Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৩ জুলাই ২০২৬

মুসলিমরা আলো দেখালে তবেই নিরঞ্জন চাঁচোলের রাজবাড়ির প্রতিমার

দুই সম্প্রদায় যেন একে অপরের পরিপূরক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ১৬:৩১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ১৬:৩১

options
link
মুসলিমরা আলো দেখালে তবেই নিরঞ্জন চাঁচোলের রাজবাড়ির প্রতিমার zoom

বাবুল হক, মালদহ: সন্ধ্যা নামার আগেই হাতে লন্ঠন নিয়ে ওরা হাজির। ওরা মানে আনোয়ারা বিবি, হালেমা বিবি ও শেখ মনিরুদ্দিনরা। বিসর্জনের সময় ওদের অনেক দায়িত্ব। সূর্যাস্তের আগে লন্ঠন জ্বালিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই প্রতিনিধিরা মাকে আলো দেখালেই দেবীকে বিদায় জানানো হয়। মালদহের চাঁচলে মহানন্দা নদীর সতীঘাটের পশ্চিম পাড়ে প্রতি বছর দেখা যায় এই সম্প্রীতির ছবি।

[পরনে বহুমূল্য সোনার শাড়ি, কীভাবে প্রতিমা বিসর্জন সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারে?]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মালদহের চাঁচোলের পাহাড়পুর এজন্যই স্বতন্ত্র। চাঁচোলের রাজবাড়ির পুজোর এও এক বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন চাঁচোল রাজ ট্রাস্ট এস্টেটের কর্তারা। কীসের টানে বিসর্জনের মহানন্দার পারে আসেন। ছাপোষা বধূ হালেমা বিবির কথায়, পূর্ব-পুরুষদের দেখানো পথেই তাঁরা দেবীকে আলো দেখিয়ে বিদায় জানান। এতে পরিবারে সুখ-শান্তি আসে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। চাঁচোলের পাহাড়পুরের সাহুরগাছি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বাস। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় এধরনের সম্প্রীতিতে মুগ্ধ গৃহবধূ বনশ্রী দাস। তিনি জানান, “আগে শুনেছিলাম, এখানে রাজবাড়ির দেবীকে মুসলিমরা বিসর্জন ঘাটে আলো দেখান। আজ স্বচক্ষে দেখলাম। দারুণ অভিজ্ঞতা হল। পরম্পরা এখনও বজায় রেখেছেন সাহুরগাছির বাসিন্দারা।” অতীতে লন্ঠন বা হ্যারিকেনের সংখ্যা অনেক বেশি থাকত। এখন খানিকটা কমেছে। এখন বাজারে সেভাবে হ্যারিকেন পাওয়া যায় না। তাই অনেকে লন্ঠনের বদলে এলইডি লাইট নিয়ে আসেন। প্রায় তিনশো বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। চাঁচোল রাজবাড়ির এই পুজোর ঐতিহ্য এখনও একইরকম। পুজোর টানে এবারও বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এসেছিলেন। রাজ আমলের নিয়ম-রীতি মেনেই পুজো হয়। মূল পুজোর ১২ দিন আগে কৃষ্ণা নবমী তিথিতে তামার ঘট ভরে পুজো শুরু হয়ে ছিল পাহাড়পুরের চন্ডীমণ্ডপে। দেবী এখানে চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী।

[পংক্তিভোজে ব্রাত্য পরিচারিকা, প্রতিবাদের ডাক নেটদুনিয়ায়]

উত্তর মালদহের চাঁচোল সদরে অবস্থিত রাজবাড়ির একাংশে রয়েছে চাঁচোল কলেজ। বাকি অংশে মহকুমা আদালত। এখন স্মৃতি বলতে রয়েছে শুধু রাজমন্দিরটুকু। মন্দির গৃহে অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী দুর্গামূর্তির নিত্য পুজো ও সন্ধ্যারতি হয়। পাহাড়পুরের মন্দিরে রাজবাড়ির পুজোয় মৃন্ময়ী মূর্তির পাশে অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী দেবীমূর্তিও পূজিতা হন। শোনা যায় চাঁচোলের রাজা শরৎচন্দ্র রায়চৌধুরির ঠাকুরদা রামচন্দ্র রায়চৌধুরি দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। পাহাড়পুরের সতীঘাটে স্নান করতে গিয়ে তিনি অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী মূর্তিটি পেয়েছিসেন। সেই সতীঘাটেই দেবীর বিসর্জন পর্ব এভাবে দুই সম্প্রদায়কে কাছাকাছি নিয়ে আসে। হয়ে ওঠে একে অপরের পরিপূরক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.