১২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

খনিতে ধস নেমে মৃত দুই শ্রমিক, দেহ আটকে ১২ ঘণ্টা বিক্ষোভ সহকর্মীদের

Published by: Kumaresh Halder |    Posted: October 7, 2018 7:51 pm|    Updated: October 7, 2018 7:51 pm

Miners stage protest after Burdwan coal mine kills 2

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: কোলিয়ারিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা৷ খনির ছাদ ধসে মারা দু’শ্রমিকের মৃত্যু৷ খনি গর্ভেই সহকর্মীর মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ শ্রমিকদের৷ প্রায় ১২ ঘণ্টা মৃতদেহ আটকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা৷ রবিবার ইসিএলের পান্ডবেশ্বরের খোট্টাডিহি দুই নম্বর খনিতে শ্রমিক বিক্ষোভ ঠেকাতে ঘটনাস্থলে যায় সিআইএসএফ-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ বিধায়ক ও শ্রমিকদের  সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনায় বসে ইসিএল কর্তৃপক্ষ৷

[কচুরিপানা সাফাইয়ে কীটনাশক স্প্রে, কৃষ্ণসায়রে মাছের মড়ক]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ‘ডি’ শিফটে নতুন খনিমুখ খোলার কাজ চলছিল৷ ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে খোলা হয় মুখ৷ ঘণ্টাখানেক পরে কর্মরত শ্রমিকরা মুখের কাছে আসতেই খনির উপরের চাঙড় ধসে পড়ে কালেশ্বর মাহাতো (৪৪) ও চন্দ্রশেখর গিরি (৫০)-র উপর৷ ভয়ে অন্যান্য শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালান৷ ওই সময় ১৪ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন খনিগর্ভে৷ প্রায় ২০০ ফিট নিচে এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার খবর উপরে পৌঁছায় প্রায় আধ ঘণ্টা পরে৷ বিরাট কয়লার চাঙড়ের নিচে চাপা পড়ে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে দুই শ্রমিকের৷ ইসি‌এলের অন্যান্য আধিকারিকরা খনিগর্ভে গিয়ে শুরু করেন উদ্ধার কাজ৷ ততক্ষণে সকাল ১১টা বেজে গিয়েছে৷

[ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ভিনরাজ্যের যুবকের দেহ, চাঞ্চল্য মধ্যমগ্রামে]

কিন্তু, নিচে কয়লার স্তূপ থেকে দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা৷ উদ্ধার কাজে বিলম্ব হতে দেখে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সহকর্মীদের মধ্যে৷ এদিকে মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়৷ ইসিএলের নিয়মানুযায়ী কর্মরত শ্রমিকের মৃত্যু হলে যা ক্ষতিপূরণ মেলে, তা নিতে অস্বীকার করে সহকর্মীরা৷ একদিকে দেহ উদ্ধারে বিলম্ব অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবি নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে খোট্টাডিহি দুই নম্বর কোলিয়ারি৷ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে ইসিএলের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হন শ্রমিকরা৷ ক্ষোভের পারদ চড়তে থাকলে ঘটনাস্থলে যায় ইসিএলের সিআইএসএফ ও পান্ডবেশ্বর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী৷ কিন্তু, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন তারাও৷ দিন গড়াতেই ইসিএলের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে আসতে থাকেন৷ পান্ডবেশ্বরের জিএম অনিল কুমার ঝাঁও খনি গর্ভে গিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন৷ তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান খনি শ্রমিকরা৷ খবর পেয়ে পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও ঘটনাস্থলে যান৷ তিনিও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন৷

[বাজি কারখানায় বিধ্বংসী আগুন, জখম অন্তত সাত]

প্রত্যক্ষদর্শী খনিকর্মী জগবন্ধু ঘোষের অভিযোগ, “কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটল৷ শ্রমিক সুরক্ষায় নূন্যতম নিরাপত্তাও দেওয়া হয় না আমাদের৷ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জেরেই প্রাণ হারাতে হল দুই শ্রমিককে৷” খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের দ্বিগুণ দাবি করা হয়েছে৷ কর্তৃপক্ষ তা মেনেও নিয়েছেন৷ তবে আমি বুঝতে পারি না, সবসময়ই খনি শ্রমিকরাই বারবার কেন দুর্ঘটনার মুখে পড়েন?” মৃতের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা, সৎকারের খরচ ও চাকরি দেওয়া ইসিএলের ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের মধ্যে পড়ে৷ কিন্তু, সহকর্মীরা ও বিধায়ক স্বয়ং ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় থাকেন৷ ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে ইসিএলের সিএমডির কারিগরি সচিব নীলাদ্রি রায় বলেন,‘‘ নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণে দেওয়া হবে৷ আর্থিক ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির যে দাবি তোলা হয়েছে তা উপরমহলে পাঠানো হয়েছে৷’’

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে