চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: ত্যাগ, সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির গড়ল আসানসোল। গোটা এলাকা সাক্ষী রইল এক বিরল ঘটনার। বিজয়া দশমীর কারণে পিছিয়ে দেওয়া হল মহরমের মিছিল। দশমী ও একাদশীর বদলে দ্বাদশীর দিন, সোমবার সেখানে বেরোল মহরমের মিছিল। দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঢাক-ঢোল বাজানো শেষ করে হিন্দু ঢাকি-ঢোলক বাদকরা শামিল হয়েছেন মহরমের মিছিলে। মহরমের মিছিলে ছিল ট্যাবলোও। থিমের ট্যাবলো। যেখানে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
[উত্তরপ্রদেশ সরকারের দ্রষ্টব্য স্থানের তালিকা থেকে বাদ তাজমহল!]
ঘটনা প্রসঙ্গে আসানসোলের সেন্ট্রাল মহরম কমিটির সভাপতি হাজি আবদুল জলিল বলেন, “সুসজ্জিত ট্যাবলোগুলিতে থিম ছিল রাষ্ট্রীয় ঐক্য।” রেলপাড় মহরম কমিটির সভাপতি তথা তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ কুরবান আলি বলেন, “জিটি রোডের উপর বিভিন্ন শিবির করা হয়। পুলিশ, পুরনিগম, বাজার কমিটি ও তৃণমূল কংগ্রেসের ওই শিবির থেকে আখড়াগুলিকে চা ও শরবত বিতরণ করা হয়। সোমবার আসানসোলের ৩৫টি মহরম আখড়া কমিটি সুসজ্জিত তাজিয়া নিয়ে বের হয় জিটি রোডের ওপর। এই তাজিয়াগুলি প্রত্যেকটিই শতবর্ষ প্রাচীন। আসানসোল সেন্ট্রাল মহরম কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসরফ আলি খান জানান, আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণের মহরম আখড়ায় অংশগ্রহণকারীরা লাঠি খেলার প্রদর্শন করেন জিটি রোডের উপর। আসানসোলের কুমারপুর থেকে বাবুয়াতালাও পর্যন্ত তাজিয়াগুলিকে নম্বরে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। নিজ নিজ এলাকা থেকে প্রশাসনের সহযোগিতায় সেগুলি বের হয় রাস্তায়।
[প্রাক্তন রেলমন্ত্রীকে নোংরা জল, ফের বিতর্কে ভারতীয় রেল]
প্রশ্ন হল সর্বত্র রবিবার মহরমের তাজিয়া বের হলেও আসানসোল ব্যতিক্রম কেন? পুরনিগমের আইনি উপদেষ্টা তথা তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “হিন্দুদের সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে মুসলিম ভাইয়েরা একদিন পর তাজিয়া ও আখড়া বের করেছে। পুজোর আগে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ই একথা ঘোষণা করা হয়েছিল।” এক-একটি আখড়ার লাঠি খেলা প্রদর্শনীতে বাজানো হয় ডঙ্কা। স্থানীয় ভাষায় ডঙ্কা বা ঢোল যাঁরা বাজাচ্ছেন, তাঁরা সকলেই বাদ্যকর তথা হিন্দু। মহিশীলা কলোনির মোহন বাদ্যকর জানান, দশমীর রাতেই দুর্গাপুজো শেষ করেছেন তাঁরা। বাড়িতে ঢাক রেখে ঢোল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন দ্বাদশীর সন্ধ্যায়। আর এক বাজনাদার চণ্ডী বাদ্যকর জানান, মহরমের আখড়ায় তাঁদের প্রতি বছর ডাক পড়ে।
[তরুণীর দিকে তাকিয়ে চলন্ত ট্রেনেই হস্তমৈথুন, তারপর…]
মহরমের তাজিয়ায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য শ্রম ও আইন দফতরের মন্ত্রী মলয় ঘটক, মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি, বিধায়ক তথা এডিডিএর চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা। আসানসোলের অদূরেই জন্মগ্রহণ করা এক কবি লিখেছিলেন, ‘মোরা একই বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু মুসলমান’। নজরুলের লেখা সেই ভাষাই যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হল এখানে।
[জাতীয় সংগীত চলাকালীন না দাঁড়ানোয় ‘পাকিস্তানি’ তকমা প্রতিবন্ধীকে]
সর্বশেষ খবর
-
১১ বছর ধরে শরীরে রোগ পুষছেন দিলজিৎ, করছেন না অস্ত্রোপচারও! কেন উদাসীন অভিনেতা?
-
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে কেপ ভার্দের অধিনায়কের ধর্ষণ-কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন, কী পদক্ষেপ ফিফার?
-
ডে-কেয়ারেও শিশুদের উপর নির্যাতন! নিশ্চিন্তি কোথায়?
-
যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ‘জিরো ইয়ার’, ব্যাপারটা কী?
-
গুরুতর অসুস্থ প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়! ভর্তি জয়পুরের হাসপাতালে, আজই অস্ত্রোপচার