সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক নিম্নচাপের হাত ধরে বঙ্গে পা রেখেছিল শীত। আরেক নিম্নচাপই আপাতত ‘বিদায়ঘণ্টা’ বাজাতে চলেছে তার। পরিস্থিতি যা, তাতে জাঁকিয়ে শীতের আমেজ ফের কবে মিলবে তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন খোদ আবহাওয়াবিদরা। মারমুখী শীতকে ড্রেসিংরুমে পাঠিয়ে দেওয়ার কারিগর রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। “আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এবং উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে অন্ধ্র উপকূলের দিকে যাবে। উপকূলে ঢোকার পর ক্রমশ শক্তি হারাবে।” বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের উপ মহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যার প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকেই মেঘলা হতে শুরু করবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ। হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলিতে। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জীববাবু।
[উত্তরাখণ্ডে তীব্র ভূমিকম্প, কাঁপল দিল্লিও]
তিনি বলেন, উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে কলকাতাতেও। তাছাড়া দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে অল্পবিস্তর বৃষ্টি হবে। শনিবার পর্যন্ত পরিস্থিতি তেমন কোনও পরিবর্তন হবে না। বরং মেঘের জেরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দুই-তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে বলেই জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরে খুব তাড়াতাড়ি বঙ্গে ঢুকে পড়েছিল শীত। নভেম্বর ২২ তারিখ এক ধাক্কায় শহরের পারদ পাঁচ ডিগ্রি কমে নেমে আসে ১৬.৬ ডিগ্রিতে। এর পর ধারাবাহিকভাবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমতে কমতে এসে ঠেকে ১৪.৬ ডিগ্রিতে। চলতি মরশুমে এটাই শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শুধু মহানগর নয়, জেলার তাপমাত্রাও নেমে এসেছিল দশের নিচে। সব মিলিয়ে গত দু’বছরের শীতের খারাপ পারফরম্যান্সে অনেকটাই প্রলেপ লাগিয়েছিল চলতি বছরের শীত। কিন্তু নতুন নিম্নচাপ সেই প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করল। যদিও বাধা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল দিনকতক আগেই। বঙ্গোপসাগরেরই একটি নিম্নচাপ আরব সাগরে পৌঁছে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড় ‘অক্ষি’-র টানে বাংলা থেকে হিমেল হাওয়া আরব সাগরের দিকে ছুটে যাচ্ছে। পড়ে বাংলার শীতের ভাঁড়ারে টান পড়ছে শুষ্ক শীতল বাতাসে। যার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের গত কয়েকদিন পারদ সেভাবে নামতে পারেনি।
[যোগী আদিত্যনাথকেই ‘বিয়ে’ করলেন সীতাপুরের এই মহিলা!]
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এমনিতেই ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম। তাই একের পর এক নিম্নচাপ স্বাভাবিক ঘটনা। এই ধরনের নিম্নচাপ পূর্ব উপকূলের দিকে সরে এলে ঠান্ডার ছন্দটা নষ্ট হয়। ফলে ডিসেম্বরে একটা বড় সময় পর্যন্ত থিতু হতে পারে না ঠান্ডা। গত কয়েক বছরের তথ্য ঘেঁটে আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, ২০১৪ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আবার ২০১১ সালে ডিসেম্বরে তামিলনাড়ু উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘থানে’। যার জেরে হালকা পোশাকেই রাজ্যবাসীকে পালন করতে হয়েছিল বর্ষবরণ। আসলে শীত নির্ভর করে উত্তুরে হাওয়ার উপর। উত্তুরে হাওয়ার গতি যত বাড়বে রাজ্যে শীতের দাপটও তত বাড়বে৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের জন্য বিপরীত বায়ুপ্রবাহের জেরে বন্ধ হয় উত্তুরে হাওয়ার পথ। সমুদ্র থেকে গরম হাওয়া ঢুকে পড়ে স্থলভাগে। ফলে উত্তাপ বাড়তে থাকে৷ গত কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের শীতের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে।
[মাওদমন বাহিনীর গুলিতে মহারাষ্ট্রে নিকেশ ৭ মাওবাদী]
সর্বশেষ খবর
-
অবশেষে ভুল থেকে শিক্ষা! শচীনকে ছাপিয়ে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক বৈভবের
-
চন্দ্রচূড়ের গুরগাঁওয়ের বাড়িতে চলল বুলডোজার, হাফপ্যান্ট পরেই ছুটলেন অভিনেতা
-
শিক্ষামন্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক! টাকা চেয়ে মেসেজ, সমাজমাধ্যমে ‘সাবধান’ বার্তা দীপক বর্মনের
-
‘মাসে লাখ টাকা ভাড়া দিই, কেন তালা দিলেন?’, পার্টি অফিস ‘দখলে’ ঋতব্রতদের তোপ মমতার
-
হর হর মহাদেব… ৬৫ ফুট গভীর কুণ্ডে খোঁজ মিলল ২৫০ বছর পুরনো শিবলিঙ্গের