স্টাফ রিপোর্টার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: আধপেটা খেয়েই থাকতে হয়। নিজের বাড়ি থেকেও উৎখাত করেছে ছেলে। দুঃসহ এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছেন না মা। জীবন থেকে নিষ্কৃতি চেয়ে তাই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করলেন বাসন্তী থানা এলাকার সুভদ্রা কয়াল।
সত্তর ছুঁইছুঁই বয়স তাঁর। বড় ছেলে অন্যত্র থাকে। ছোট ছেলে মৃত্যুঞ্জয় কয়াল আর পুত্রবধূ সুষমা কয়ালের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। সুভদ্রাদেবীর অভিযোগ, দিনের পর দিন খেতে দেয় না ছোট ছেলে। বাড়ির সমস্ত কাজ অশক্ত শরীরেও করতে হয় তাঁকে। ছেলের বউয়ের সাফ জবাব, “কাজ করতে না পারেন তো অন্য পথ দেখুন।” শেষ বয়সে কোথায় যাবেন জানেন না বৃদ্ধা। হাল ছেড়ে তাই মহকুমা শাসকের কাছে চিঠি লিখেছেন বৃদ্ধা। হঠাৎ মৃত্যুর আবেদন? “দিন কয়েক আগে নাকি সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করতে পারেন। এই বয়সে আমিই বা কোথায় যাব। ছেলের বউয়ের মার খাওয়ার চেয়ে এবার চলে যাওয়াই ভাল।” চোখ মোছেন সুভদ্রাদেবী।
[মাছ চাষেই ১৫০ বিঘা জমিতে সোনা ফলাচ্ছেন আরতি, সেরার স্বীকৃতি কেন্দ্রের]
তবে অবস্থা এরকম ছিল না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার মসজিদবাটি এলাকায় নিজের নামে সরকারি পাট্টা পাওয়া ১৪ শতক জায়গা ছিল সুভদ্রাদেবীর। সেখানে মাটির ঘর বানিয়ে থাকতেন তিনি। অভিযোগ, বাবা মারা যাওয়ার পর সেখান থেকে মেরে মাকে বের করে দিয়েছে ছেলে। মাটির বাড়ি ভেঙে পাকা বাড়ি বানিয়েছে নিজের জন্য। সে বাড়ির কাজ এখনও শেষ হয়নি। মাথা গোঁজার ভিটে হারিয়ে রাস্তাতেই থাকেন তিনি। ছেলের বিরুদ্ধে বাসন্তী থানায় অভিযোগও জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
ছেলে ও বউমার অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে কখনও মেয়ের বাড়িতে থাকেন তিনি। কখনও আবার বড় ছেলের কাছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। ছোট ছেলের অত্যাচারের ঘটনা জানিয়ে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে। বাড়ি ফিরে পেতে দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের। কিন্তু তাতে ফল হয়েছে হীতে বিপরীত। “ছেলে-বউমা হুমকি দিয়েছে কোথাও অভিযোগ জানালে প্রাণে মেরে ফেলবে। যাঁকে হাতে করে মানুষ করলাম। সে-ই এখন মেরে ফেলতে চাইছে।” মায়ের এখনও আশা, ছোট ছেলে ভুল বুঝতে পেরে বাড়িতে ডেকে নেবে। যদিও নিরুত্তাপ ছোট ছেলে মৃত্যুঞ্জয়। উল্টে গোটা ঘটনা অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, যে জমিতে বাড়ি করছি সেটা আমারই। জীবদ্দশায় আমাকে বাবা এই জমি দিয়েছিল। তাতেই ঘর বানিয়েছি। মায়ের মাটির ঘর ভেঙে আমি ঘর বানিয়েছি বলে যে কথা রটছে তা ঠিক নয়। মায়ের ঘরও আমি ভাঙিনি। ওটা এমনিই ভেঙে পড়ে গিয়েছিল।
ছেলের কথা মানতে নারাজ মা। শুধু স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন জানিয়েই থেমে থাকেননি। জমি ফিরে পেতে ক্যানিং মহকুমা সিনিয়র সিটিজেন ট্রাইব্যুনালে মামলাও করেছেন। তবে এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। পুরো বিষয়টি শুনে মহকুমা শাসক অদিতি চৌধুরী বৃদ্ধাকে আশ্বাস দিয়েছেন। ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
[ব্যর্থ চিকিৎসকরা, বাঁচানো গেল না জলপাইগুড়ির বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুকে]
সর্বশেষ খবর
-
‘প্লিজ, ছেড়ে যেও না’, নেইমারকে কাতর আর্তি বাবার, অবসর ভেঙে ফিরবেন ব্রাজিল মহাতারকা?
-
‘শুধু খেলতে আসিনি, দেখিয়ে দিলাম জিততে এসেছি’, বলছেন ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ড
-
পরিবারের জন্য অপরিহার্য পাঁচ জরুরি বিমা কভার, জেনে নিন বিস্তারিত
-
দুই রাজ্যে দুই সংসার, দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে ৪০ বছর পর প্রথমার সন্তানদের কাছে ফিরলেন মোতাহার
-
স্কুলেই জীবনরক্ষার পাঠ, রাজ্য সরকারের অভিনব এই উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়