শ্রীকান্ত পাত্র, ঘাটাল: সাপ চেনাতে সাপের মিউজিয়াম! কোনটা বিষধর সাপ বা কোনটা বিষধর সাপ নয় তা চেনাতেই পড়ুয়াদের জন্য আস্ত একটি মিউজিয়াম গড়ে তুলছেন দাসপুরের বেলডাঙা চাঁইপাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একেবারে প্রত্যন্ত একটি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি প্রজাতির সাপ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মিউজিয়াম। যদিও এই মিউজিয়ামে থাকছে আশপাশের নানা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থেকে শুরু করে সামুদ্রিক প্রাণীও। যা নিয়ে প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের উৎসাহের শেষ নেই।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভুমিকায় খুশি ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ধরনের উদ্যোগ আমার চোখে এই প্রথম। এই বিদ্যালয়ের জন্য আমি গর্বিত যে ঘাটাল মহকুমায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এমন উদ্যোগ নিয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করছে।’’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘‘একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে আমাদের এই বিদ্যালয়। প্রায়ই গ্রামের মানুষের সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়।

ঠিক সময়ে চিকিৎসার ফলে অনেকে সেরেও ওঠেন। আবার আমরা দেখেছি সাপের কামড় মানেই অনিবার্য মৃত্যু বলে মনে করেন গ্রামের মানুষ। এমনকি ঢোড়া সাপ কামড়ালেও আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে যান তাঁরা। আমাদের বিদ্যালয়ের পড়ুয়া তো বটেই গ্রামের মানুষও জানেন না কোনটা বিষধর বা কোনটা বিষধর নয়। তাই আমরা সাপ চেনাতে এই ধরনের সাপের মিউজিয়াম এবং তার সঙ্গে অন্যান্য জলজ প্রাণীর মিউজিয়াম গড়ে তুলছি। গ্রামবাসীরাও আসেন এই মিউজিয়াম দেখতে।’’
[আরও পড়ুন: তাঁর নাম আরমান, বিয়ে হয় হৈমন্তীর সঙ্গেও, প্রকাশ্যে এসে আর কী বললেন গোপাল দলপতি?]
দাসপুর দুই নম্বর ব্লকের বেলডাঙা চাঁইপাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ৯৫ জন। মোট শিক্ষকের সংখ্যা চার জন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর জানা। তিনি জীববিজ্ঞানে স্নাতক। মূলত তাঁরই উদ্যোগে গড়ে উঠছে এই মিউজিয়াম। তিনি লক্ষ্য করে দেখেছেন সাপ মানেই ভয়ঙ্কর এক প্রাণী। সাপের কামড় মানেই মৃত্যু নিশ্চিত। এই ভয় কাটাতেই দীপঙ্করবাবুর এমন উদ্যোগ। কেউটে থেকে শুরু করে খরিস নানা বিষধর সাপ তো রয়েছে তার সঙ্গে বিষহীন সাপও রয়েছে জারের মধ্যে। ফর্মালিন দিয়ে জারের মধ্যে রাখা হয়েছে সাপগুলি। এছাড়া নানা জলজ প্রাণী যেমন হাঙর মাছ, সি হর্স, তারা মাছ, অক্টোপাস, জেলিফিস রয়েছে। তেমনই কাঁকড়া বিছে, চামচিকে, বাদুড়ও রাখা হয়েছে জারের মধ্যে। পরিবেশের পাঠ দেওয়ার সময় এগুলিই হয়ে ওঠে টিচিং লার্নিং মেটেরিয়াল।

দীপঙ্করবাবু বলেন, “সাপ চেনা তো বটেই। বিষধর সাপ কামড়ালে একজন রোগীকে যদি ১০০ মিনিটের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া যায় তিনি যে বেঁচে ওঠবেন সে কথাও আমরা জোর দিয়ে বলি গ্রামের মানুষকে। বিষধর সাপ ও বিষহীন সাপ চিনতে পারলে ভয় অনেকটাই কেটে যায়। চিকিৎসকের চিকিৎসা করতেও সুবিধা হয়।’’প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ নজিরবিহীন বলে মনে করছে শিক্ষকমহল।
[আরও পড়ুন: ‘ইংরেজি জানি না স্যর’, শুনেই ক্ষুব্ধ বিচারপতি শিক্ষককে বললেন, ‘গেট আউট’]
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরাই আসল সনাতনী’, ভোটের জন্যই বিজেপির রামকে ব্যবহারের অভিযোগ কেজরিওয়ালের
-
জীবিত হয়েও সরকারি নথিতে মৃত! ২ বছর ধরে ‘প্রতিবন্ধী ভাতা’ পাচ্ছেন না নদিয়ার যুবক
-
বিশ্বকাপে লজ্জার হারের পর জার্মানির কোচ হচ্ছেন ক্লপ? মুখ খুললেন লিভারপুলের প্রাক্তন ‘বস’
-
প্রতারণার পর্দাফাঁস করতে এবার প্রতি থানায় সাইবার ডেস্ক, নির্দেশ লালবাজারের
-
জানালা দিয়ে উড়ে আসা ডিমে ভিজল শাড়ি, কালীগঞ্জে এবার হামলার শিকার মহুয়া!