কিংশুক প্রামাণিক, দার্জিলিং: বাংলার সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ মেটাতে চায় সিকিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে ঝগড়া করলে আসলে যে নিজেদেরই ক্ষতি, তা বুঝেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সময় চেয়েছেন পবনকুমার চামলিং। মমতা সময় দেওয়ায় আপ্লুত সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। আজ শুক্রবার দুপুরে উত্তরকন্যায় মমতা-চামলিং বৈঠক। তারপর দু’জনেরই বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা। মমতা ফিরবেন কলকাতা, পবনকুমার চামলিং যাবেন দিল্লি।
[৫১৫ কোটি টাকার ব্যাংক প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার কৌস্তুভ রায়, শিবাজি পাঁজা]
আজকের বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। ভৌগলিকভাবে বাংলার উপর পুরোদস্তুর নির্ভরশীল সিকিম। এ রাজ্যে পা না দিয়ে গ্যাংটক পৌঁছনোর পথ নেই। পণ্য পরিবহণও শিলিগুড়ি না ছুঁয়ে অসম্ভব। মূলত পর্যটনের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে চামলিংয়ের রাজ্যের অর্থনীতি। সিংহভাগ পর্যটক বাঙালি। কিন্তু এরপরও বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুতে মন দেননি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। বরং পাহাড়ে বিমল গুরুংকে মদত করে বাংলার সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টি করেন। রাজ্যভাগ সমর্থন করে সিকিম বিধানসভায় প্রস্তাব পর্যন্ত নেওয়া হয়। চামলিং তখন এতটাই বেপরোয়া যে কালিম্পংয়ের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা পর্যন্ত করে সিকিম। সেই মাশুল তাকে এখন দিতে হচ্ছে। সেই সময় পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় ক্ষুব্ধ রাজ্য। সিকিমের গাড়ি বাংলায় ঢোকার পারমিট বাতিল করে দেওয়া হয়-যা নিয়ে এখন মহা সমস্যায় চামলিং। ব্যবসায়ীরা তাঁর উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছেন। স্বভাবতই এদিন মমতার কাছে সেই নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানাবেন তিনি।
এ ছাড়াও আরও কিছু বিষয় আছে। দিল্লি থেকেও চামলিংকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বাংলার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করার। মোদ্দা কথা, চাপে পড়ে বাংলার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে এখন মরিয়া সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। সিকিমের সংবাদমাধ্যমেও শুক্রবারের বৈঠককে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, বাংলার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক, এটাই সিকিম সরকার চাইছে। অন্যদিকে চামলিংয়ের এই আত্মসমর্পণে রাজ্য খুশি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী চান সুসম্পর্ক। বন্ধুত্ব। পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু বন্ধুত্ব তো একতরফা হয় না। তাই কিছু প্রসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ কথা মমতা এদিনের বৈঠকে বলে দেবেন। অনেক কষ্টে পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে। সিকিম যেন আবার অশান্তিতে মদত না দেয়, এ কথা আজ শুনতেই হবে চামলিংকে। বস্তুত, মমতা তাঁকে এ-ও বলবেন, বাংলা সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব চায়।
[খেতে না দিয়ে মারধর করে ছেলে, স্বেচ্ছামৃত্যু চান মা]
তাই ভূমিকম্প হয়েছে শুনে তিনি শুধু দার্জিলিং পাহাড় নয়, গ্যাংটক পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সিকিমের মানুষের। যাই হোক, বৈঠককে খুব ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার পাহাড় থেকে শিলিগুড়ি এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত চামলিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য এই দিনটি শিলিগুড়িতে থেকে গেলেন তিনি। ফিরেই আবার পরের সপ্তাহে হুগলি, বর্ধমান, বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সফর রয়েছে। রিভিউ মিটিং ও উপভোক্তাদের পরিষেবা প্রদান রয়েছে। মার্চে অর্থবর্ষ শেষ হবে। এপ্রিল থেকে আবার শুরু হয়ে যাবে নতুন অর্থবর্ষের কাজ। বাজেট পেশ হয়ে গিয়েছে। তার আগেই সিকিমের সঙ্গে সৌহার্দ্য পাকা করার পালা।
সর্বশেষ খবর
-
‘প্লিজ, ছেড়ে যেও না’, নেইমারকে কাতর আর্তি বাবার, অবসর ভেঙে ফিরবেন ব্রাজিল মহাতারকা?
-
‘শুধু খেলতে আসিনি, দেখিয়ে দিলাম জিততে এসেছি’, বলছেন ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ড
-
পরিবারের জন্য অপরিহার্য পাঁচ জরুরি বিমা কভার, জেনে নিন বিস্তারিত
-
দুই রাজ্যে দুই সংসার, দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে ৪০ বছর পর প্রথমার সন্তানদের কাছে ফিরলেন মোতাহার
-
স্কুলেই জীবনরক্ষার পাঠ, রাজ্য সরকারের অভিনব এই উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়