ব্রতীন দাস: পাহাড়ে বনধ প্রত্যাহারে অনড় মোর্চাকে গতকালই বার্তা দিয়েছে রাজ্য। বনধ তুললে তবেই কথা হবে বলে জানিয়ে দেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনে পর্যটক, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভুক্তভোগী দার্জিলিংয়ে একাধিক বোর্ডিং স্কুলের পড়ুয়ারা। তাই পড়ুয়াদের পাহাড় ছাড়ার সুবিধার্থে ১২ ঘন্টার জন্য বনধ শিথিল করল মোর্চা। ইতিমধ্যেই পাহাড়ের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি পড়েছে। দশদিন পর ৩ জুলাই ফের খুলবে স্কুলগুলি। কিন্তু অগ্নিগর্ভ পাহাড়ে আর থাকতে চাইছে না পড়ুয়ারা। চিন্তিত অভিভাবকরাও। বৃহস্পতিবার রাতভার শিলিগুড়িতে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন অভিভাবকরা। শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই প্রচুর বাস পাহাড় থেকে সমতলে নিয়ে আসে হাজার হাজার পড়ুয়াকে। সেনাবাহিনী কড়া প্রহরায় সেই বাসগুলিকে সমতলে নিয়ে আসে। নর্থ পয়েন্ট, হরমন, গথেল, ডাও হিলের মতো নামী বোর্ডিং স্কুলগুলিতে পাঠরত পড়ুয়াদের অভিভাবকরা এদিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। নর্থ পয়েন্টের অধ্যক্ষ ফাদার সাজ্জুমন জানিয়েছেন, এদিন ৪৬৬ জন পড়ুয়াকে ৫৫টি গাড়িতে করে সমতলে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। পড়ুয়াদের আশা, গরমের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই পাহাড়ে শান্তি ফিরবে। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে দিয়ে আজই জিটিএ ছাড়তে চলেছে মোর্চা। ফের নতুন করে পাহাড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল।
[বনধ তুললে কথা হবে, মোর্চাকে বার্তা রাজ্যর]
সিংমারিতে উত্তেজনার পরপরই বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। পুলিশ তার পাতলেবাসের বাসভবন ও পার্টি অফিসে অভিযান চালিয়ে প্রচুর অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করে। তার খোঁজে পাহাড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ও সিআইডি। গোয়েন্দাদের অনুমান ছিল, নেপালে পালিয়ে গিয়েছে গুরুং। কিন্তু সব জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবারই আত্মপ্রকাশ করে গুরুং। একটি সর্বভারতীয় নিউজড চ্যানেলের মাধ্যমে ফের দেখা দেয় গুরুং। সেনা জওয়ানদের মতো জলপাই রঙা পোশাক গায়ে জঙ্গিনেতাদের মতো আত্মপ্রকাশ করে গুরুং। সাফ জানিয়ে দেয়, পাহাড়ে দমননীতি প্রয়োগ করলে পস্তাতে হবে মমতাকে। পাহাড়ের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে এ জবাব দেবে। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে এখনও অনড় গুরুং। কুখ্যাত মাও নেতা কিষেনজির মতোই তাকেও খুন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা গুরুংয়ের। তবে তার বক্তব্য, মোর্চা তথা পাহাড়বাসীই তাকে সামনে না আসতে অনুরোধ করেছে। তাই নেপথ্যে থেকে আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুর শোনা গিয়েছে গুরুংয়ের গলা থেকে। সে জানিয়েছে, আজই সভাসদরা জিটিএ ছাড়বেন। তাঁরা গুরুংয়ের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। জিটিএ-র চেয়ারম্যান হিসাবে সবার পদত্যাগপত্র জিটিএ-র প্রধান সচিব বরুণ রায়ের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলেছে গুরুং। জিটিএ ছাড়ার পরই পাহাড়ে পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে বৈঠকে বসবে মোর্চা ও তাদের শরিকরা।
সর্বশেষ খবর
-
খাস কলকাতায় নাবালিকাকে ‘গণধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত
-
ঠেকেও শিখল না ভারত! ইংল্যান্ডেও হল না বৈভবের অভিষেক, শ্রেয়সের প্রথম একাদশে কারা?
-
সিকিমজুড়ে রয়েছে জনশ্রুতি! অবশেষে ক্যামেরাবন্দি বিলুপ্তপ্রায় ‘ইউরেশিয়ান লিংক্স’
-
আদালতে ১৫টি নথি জমা দিয়েও ভারতীয় নাগরিক প্রমাণে ব্যর্থ, কী ভুল হল অসমের ব্যক্তির?
-
জ্বালানির বাজারে বিশ্বগুরু! ‘তৈলভাণ্ডার’ রাশিয়ার সংকটে গ্যাসোলিন পাঠাচ্ছে ‘বন্ধু’ ভারত