Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Murshidabad

বাবা বলেছিল মাধ্যমিক শেষ হলেই বিয়ে, পরীক্ষা না দিয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ ছাত্রীর! তারপর…

মনের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক যেন গেঁথে গিয়েছিল। বাবা বলেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই তার বিয়ে! তাহলে পড়াশোনা, বড় হওয়ার স্বপ্ন, সেসবের কী হবে? মাধ্যমিক পরীক্ষার থেকে কি তার গঙ্গায় ঝাপ দেওয়া সহজ মনে হল? যদিও কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

Advertisement
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৪:৫১

link
শাহজাদ হোসেন
শাহজাদ হোসেন

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৪:৫১

options
link
বাবা বলেছিল মাধ্যমিক শেষ হলেই বিয়ে, পরীক্ষা না দিয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ ছাত্রীর! তারপর… zoom
প্রতীকী ছবি।

মনের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক যেন গেঁথে গিয়েছিল। বাবা বলেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই তার বিয়ে! তাহলে পড়াশোনা, বড় হওয়ার স্বপ্ন, সেসবের কী হবে? মাধ্যমিক পরীক্ষার থেকে কি তার গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়া সহজ মনে হল? যদিও কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ছুটে যান থানার আইসি। শুধু তাই নয়, ওই ছাত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান। সেই কথায় আশ্বস্ত হয়ে পরীক্ষার হলে গেল ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ফরাক্কায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কা ব্লকের নিউ ফরাক্কা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ওই কিশোরী। এবার সে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সিট পড়েছে নয়নসুখ গ্রামপঞ্চায়েতের স্বর্ণময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে। ওই ছাত্রীর বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার টাউনশিপ মোড়। গতকাল, সোমবার থেকে রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার মাধ্যমিকের ইংরাজি পরীক্ষা।

Advertisement

এদিন বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে বেরিয়েছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু পরীক্ষার হলে না গিয়ে সে চলে যায় নয়নসুখের ব্রাহ্মণনগর গঙ্গার ঘাটে। সেসময় ঘাটে অন্যান্যরা ছিল। সকলের সামনে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’র চেষ্টা করে সে। নয়নসুখ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি লালু শেখের তৎপরতায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যায় ফরাক্কা থানার আইসি সুজিত পাল। এদিকে উদ্ধারের পরই ওই ছাত্রী কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে। আইসি সুজিত পাল সেখানে পৌঁছন। পরম স্নেহে ওই কিশোরীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিছু সময় পর শান্ত হন সে। তারপর যে কথা ওই ছাত্রী বলল, তা নাড়িয়ে দেওয়ার মতো। ওই ছাত্রীর কথায়, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই বাবা-মা তার বিয়ে দিয়ে দেবে। বিয়ে করার কোনও ইচ্ছাই তার নেই। কিন্তু বাড়ির লোক তার কোনও কথাই শুনতে কানে তুলছে না। জোর করেই বিয়ে দেওয়া হবে, সেকথাও জানানো হয়। সেজন্যই গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়া তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল!

এইসব শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন ওই গঙ্গার ঘাটে থাকা সকলে। আইসি সুজিত পাল মেয়েটিকে জানান, তার বিয়ে এখন পরিবার দিতে পারে না, সে নাবালিকা। তিনই আরও বলেন, “আমি দায়িত্ব নিচ্ছি তোমার। তুমি পরীক্ষায় বস।” শুধু তাই নয়, বাড়ির ফোন নম্বর নিয়ে সুজিত পাল মেয়েটির বাবা-মাকে ফোনও করেন। থানায় যত দ্রুত সম্ভব দেখা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এরপরই ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী পরীক্ষায় বসেছে।

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.