Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Maoist leader Mangal

কিষানজির মৃত্যু দেখেছিলেন, স্ত্রীকে নিয়ে জঙ্গলমহলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ‘একলা নিতাই’ মঙ্গল

ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় মঙ্গলের মাথার দাম ৫ লাখ এবং তার স্ত্রী মালতির ২ লাখ। দুই রাজ্যের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মঙ্গল একে ৪৭ এবং তাঁর স্ত্রী ইনসাস নিয়েই ঘুরছেন। জঙ্গলমহলের রাস্তা তাঁদের হাতের তালুর মতো চেনা। এছাড়াও ওই অঞ্চলের স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের ভালো সম্পর্ক।

অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ২১:০৪

link
অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ২১:০৪

options
link
কিষানজির মৃত্যু দেখেছিলেন, স্ত্রীকে নিয়ে জঙ্গলমহলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ‘একলা নিতাই’ মঙ্গল zoom
মাও নেতা এবং তাঁর স্ত্রীকে তন্নতন্ন করে খুঁজছে পুলিশ। প্রতীকী ছবি।
Advertisement

পলিটব্যুরোর সদস্য কিষানজির মৃত্যু দেখেছিলেন সামনে থেকে। আবার আরও এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকাশের দেহরক্ষীর দায়িত্ব সামলেছেন। আর তাঁকেই জঙ্গল ছাড়তে হয়। তবে তাঁর জঙ্গল ছেড়ে যাওয়ার এক মাস পরও দলের প্রতি নিষ্ঠা কমেনি। তাই আত্মসমর্পণের কথা না ভেবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই জঙ্গলমহলে ঘুরে দাঁড়ালো লড়াইয়ে ‘একলা নিতাই’ মঙ্গল। কিন্তু পরিবার চাইছে, তাঁরা যেন আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসেন।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনীর থানার জঙ্গল লাগোয়া রঞ্ঝার গ্রামের রতন মাহাতো ও অষ্টমী মাহাতোর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলের নাম পতিত মাহাতো। আদরে পরিবারের লোকজন তাকে পাপ্পু বলে ডাকতো। সালটা ২০০৮। তখন সে জয়পুর হাই স্কুলের পড়ুয়া। পরিবারের অজান্তেই মাওবাদীদের হয়ে কাজ করছে। এরপর ২০১০ সালে

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ওই গ্রামের পাশেই  যৌথ বাহিনীর গুলিতে শিবিরে ঘুমন্ত অবস্থায় মাও নেতা সিধো-সহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তখন পাপ্পু নবম শ্রেণির পড়ুয়া। স্কুলে পরীক্ষার দিন হঠাৎ সকালে ব্যাগ গুছিয়ে স্কুলের পথে রওনা দিয়ে নিখোঁজ হয় বছর ১৫-র ওই কিশোর। পাড়া প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন কোথাও খুঁজতে কসুর করেনি পরিবার। কিন্তু তার খোঁজ মেলেনি। তারপর পরিবার জানতে পারে, পতিত মাওবাদী দলে যোগ দিয়েছে। নাম বদলে হয়েছেন মঙ্গল ওরফে সমীর ওরফে পাণ্ডে।

শান্ত তবে মেধা-বুদ্ধি এবং লড়াকু মনোভাবের কারণে তিনি কিষেনজির অন্যতম দেহরক্ষীর দায়িত্ব পান। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর বুড়িশোলের জঙ্গলে যখন কিষানজি যৌথ বাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে লুটিয়ে পড়েন, তখন সেখানে সুচিত্রা মাহাতো এবং মঙ্গল ছিলেন। তড়িঘড়ি সেখান থেকে চম্পট দেন তাঁরা। পরে আত্মসমর্পণ করেন সুচিত্রা। তবে মঙ্গল এই জঙ্গল-যুদ্ধ ত্যাগ করেননি। ঝাড়খণ্ডের গুড়াবান্দার জঙ্গলে আকাশ-সহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলিত হন। পরে আবার স্কোয়াডে কাজ শুরু করেন। গুড়াবান্দা থেকে ডুমুরিয়া এমনকী ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ এলাকায় সংগঠন বিস্তারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবে পরে দলের ভাঙনে সেই কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একসময়ে আলাপ হয় ২ বছর বয়সে মা হারা ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির পাথরনাসা গ্রামের মলিনা ওরফে মালতী মুর্মু ওরফে মালার সঙ্গে। ২০১০ সালে মলিনা মাও দলে যোগ দেন। তখন তিনি কিশোরী। ২০১৩ সালে মলিনার সঙ্গে মঙ্গলের বিয়ে হয়।

মঙ্গলের কাঁধে দায়িত্ব চাপে বঙ্গের রাজ্য সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজদাকে নিরাপত্তা দেওয়া। ২০১৮ সাল থেকে বঙ্গ ব্রিগেডের সঙ্গে ওই দম্পতিও পশ্চিম সিংভূমের সারাণ্ডার জঙ্গলে ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে এবং যৌথ বাহিনীর তাড়া খেয়ে ফেরেন পুরুলিয়া ছুঁয়ে থাকা দলমার জঙ্গলে। ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় সংগঠনের লেভি আনতে গিয়ে ধরা পড়েন তিন সদস্য। পালিয়ে বাঁচেন মঙ্গল। ওই ঘটনার এক সপ্তাহ পর ৫ জনকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন আকাশ। ভেঙে দেওয়া হয় বঙ্গ রাজ্য কমিটির বাহিনী। এর পর শচীন, মিতা এবং জবাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মঙ্গল ও মালতির সঙ্গে তিনি অন্যত্র চলে যান। তারপর ১৩-১৪ আগষ্ট জঙ্গল ছেড়ে শহরমুখী হন। অভিভাবকহীন হয়ে পড়া শচিন, মিতা এবং জবা চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেফ হাউসে চলে যান। পরে শচিনকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। তবে সস্ত্রীক মঙ্গল এখনও বাংলা-ঝাড়খণ্ডের সীমানায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় মঙ্গলের মাথার দাম ৫ লাখ এবং তার স্ত্রী মালতির ২ লাখ। দুই রাজ্যের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মঙ্গল একে ৪৭ এবং তাঁর স্ত্রী ইনসাস নিয়েই ঘুরছেন। জঙ্গলমহলের রাস্তা তাঁদের হাতের তালুর মতো চেনা। এছাড়াও ওই অঞ্চলের স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের ভালো সম্পর্ক। তাই ঝাড়খণ্ড পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা এবং হুলিয়া জারির পরেও ‘একলা নিতাই’-র অবস্থান নিয়ে নিখুঁত খবর নেই। তবে গোটা ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক চেপে বসেছে ওই দুই মাও নেতার মনে। মঙ্গলের বাবা রতন এবং মা অষ্টমী বলেন, “ফিরে আয় বাবা।” মেয়ের কাছে একই আবেদন রেখেছেন বাবা শালাই মুর্মু। এই রাজ্যের পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “ওরা মূলস্রোতে ফিরে এলে আত্মসমর্পণ নীতির যা যা সুবিধা আছে সবই পাবেন। বিভিন্নভাবে তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.