বাবুল হক, মালদহ: মৌমাছি বাসা বেঁধেছে হাসপাতালে। আর তা নিয়েই কার্যত বিপাকে পড়েছে মালদহ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর! মৌমাছি-আতঙ্কে তটস্থ চাঁচোলের সরকারি হাসপাতাল। গরম পড়তে শুরু করেছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ফ্যান চলছে বটে, কিন্তু জানলা খুলে বাইরের হাওয়া ঢোকানোর উপায় নেই। কারণ জানালার কার্নিসে একাধিক মৌচাক। গোটা হাসপাতাল জুড়েই বাসা বেঁধেছে কয়েক লক্ষ মৌমাছি। সুযোগ পেলেই হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে যে কোনও সময় দৌরাত্ম্য দেখাতে পারে। আতঙ্কে রোগীরা জানালা খোলার সাহস পাচ্ছেন না। মৌমাছি তাড়ানোর উপায়ও খুঁজে পাচ্ছে না চাঁচোল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বন দপ্তর নাকি পুলিশ, কাদের সাহায্য চাইবেন? মালদহ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, “লাঠি দেখিয়ে কুকুর-বিড়াল তাড়ানো যায়। কিন্তু মৌমাছিকে তো আর লাঠি-বন্দুক দেখানো যায় না! শয়ে শয়ে মৌমাছি কোনও ভাবে যদি ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে তাহলে তো পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। একাধিক মৌমাছির কামড়ে মুমূর্ষু কোনও রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। সমস্যাটি কীভাবে দূর করা যায়, তার জন্য একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে।”
[তুচ্ছ কারণে রক্তারক্তি, ঘরে ছাগল ঢোকার প্রতিবাদ করায় যুবককে কোপ]
উত্তর মালদহের মহকুমা সদরে রয়েছে চাঁচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। সেখানে মৌমাছির দৌরাত্ম্যে রোগী ও পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চাঁচোল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের পুরুষ সার্জিক্যাল ওয়ার্ড-সহ একাধিক ওয়ার্ডে জানালার কার্নিসে বড়বড় মৌচাক থাকায় আতঙ্কে জানালা খোলা যাচ্ছে না। ফলে বাইরের হাওয়া ওয়ার্ডের ভিতরে ঢুকতে পারছে না। কার্যত দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে। জানালা বন্ধ থাকার জন্য ওয়ার্ডগুলিও দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে বলে রোগীদের পরিজনরা জানিয়েছেন। চাঁচোল-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণী দাস বলেন, “মৌমাছির সমস্যাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। মৌচাকগুলি ভেঙে ফেলা দরকার। গোটা হাসপাতালে ১৫-২০টি মৌচাক রয়েছে। কেউ ঢিল মারলেই সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। রোগীর পরিজনদের সতর্ক থাকতে হবে।” চাঁচোল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার প্রদীপ বাড়ুই বলেন, “মৌমাছির জন্য কিছু জানালা বন্ধ রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই মৌচাক ভেঙ্গে মৌমাছি তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। মৌচাক কাটার জন্য লোক খোঁজা হচ্ছে।” কিন্তু এযাবৎ চাক কাটার লোক পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। রবিবার কয়েক জনকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এক সঙ্গে এতগুলো চাক কাটতে তাঁরা রাজি হননি। চাক কাটার সময় ওয়ার্ডে ঢুকে পড়তে পারে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি। এমন আশঙ্কায় কেউ চাক কাটতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে মৌমাছি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে চাঁচোল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মালদহের সিএমওএইচ সৈয়দ শাহজাহান সিরাজ বলেন, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক পেলেই চাক কেটে ফেলা হবে। এখানে আতঙ্কের কোনও বিষয় নেই।”
লালগড়ে এবার ঢুকল হাতি, বাঘের আতঙ্ক ছড়াল শালবনিতেও
সর্বশেষ খবর
-
ফের বিধাননগর থানায় হাজিরা অরূপের, দ্রুতই হাইকোর্টে জমা মেসিকাণ্ডে তদন্তের রিপোর্ট
-
‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে’, বারুইপুর কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ অগ্নিমিত্রার
-
প্রয়াত মায়ের ছবি আগলে বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান, মিস টু মিসেস হলেন জাহ্নবীর দিদি অংশুলা
-
‘আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি’, কান্নায় ভেঙে পড়েও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিদায় রোনাল্ডোর
-
ফের বিপদে উত্তরবঙ্গ! ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা, আর কী পূর্বাভাস?