নন্দন দত্ত, সিউড়ি: হলুদ হয়ে যাওয়া একটা খবরের কাগজের কাটিং৷ কাগজের শিরোনাম, ‘দিদি থাকবে’৷ পাশে কাঁপা হাতে লেখা ছিল ‘থাকবে চিরদিন’। সে লেখাও ধূসর মলিন হয়ে গিয়েছে। তাই এখন তার পাশে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস নয়, বীরভূমের সাঁইথিয়ার একটি চায়ের দোকান৷ দোকান মালিক মদনমোহন মহান্তর কাছে তৃণমূলনেত্রী দিদির মতো। শুধু দোকানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানোই নয়, যে কাপে তিনি খদ্দেরদের চা দেন, সেই কাপগুলির রং নীল সাদা৷ এই রঙটা যে তৃণমূলনেত্রীর বড্ড প্রিয়! কিন্তু, মজার বিষয় হল, যে দোকানে পরতে পরতে তৃণমূল নেত্রীর ছোঁয়া, সেই দোকানে কিন্তু চা খেতে আসেন বিরোধী দলের সদস্যরাও৷
[বাগনানে তৃণমূল নেতা খুনে রাতভর পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮]
পেশা চা বিক্রি৷ বীরভূমের সাইথিঁয়ায় সবচেয়ে পুরানো চায়ের দোকানটি তাঁরই৷ কিন্তু, নিজেকে দিদির সৈনিক বলে পরিচয় দিতেই ভালবাসেন মদনমোহন মহান্ত৷ যেদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেদিন ‘দিদি’কে দেখতে দোকান বন্ধ রেখে কলকাতা গিয়েছিলেন৷ আর যদি মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমের সফরে আসেন, তাহলে তো কথাই নেই৷ যখন যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা থাকেন, সেখানেই ছুটে যান মদনমোহনবাবু৷ তিনি কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য নন৷ তবে মমতার অন্ধভক্ত৷ তাই সাইথিঁয়া থানা মোড়ে নিজের চায়ের দোকানটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছবি তো টাঙিয়েছেনই, চায়ের কাপগুলিও নীল-সাদা৷ মদনমোহন মহান্ত বলেন, ‘থানা এলাকায় থাকি৷ দিদি আবার পুলিশমন্ত্রীও বটে। তাই সেক্ষেত্রেও একটা প্রেরণা।‘
সাইঁথিয়া শহরের থানা এলাকায় এই চায়ের দোকানে যাঁরা চা খেতে আসেন, তাঁদের মধ্যে অবশ্য কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ নেই৷ শাসকদলের কর্মী-সমর্থক যেমন আসেন, তেমনি আসেন বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকরাও৷ চায়ের কাপে রাজ্য রাজনীতির হালহকিকত নিয়ে ঝড় তোলেন স্থানীয়রা৷ তা নিয়ে কোনও সমস্যাও নেই মদনমোহন মহান্তের৷ কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর নামে কেউ বদনাম করলেই প্রতিবাদ করেন তিনি৷ ওই চা ব্যবসায়ীর ধারণা, ‘দিদি’র জন্য তাঁর দোকানে খদ্দেরে অভাব হয় না৷
ছবি: সুশান্ত পাল
[কংগ্রেস ছাড়ার কথা ভাবছেন বরকত পরিবারের দুই সাংসদ
সর্বশেষ খবর
-
তাইল্যান্ড-কলকাতা মাদক চালান! পর্যটক সেজে মারাত্মক ‘মলি’ পাচারে এসে গ্রেপ্তার দুই বিদেশিনী
-
দিনেদুপুরে যুবককে গাড়িতে তুলে চম্পট! সল্টলেকে ‘ফিল্মি কায়দা’য় অপহরণের কিনারা পুলিশের
-
‘ছাত্রক্ষোভ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার’, রাহুল গান্ধীকে তোপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর
-
স্বাস্থ্য ভবনে পদোন্নতির ঝড়, মুখ্যমন্ত্রীর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বড় প্রমোশন
-
দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৮ দিন আগে, কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা লকেটের দাদার