BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

প্রেমেই বুঁদ, ট্রেনের হর্ন শুনতে না পেয়ে কাটা পড়ল কিশোর-কিশোরী

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 11, 2017 12:55 pm|    Updated: September 20, 2019 11:41 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাড়িতে সম্পর্ক নিয়ে অশান্তি। এখনও পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে ঢের বাকি। তাহলে কী হবে? রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে এই নিয়ে আলোচনায় বুঁদ হয়ে অকালে দুরন্ত গতির ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল প্রেমিক-প্রেমিকার। সোমবার আপ লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালের তলায় কাটা পড়ল রিম্পা মোদক (১৫) ও তাপস হালদার (১৭) নামের দুই স্কুল পড়ুয়া। এদিন সকাল আটটা নাগাদ চোখের সামনে মর্মান্তিকভাবে দুই উঠতি প্রাণের স্পন্দনের এমন পরিসমাপ্তিতে হতবাক দক্ষিণ বারাসত স্টেশনের যাত্রীরা। ঘটনায় শোকের ছায়া দুই পরিবারে। দু’জনের কাছ থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

[মাদকচক্রের পর্দাফাঁস, রেভ পার্টির আগে পার্ক স্ট্রিটের নাইটক্লাবের ডিজে-সহ ধৃত ৩]

দক্ষিণ বারাসত স্টেশন লাগোয়া গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকাল আটটা নাগাদ দুজনে ঘনিষ্ঠ হয়ে রেললাইন ধরে হাঁটছিল। পিছন দিক দিয়ে ট্রেন আসে। প্ল্যাটফর্ম থেকে চিৎকার করে তাদের সরে আসতে বলা হয়। কিন্তু সে চিৎকারে আমল দেয়নি যুগল। অনেকেই তাদের এই নির্বিকার ভাব দেখে বলছেন, ইচ্ছে করেই রেললাইন ধরে হাঁটছিল দু’জন। মরতেই চেয়েছিল তারা। তবে কেউ বলছেন, প্রেমে মজে ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পায়নি প্রেমিক-প্রেমিকা।

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রিম্পা মোদক। ১৫ বছরের রিম্পার সঙ্গে বছর সতেরোর তাপস হালদারের সম্পর্ক দেড় বছরের। জয়নগর কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র তাপস। বাড়ি থেকে আপত্তি ছিল তাদের এই সম্পর্কে। রিম্পার বাড়ি থেকে বেশ কয়েকবার শাসানিও দেওয়া হয়েছিল তাপসকে। “মেয়ের পিছু না ছাড়লে ভাল হবে না।” বয়সে দুজনেই নাবালক। যদি সত্যিই আলাদা করে দেয় বাড়ি থেকে? এদিন সকালে এই যুগলকে হাত ধরে ডাউন রেললাইনের উপর দিয়ে হাঁটতে দেখেন অনেকে। বারবার তাদের বলা সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে ডাউন লাইনের উপর দিয়ে হাঁটছিলেন দু’জন। আচমকাই একটি ট্রেন চলে আসে। চিৎকার জুড়ে দেন সকলে। ট্রেন চালক বারবার হুইসেল দিলেও যুগলকে নড়ানো যায়নি। চলন্ত ট্রেনের সামনে ভ্রুক্ষেপহীন ছিল দু’জন। ট্রেন চলে যাওয়ার পর দেখা যায় লাইনে পড়ে আছে দু’জন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন আরপিএফ-এর কর্মীরা। দেহদু’টি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় ভেঙে পড়েছে দুই পরিবার। মেয়েটির মা জানিয়েছেন, “আমার মেয়ে তাপসকে ভালবাসত। সেই নিয়ে রবিবার বাড়িতে বকাঝকা করেছি। কিন্তু তার জন্য এমন কাণ্ড ঘটাবে ভাবতেও পারছি না।”

[যৌনপল্লির কচিকাঁচাদের সঙ্গে প্রথম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন এই দম্পতির]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement