বাবাই নন, তামান্নার পরিবারের সবাই শিক্ষকতা করেন। মনসুর সাহেব জানতেন,  মেয়ে ভাল ফল করবে। কিন্তু রাজ্যে দশম হবে,  তা তিনি ভাবতে পারেননি। কালিয়াচকবাসীর কাছে রফিকুল ও তামান্না এখন যেন ‘শান্তি’র রোল মডেল হয়ে উঠেছে। চারদিকে শুধু এই দুই কৃতীকে নিয়েই চলছে আলোচনা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.