সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের শিশুর নির্মম হত্যাকারী মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুর এখনও অধরা। এর মধ্যেই নির্যাতিতা শিশুটির মা মঙ্গলাকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল শিশু সুরক্ষা কমিশনের নির্দেশে গঠিত সামাজিক কমিটি। শুধু মঙ্গলার সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে সুচ ফুটিয়ে ‘খুন’ নয়, প্রথম পক্ষের স্ত্রী প্রভাবতী ঠাকুরকেও নাকি পিন গিলিয়ে মেরে ফেলেছিল সনাতন! এমনকী প্রভাবতী দেবীর মৃত্যুর পর পাড়া-পড়শি ময়নাতদন্তের কথা বললেও এড়িয়ে গিয়েছিল ওই অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ড। সম্প্রতি সামনে এসেছে এমনই ভয়ানক তথ্য।
[জাল মার্কশিট চক্রের পাণ্ডা খোদ কলেজ ছাত্র, তাজ্জব তদন্তকারীরা]
মাত্র সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে মেরে ফেলার পর কী পরিকল্পনা ছিল সনাতন ঠাকুর ও মঙ্গলার? মঙ্গলাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, পরে সনাতন ও মঙ্গলা নাকি উত্তরপ্রদেশে চলে যেত। বৃন্দাবনে গিয়ে কীর্তন, বাউল গান করে দু’জনে টাকা রোজগার করার পরিকল্পনাও ছিল। গত বুধবার থেকে টানা পাঁচদিন পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত করছে। আগামী সোমবার জেলাশাসক অলোকেশ প্রসাদ রায়ের কাছে সেই তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তবে মঙ্গলার প্রথম পক্ষের স্বামী লক্ষীকান্ত গোস্বামী ও মূল অভিযুক্ত সনাতন বেপাত্তা থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি ওই কমিটি। জানা গিয়েছে, কমিটি লক্ষীকান্তর আচরণ নিয়েও নাকি প্রশ্ন তুলেছে। ওই সামাজিক কমিটির চেয়ারম্যান তথা পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) উত্তমকুমার অধিকারী বলেন, “ সনাতনের নাতনি নাকি মঙ্গলাকে বলেছিল তার দাদু, দিদিমাকে পিন গিলিয়ে দিত। এমনকী স্ত্রী-র মৃত্যুর পর পাড়া-পড়শিরা ময়নাতদন্ত করতে বললেও নাকি সুকৌশলে সনাতন বিষয়টি এড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর মঙ্গলা ও সনাতন বৃন্দাবনে থাকার পরিকল্পনাও নিয়েছিল।” সনাতনের প্রথম পক্ষের স্ত্রী-র বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছিল মফস্বল থানার ঘোঙা গ্রামে। সেখানেই নাকি সনাতনের নাতনি মঙ্গলাকে এই কথা জানিয়েছে।
[গাফিলতিতে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ, হদিশ ভুয়ো চিকিৎসকের]
ইতিমধ্যেই মঙ্গলা এই কমিটির কাছে স্বীকারও করেছে, তার শিশুকন্যাকে সনাতন যৌন নির্যাতনও করত। কিন্তু কীভাবে ওইটুকু শিশুকে সনাতন সুচ বিদ্ধ করত সেটা জানায়নি সে। মঙ্গলা শুধু জানিয়েছে, ঘরের কাঁথা সেলাইয়ের নামে সনাতন তাকে সুচ আনতে বলত। তবে কমিটির ধারণা, এই গোটা বিষয়টিই মঙ্গলা জানে। জেরার সময় তার শরীরী ভাষা নাকি সেই কথাই প্রমাণ করেছে বলে দাবি কমিটির। এমনকী শিশুকে অত্যাচার-সহ তার দু’হাত ভাঙার বিষয়টি মঙ্গলা জানত বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সনাতনের প্রথম স্ত্রী-র মৃত্যুর পর সে যেমন রোগ-অসুখের কথা বলে চালিয়ে দিয়েছিল, তেমনই মঙ্গলার শিশুকন্যার বেলাতেও তুলে এনেছিল অসুস্থতার কারণ। এছাড়াও জানা গিয়েছে, হোলিতে মঙ্গলাকে বিয়ে করার আগে প্রায় দেড় মাস উত্তরপ্রদেশে কাটিয়ে এসেছে সনাতন। সনাতনের বন্ধু-বান্ধবরাও ওই কমিটিকে জানিয়েছে, সনাতন নাকি গাঁজার নেশা করত। আপাতত পুলিশ এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই সনাতনের খোঁজ করছে।
[শিশুপাচার কাণ্ডে তাঁর কী ভূমিকা, রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ সিআইডির]
সর্বশেষ খবর
-
রণবীরের মেগাবাজেট ‘রামায়ণ’-এর দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে! কেন আপত্তি উঠল?
-
‘ফ্রান্স ফেভারিট কে বলল?’, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে নকআউটে নামার আগে প্রশ্ন তুলে দিলেন ইয়ামাল
-
পরিচালক হিসেবে অবসরগ্রহণের সিদ্ধান্ত, মহেশের ঘোষণায় ‘জখম’ ভক্তহৃদয়
-
মমতার নির্দেশে অভয়ার ভিসেরার নমুনা নষ্ট! আর জি কর কাণ্ডে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য
-
‘আমার সুন্দরী বোন’ বললেন তাকাইচিকে, ভারতের বিকাশে জাপানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা মোদির