Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
Murshidabad

দুই রাজ্যে দুই সংসার, দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে ৪০ বছর পর প্রথমার সন্তানদের কাছে ফিরলেন মোতাহার

৪০ বছর পর নিজের মাটির গন্ধ পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মোতাহার শেখও।

শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ২০:০২

link
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ২০:০২

options
link
দুই রাজ্যে দুই সংসার, দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে ৪০ বছর পর প্রথমার সন্তানদের কাছে ফিরলেন মোতাহার zoom
পরিবারের সঙ্গে বৃদ্ধ মোতাহার শেখ। নিজস্ব চিত্র।
Advertisement

৪০ বছর। যাকে হারিয়ে গিয়েছেন, ভেবে সবাই কেঁদেছিল। সোমবার রাতে হঠাৎ দরজায় এসে দাঁড়ালেন সেই মানুষটাই। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড়। পাড়ার লোক, আত্মীয়, ছোটরা। সবাই এসে ঘিরে ধরেছে। কেউ বলছে “চাচা”, কেউ “নানা”। মেয়ে বেহুলা বিবি জীবিত অবস্থায় দেখে বাবাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ৪০ বছর পর নিজের মাটির গন্ধ পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মোতাহার শেখও।

সালটা ১৯৮৬। সুতি থানার নাজিরপুরের মোতাহার শেখ তখন যুবক। পেটের দায়ে রুজি-রোজগারের সন্ধানে ব্যাগ গুছিয়ে পাড়ি দেন ত্রিপুরায়। সোনামোড়ায় কাজ জোটে। সেখানেই বিয়ে করেন। স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে নতুন সংসার পাতেন। কিন্তু এ পারের নাজিরপুরে রয়ে গিয়েছিল আরেকটা পরিবার। সেখানেও স্ত্রী, তিন মেয়ে। দিন যায়, মাস যায়, বছর ঘোরে। চিঠি নেই, ফোন নেই। ধীরে ধীরে সবাই ধরে নেন- মোতাহার আর জীবিত নেই। তারপর কেটে গিয়েছে ৪০টা বছর।

Advertisement

এ দিকে গত সপ্তাহে নাজিরপুরের এক যুবক কাজের জন্য যান ত্রিপুরার সোনামোড়ায়। চায়ের দোকানে আলাপ হয় বৃদ্ধের সঙ্গে। কথায় কথায় ঠিকানা উঠে এল – “বাড়ি সুতি, নাজিরপুর”। শুনেই বৃদ্ধের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তিনিও তো সেই নাজিরপুরেরই ছেলে। সেই যুবকের মাধ্যমে যোগাযোগ হল এপারের বাড়ির সঙ্গে। আর তারপর? নাড়ির টান। সোমবার রাতে ট্রেন-বাস বদলে ৮৫ বছরের মোতাহার শেখ এসে পৌঁছলেন নিজের ভিটেয়। যদিও মোতাহারের প্রথম স্ত্রী বছর কয়েক আগে মারা গিয়েছেন। দুই সংসার, ৪০ বছরের ব্যবধান – সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল সুতির নাজিরপুরের একটা ছোট্ট বাড়িতে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.