জলের মধ্যে শালুকপাতার উপর বসে থাকতে চান? উপভোগ করতে চান পরিবেশ? পদ্ম-শালুকপাতায় জলের কথা বাংলা সাহিত্যে রয়েছে বরাবর। সিনেমাতেও অনেক সময় এই দৃশ্য দেখা যায়। এবার সেই শালুক পাতাতেই বসবে মানুষ? এমনটাই হতে চলেছে হাওড়ার শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে। অনেকটা পদ্মপাতার মতো দেখতে জায়ান্ট ওয়াটার লিলি বা দৈত্যাকার শালুকের পাতার উপর রীতিমতো বসে থাকা যাবে।
গত কয়েক দিন ধরে বি গার্ডেনে যে সমস্ত দর্শনার্থী যাচ্ছেন, তাঁরা অনেকেই জলে ভাসমান এই পাতার উপর বসে অ্যাডভেঞ্চারের অনুভব নিচ্ছেন। বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষের তরফেও দর্শনার্থীদের এই অ্যাডভেঞ্চার নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে। গার্ডেন কর্তৃপক্ষ জলাশয় এই পাতার চাষ করে এখন এখানে বসার ব্যবস্থা করছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের ১ নম্বর গেট থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে জলাশয়ের গভীরতা অংশ চিহ্নিত করে এই পাতায় ভেসে থাকার অ্যাডভেঞ্চার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের ইতিহাসে এই উদ্যোগ প্রথম। গার্ডেন কর্তৃপক্ষ এর নাম দিয়েছেন ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি রাইড’।
আরও পড়ুন:

কিছুদিন আগেই বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর ড. কনাদ দাসের উপস্থিতিতে এই জায়েন্ট ওয়াটার লিলির পাতায় ভেসে থাকার অ্যাডভেঞ্চারের সূচনা হয়। গত কয়েক দিনে গার্ডেনের বিশেষজ্ঞ কর্মচারী থেকে শুরু করে গার্ডেনে আসা বহু সাধারণ মানুষ ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকার এই পাতায় বসেছেন। এই পাতায় ৯৫ কেজি ওজনের একজন মানুষ বসতে পারছেন। প্রত্যেক দিন দুপুর ১২টা থেকে ৩ টে পর্যন্ত বোটানিক্যাল গার্ডেনে এলে এই পাতায় বসা যাচ্ছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, আর দিন ১৫ এই পাতায় বসা যাবে।
ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকার এই বৃহৎ পাতার শালুক গাছে ফুল আসার আগে পর্যন্ত বড় বড় পাতা দেখা যায়। সেই সময়ে নির্বাচন করেই দর্শনার্থীদের এই শালুকের পাতায় বসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার পর ধীরে ধীরে এই পাতা ছোট হয়ে গেলে আর বসা যাবে না। এর আগে একজন শিশুকে পাতায় ভেসে থাকতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ৯৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের পূর্ণবয়স্ক মানুষও এই পাতায় বসে ভাসছেন। বি গার্ডেন সূত্রে খবর, অন্যান্য উদ্ভিদের মতোই আমাজনের জঙ্গলের দৈত্যাকার শালুক ‘ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা’ নিয়ে আসা হয়েছিল বি গার্ডেনে। প্রথমে একটি স্থানেই সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল এই জায়ান্ট ওয়াটার লিলিটি। ২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘আমফানে’ এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের কাছে সহজে প্রদর্শন—উভয় দিককে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যানের বিভিন্ন প্রান্তে ১৬টি জলাশয়ে এই জলজ উদ্ভিদটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বি গার্ডেনের গবেষক ড. আর. সরবানন জানান, ‘‘বর্তমানে গার্ডেনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ও কৌতূহলের বিষয় জায়ান্ট ওয়াটার লিলি। এই জলজ উদ্ভিদের কাঁটাযুক্ত লম্বা কাণ্ড এবং বিশাল আকৃতির পাতা। ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা জায়ান্ট ওয়াটার লিলি ফুলটি পাতার তুলনায় অনেকটাই ছোট, এই ফুল গোলাপি বর্ণের হয়। এই জলজ উদ্ভিদ তার বৃহৎ পাতার জন্য বিখ্যাত। এই পাতায় একজন শিশু ভেসে থাকতে পারে—এমন দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন বা জানেন। কিন্তু ৯৫ কেজি ওজনের পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিও যে এই পাতার উপর অনায়াসে ভেসে থাকতে পারেন, সেটিই এখন বি গার্ডেনের নতুন আকর্ষন।’’ উল্লেখ্য, বৃহৎ পাতার উপর ও নিচে দুটি ভাসমান উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই পাতাটি ভেঙে বা ছিঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সাফ বার্তা, হরমুজে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইরানকেও সমঝে দিলেন মোদি?
-
প্রাচীন সাহিত্যের হাত ধরে বন্ধুত্বে জোর! ব্রিকসে পুতিনকে তামিল গ্রন্থের অনুবাদ উপহার মোদির
-
ব্রিকসের মেনুতে বাংলার কুচো নিমকি, প্রিয় স্ন্যাকস কীভাবে বানালে অম্বল হবে না একটুও
-
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ছিনতাইবাজের রমরমা, ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক অভিযোগ! পুলিশি অ্যাকশনে আটক ৬২
-
চুপিসারে হাতিয়ে নিচ্ছে ওটিপি, নজরদারি হোয়াটসঅ্যাপেও! নতুন ম্যালওয়্যার ঘিরে আতঙ্ক