সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জাত-পাত-ধর্মের বিভাজনরেখা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাজ্যে৷ তা নিয়ে চলছে দেদার রাজনৈতিক তরজা৷ হিন্দু বনাম মুসলিম পেরিয়ে এখন দ্বন্দ্ব ভাল হিন্দু বনাম মন্দ হিন্দুরও৷ কিন্তু এসব ভেদরেখাকে নস্যাৎ করেই সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি তুলে ধরল মালদহের এক গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা৷ সহায়সম্বলহীন হিন্দু প্রতিবেশীর সৎকার করলেন তাঁরাই৷ এমনকী তাঁদের মুখে শোনা গেল হরিবোল ধ্বনিও৷
[ বাবরি কাণ্ডে অভিযুক্তরা কি পদত্যাগ করছেন, অমিতকে পাল্টা কটাক্ষ পার্থর ]
গত সোমবার মৃত্যু হয় বিশ্বজিত রজক নামে এক যুবকের৷ লিভারের রোগে ভুগছিলেন তিনি৷ হতদরিদ্র রজক পরিবারের না ছিল লোকবল, না ছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ৷ এগিয়ে আসেন মুসলমান পড়শিরাই৷ মুহূর্তেই যেন মিলিয়ে গেল তথাকথিত ধর্মের বিভাজন৷ মৃত প্রতিবেশীর যুবকের দেহ কাঁধে তুলে নিলেন মুসলিম গ্রামবাসীরাই৷ নিয়ে গেলেন শ্মশানঘাটে৷ এমনকী হিন্দু প্রথা মেনে হরিবোল ধ্বনিও দিলেন তাঁরাই৷
[ বিসর্জনের জন্যও আদালতের অনুমতি লাগছে কেন, প্রশ্ন অমিতের ]
পুরো বিষয়টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্থানীয় মসজিদের মৌলবিই৷ এগিয়ে এসেছিলেন হাজি আবদুল খালেকও৷ তাঁদের উদ্যোগ আর মুসলিম বাসিন্দাদের সমর্থনেই অন্তিমক্রিয়া সম্পন্ন হয় বিশ্বজিতের৷ শোকে মূহ্যমান মৃত যুবকের বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁরা জানতে চান, কীভাবে কী করা হবে? জানা যায়, পরিবারের পক্ষে কোনও কিছুই করার সামর্থ্য নেই৷ তারপরই টাকা জোগাড়ের ব্যবস্থা করা হয়৷ হাজিসাহেব জানান, বিশ্বজিৎ আমাদের ভাইয়ের মতো ছিল৷ ওর সৎকারের ব্যবস্থা না করলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করত না৷ আর কোনও ধর্মই তো ঘৃণার কথা বলে না৷
তাহলে কীসের বিভাজন? কীসের ভেদাভেদের প্রশ্ন মাথাচাড়া দেয় মাঝেমধ্যে? সে প্রশ্ন গ্রামবাসীদেরও৷ জনৈক গ্রামবাসী জানাচ্ছেন, সাধারণ মানুষ এত ধর্ম নিয়ে কাটাছেড়া করে না, এত মাথাব্যথাও নেই৷ বিধ্বস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালে, দুটো হিন্দু মন্ত্র উচ্চারণ করলে কি ধর্ম খোয়া যাবে!
[ হিন্দু ধর্মের বদনাম করছে বিজেপি, অমিতের সফরের মাঝেই তোপ মমতার ]
যে সহজ সত্যি এই গ্রামবাসীর মুখে উঠে এসেছে, তারই যেন দেখা মেলে না রাজনৈতিক চাপানউতোরে৷ কিন্তু সে তরজাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিল এই সৌভ্রাতৃত্ববোধ৷ অর্থনৈতিক দিক থেকে মালদহ যে খুব এগিয়ে তা নয়৷ বরং দারিদ্রেরই আধিক্য৷ এমনকী নানা খারাপ খবরের জেরেও শিরোনামে উঠে আসে মালদহ৷ সেই আবহই যেন বদলে দিল এই একটা ছবি৷ যে দেশে আজান বিতর্ক সংবাদের শিরোনামে থাকে, থাকে ফতোয়ার কিসসা, সেখানে এ দৃশ্য যে ব্যতিক্রমী তা বলার রাখে না৷ আর এ ছবিই যেন বলে দিচ্ছে, সকলেই নয়, তবে কোনও কোনও মানুষ আজও ধর্ম বলতে বোঝে শুধু মানুষকেই৷
সর্বশেষ খবর
-
কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে, ৮ জুলাই ফের অভিষেককে তলব বিধাননগর আদালতের
-
দ্য ব্রাজিলিয়ান জব… জিতেও নিস্পৃহ আন্সেলোত্তি, জোগো বোনিতোয় রিয়াল ‘ডিএনএ’ মেশাচ্ছেন কার্লো
-
বাংলাদেশে পুরোহিতকে কোপাল দুষ্কৃতীরা! আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
-
তপ্ত ইউরোপবাসীকে ঠান্ডা রাখতে জলকামান! হিটস্ট্রোক ঠেকাতে কতটা কার্যকর এই কৌশল?
-
ভোট করিয়েছেন বিজেপির হয়েই! পুরপ্রধানের পদ ফিরে পেয়েই বিস্ফোরক তৃণমূল নেতা