Advertisement
Advertisement

ডেঙ্গু রোধে পুরসভার নয়া হাতিয়ার ‘মশাখেকো’ মশা

এই অসাধ্য সাধন করা গেলে কলকাতা থেকে নির্মূল হতে পারে ডেঙ্গু!

New species of mosquito has been found to control dengue
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:September 8, 2016 8:59 am
  • Updated:September 8, 2016 8:59 am

স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গুর মশা নিধনে এবার অসাধ্য সাধন করার লক্ষ্যে কলকাতা পুরসভা৷ কীভাবে? অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো করে৷ এবার ‘মশাখেকো’ মশাকেই অস্ত্র বানিয়ে এডিস মশার লার্ভার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চিন্তাভাবনা করছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ৷ এই অসাধ্য সাধন করা গেলে কলকাতা থেকে নির্মূল হতে পারে ডেঙ্গু!

‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ নামে এই বিরল প্রজাতির এক মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে কলকাতার অন্দরেই৷ যার পরিচয় ‘বন্ধু মশা’৷ সোমবার রাজভবনে ডেঙ্গুর মশা নিয়ে সচেতনতা অভিযানে গিয়ে এই মশার লার্ভার সন্ধান পান স্বাস্থ্য বিভাগের পতঙ্গবিদরা৷ রাজভবনের ন’নম্বর গেটের বাঁদিকের বাঁশঝাড়ে এই মশার লার্ভার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাস৷ তিনিই মেয়র পারিষদকে বিষয়টি জানান৷ এডিস মশার লার্ভাও ছিল সেখানে৷ শুধুমাত্র ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’-এর প্রভাবে বাড়তে পারেনি ডেঙ্গু৷

Advertisement

এদিন ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভাকে এডিস মশার লার্ভা থাকা পাত্রে ছাড়া হয়৷ দেখা যায় কয়েক মুহূর্তে এডিস মশার লার্ভা খেয়ে সাফ করে দিয়েছে ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভা৷ এরপরই সিদ্ধান্ত হয় ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার কিছু লার্ভা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হবে পুরসভার মশা গবেষণাগারে৷ এই বিষয়ে পুরসভার পতঙ্গবিদ দেবাশিসবাবু জানান, “টক্সোরিঙ্কাইটিস মশার লার্ভা গবেষণাগারে তৈরি করা যায় না৷ এরা মানুষকে কামড়ায় না৷ এদের প্রবোসিস ৯০ ডিগ্রি কোণে নিচের দিকে থাকে৷ কোনও রক্ত না খেয়েই এই লার্ভা পরিপুষ্ট হতে পারে৷ বদলে অন্য মশার লার্ভা খায় এরা৷”

Advertisement

তবে সমস্যা হল, গবেষণাগারে এই মশার লার্ভা চাষ সম্ভব নয়৷ কারণ এই মশার লার্ভা তৈরি করতে গেলে তার আগে ডেঙ্গুর মশার লার্ভা তৈরি করতে হবে৷ যা বিপজ্জনক৷ এই ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভা অন্য মশার লার্ভা, গাছের পচা অংশ, জলজ পতঙ্গ খায়৷ এই মশার লার্ভা তৈরির উপযুক্ত পরিবেশও প্রয়োজন৷ প্রায় ৯০ রকমের প্রজাতির বন্ধুমশা রয়েছে৷ তাদের অবস্থান খুঁজে পাওয়া অবশ্য বেশ কঠিন৷ পুর স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, এতদিন ধরে শহরের নানা জায়গায় ডেঙ্গুর অভিযানে গিয়ে এই প্রথমবার রাজভবন থেকে ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ বন্ধুমশার খোঁজ মিলল৷ এই মশার লার্ভা প্রতিদিন ৪০-৫০টি এডিস মশার লার্ভা খেতে পারে৷ ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভা বেঁচে থাকে ২৮ দিন পর্যন্ত৷ হাওয়াই দ্বীপে ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভা প্রজননের চেষ্টা করেছিল আমেরিকা৷ তবে সাফল্য আসেনি৷ কোনওভাবে সেই অসাধ্যসাধন হলে ডেঙ্গু নিয়ে দুশ্চিন্তা ঘুচবে সাধারণ মানুষের৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ