পলাশ পাত্র, তেহট্ট: দিনের পর দিন মদ্যপ স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন মহিলা। তাই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে আত্মহননের পথই বেছে নিলেন। তবে শুধু একা নন, দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘরের মধ্যে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন মা। মঙ্গলবার রাতে তেহট্ট থানার পূর্ব নওদা পাড়ার নৃশংস এই ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।
[দিঘায় ট্রেন সফর আরও আকর্ষণীয়, কোচের সব দায়িত্ব মহিলাদের হাতে]
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সাগরী বিবি(২৬) এবং দুই সন্তান হালিমা খাতুন(৬), সরমিনা খাতুন(৪)। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, কিছুদিন হল বাইরের রাজ্য থেকে কাজ করে বাড়ি ফিরেছে স্বামী তুহিন দফাদার। তারপর থেকে প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ঢুকত সে। যার জেরে কয়েকদিন ধরে বাড়িতে অশান্তি লেগেই ছিল। বাড়ি ফিরে স্ত্রীর উপর অমানবিক অত্যাচার চালাত। মঙ্গলবার দুপুরেও একই ঘটনা ঘটে। বেশ খানিকক্ষণ ঝগড়া হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সাগরী বিবিকে খুব মারধর করে স্বামী। তারপর বেরিয়ে যায়। সন্ধেতেও স্বামী তুহিন দফাদার বাড়িতে ছিল না। আর তার অনুপস্থিতিতেই রাত ন’টা নাগাদ ঘরের মধ্যে চারকোল কেরোসিন দিয়ে আগুন জ্বালান সাগরী বিবি। নিজের ও দুই শিশুকন্যার গায়েও কেরোসিন ঢালেন। দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। বন্ধ জানলা-দরজা পেরিয়ে দুই শিশুকন্যা ও মায়ের অগ্নিদগ্ধ হয়ে আর্তনাদ বাইরে পৌঁছয়। কাতর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আগুনে ঝলসে গিয়েছে তিনটি প্রাণ।
[ষাঁড়েরও শ্রাদ্ধ! নিয়ম মেনে সমস্ত আচার পালন তৃণমূল কাউন্সিলরের]
পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় সাগরী বিবি ও তাঁর দুই সন্তানের মৃতদেহ। এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। তুহিন দফাদারের বাড়ির সামনে ভিড় জমে যায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘ অবসাদে ভুগে স্বামীর হাত থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যাই করেছেন ওই মহিলা। যদিও এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
‘টিকিট কেটে ধর্ষকদের অঙ্গহানি দেখব’, বারুইপুরকাণ্ডে বোমা ফাটালেন পৌষমিতা
-
কোচবিহারে ডিম-হামলার মুখ মীনাক্ষী! ক্ষুব্ধ সিপিএম নেত্রী গাড়ি থামিয়ে বললেন, ‘আগে গ্রেপ্তার হোক’
-
‘সিঁদুর’ দাপানো ব্রহ্মস চুক্তিতে সিলমোহর! ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানেও ভূষিত মোদি
-
মোদি হাজির, মাত্র তিনদিনেই ১২৪ কোটি খরচ রামমন্দিরের! হিসাব দেখে চক্ষু চড়কগাছ, শুরু তদন্ত
-
অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ সামলাতে কৃত্রিম মেধাই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী