একসময় গ্রামের মাঠে নেমে নিজ হাতে চাষবাস করেন। কৃষকের ঘরে জন্ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হয়ে ওঠা। সেই কৃষক পরিবারের সন্তান দুধকুমার মণ্ডলই আজ রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। রাজ্যের মন্ত্রিসভায় কৃষিদপ্তরের দায়িত্ব পেতেই নিজের শিকড়ের টানে ছুটে গেলেন জন্মভিটে ময়ূরেশ্বরের ব্রাহ্মণবহড়া গ্রামে। আর গ্রামের মাটিতে পা রাখতেই কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা এলাকাজুড়ে। কৃষিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক একজন কৃষক পরিবারের ছেলের হাতে তুলে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির আবহ তৈরি হয়েছে তাঁর এলাকায়।
এই বিষয়ে আরও খবর
দপ্তর ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তিনি পৌঁছে যান নিজের আদি গ্রামে। যে গ্রামে ছোটবেলায় কেটেছে তাঁর দিন, যে গ্রামের মাঠে নেমে চাষের কাজ করেছেন, সেই গ্রামেই ফিরলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী হিসেবে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লালবাতি গাড়িতে করে গ্রামে পৌঁছতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ তাদের প্রিয় ‘দুধদা’কে একঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। গাড়ি থেকে নামতেই শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ফুল বর্ষণের মধ্য দিয়ে গ্রামের মহিলারা বরণ করে নেন নবনিযুক্ত কৃষিমন্ত্রীকে।
ছোট থেকে যাঁদের সঙ্গে বেড়ে ওঠা, সেই আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধবদের ভিড়েও এদিন আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। এরপর গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই খোল-করতাল, ঢাক-ঢোলের তালে গ্রামের আদি বামা কালী মন্দিরে পুজো দেন দুধকুমার। সেখানে মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার পর গ্রামেরই অন্নপূর্ণা মন্দিরেও পুজো দেন তিনি। মন্দির চত্বরে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়। গ্রামবাসীদের অনেকেই বলেন, গ্রামের ছেলে আজ রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ায় তারা অত্যন্ত গর্বিত। বহু মানুষ মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ বা মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
কৃষিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একজন কৃষক পরিবারের সন্তানকে দেওয়া ইতিবাচক বলেই মনে করছেন এলাকার মানুষজন। কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল (Dudhkumar Mondal) জানান, “বুধবারই মন্ত্রিসভার দপ্তর ভাগ করা হয়েছে। এখনও পুরো দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে। আগে জানতে হবে কোন কোন প্রকল্প চলছে, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং কোন কাজগুলো আটকে আছে। সেই জট কাটানোর দিকেই প্রথমে নজর দিতে হবে। ইতিমধ্যেই ময়ূরেশ্বর ১ ও ২ ব্লকের কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে কৃষকদের জন্য যে সমস্ত সুযোগসুবিধা, বীজ ও কৃষি সামগ্রী আসে, সেগুলো যাতে প্রকৃত চাষিদের হাতে পৌঁছায়, সেটাই আমার প্রথম লক্ষ্য। এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ কৃষকদের প্রাপ্য জিনিস তাদের হাতে পৌঁছত না। নেতারা সেইসব সামগ্রী তাঁদের বাড়িতে মজুত রেখে বিক্রি করে দিত বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমি খুব দ্রুত সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাই।” দুধকুমার মণ্ডল আরও জানান, “চাষিরা যাতে উন্নতমানের বীজ পান, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারেন এবং আরও বেশি ফলন করতে পারেন, সেই বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হবে। কৃষকদের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানের চেষ্টা করব। গ্রামের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বেসরকারি স্কুলের সিকরুমে কন্ডোম! উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা, কাঁচরাপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য
-
আইএসএল জয় উদযাপন, শহরে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইস্টবেঙ্গল উত্তরাধিকার’ সমষ্টির
-
বাড়ির আইনি দখল নিতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ, হাসপাতালে তালতলার এস আই
-
‘মহান প্রধানমন্ত্রী, জ্ঞানী ব্যক্তি’, ‘দীর্ঘতম’ সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ‘বন্ধু’ মোদিকে শুভেচ্ছা ট্রাম্পের
-
বন্ধ ‘থ্রেট কালচার’, অভয়া কাণ্ডে যুক্তদের সাজা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আর কী অঙ্গীকার শারদ্বতের?



