৩০ আশ্বিন  ১৪২৮  রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

ছাত্রজীবনেই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পেয়েছিলেন নিরুপম সেন

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: December 24, 2018 1:18 pm|    Updated: December 24, 2018 1:18 pm

Nirupam Sen got CPM membership during college days

দীপঙ্কর মণ্ডল ও সৌরভ মাজি: ছাত্রজীবনেই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ অর্জন করেছিলেন বাম নেতা নিরুপম সেন। সোমবার সকালে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্যের প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী। বামফ্রন্ট জমানায় রাজ্যের শিল্পায়নের দিশারি বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে তাঁকে। অবিভক্ত বর্ধমান জেলায় হরেকৃষ্ণ কোঙার পরবর্তী প্রজন্মের অবিসংবাদি বাম নেতা হিসেবেও পরিচিত তিনি। নিরুপমবাবুর মৃত্যুতে শোকের পরিবেশ বর্ধমানে। কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে গেল জেলা সিপিএম। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাঁইবাড়ি গণহত্যার কলঙ্ক পিছু ছাড়েনি তাঁকে। আদালতে দোষ প্রমাণ না হলেও সাঁই পরিবারের জীবিতদের চোখে অপরাধীই থেকে গিয়েছেন সিপিএমের প্রাক্তন পলিটব্যুরো সদস্য। শুধু তাই নয়, সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ নিয়েও ভুলত্রুটি হয়েছিল বলে ওয়াকিবহাল মহল বারবার নিশানায় এনেছিল তাঁকে। সবমিলিয়ে নিরুপম সেন প্রশংসা ও সমালোচনা দুই নিয়েই চলেছেন সারাজীবন।

১৯৪৬ সালের ৮ই অক্টোবর জন্ম। শৈশব কেটেছে বর্ধমান জেলার গোবিন্দপুর অঞ্চলে। সেখানকার রায়পুর হাই স্কুলে তাঁর বাবা ভুজঙ্গভূষণ সেন শিক্ষকতা করতেন। ওই স্কুলেই নিরুপম সেন পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে তিনি বর্ধমান রাজ কলেজে ভর্তি হন বিজ্ঞান বিভাগে। সেই সময়েই তিনি ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দ্রুত জনপ্রিয় ছাত্র নেতা হয়ে ওঠেন। সুবক্তা ছিলেন এবং মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখতেন বলে ছাত্রাবস্থাতেই নিরুপম সেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ অর্জন করেন। তাঁর পার্টি সদস্যপদের প্রস্তাব করেছিলেন সিপিআই (এম) নেতা মদন ঘোষ এবং সমর্থন করেছিলেন সুশীল ভট্টাচার্য। ১৯৬৬ সালে নিরুপম সেন বর্ধমান জেলায় ছাত্র ফেডারেশনের সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হন। ওই বছরই নাদনঘাটে বর্ধমান জেলার দশম সম্মেলনে নিরুপম সেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৯ সালে রবীন সেন বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক পদ থেকে পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে এলে বর্ধমান জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব পান নিরুপম সেন। সেই সময় থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

[দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন]

১৯৮৭ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন নিরুপম সেন। সেই তাঁর প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ। কিন্তু তারপরে তিনি আবার সংগঠনের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। ১৯৮৫ সালেই নিরুপম সেন পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য হন। ১৯৯৫ সালে নিরুপম সেন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন, জেলা থেকে রাজ্যে বর্ধিত দায়িত্ব নিয়ে আসেন। ১৯৯৮ সালে কলকাতায় সিপিএমের ষোড়শ কংগ্রেসে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের পার্টি কংগ্রেসে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নিরুপম সেন ফের বর্ধমান (দক্ষিণ) বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার বামফ্রন্ট সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৬ সালেও তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই পুনর্নির্বাচিত হন। এবারও তিনি শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী হন। পরবর্তীকালে তিনি এরসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন

তাঁর আমলেই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে ধাক্কা খেয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকারে শিল্পায়নের প্রচেষ্টা। আবার তাঁর জমানাতেও পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে বিমানবন্দর ও বিমান নগরীর সূচনা হয়েছিল। বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে গোদায় হেলথ সিটি গড়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। কিন্তু তা বাস্তবের মুখ দেখেনি আজও। তবে তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম নেই। সাঁইবাড়ি গণহত্যায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। যদিও আদালতে তা প্রমাণ হয়নি। সাঁইবাড়ি গণহত্যার সাক্ষীদেরও খুন হতে হয়েছিল। ২০১১ সালে বর্ধমান (দক্ষিণ) কেন্দ্রে বিপুল ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। তৃণমূল কংগ্রেসের রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় পরাজিত করেন তাঁকে। এর কিছুদিন পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নিরুপমবাবু। কলকাতাতেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন। তবে মাঝে দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে হুইল চেয়ারে বসেও যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল। নিরুপম সেনের পরাজয়ের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি জেলা সিপিএম। সংগঠনও ভেঙে পড়ে। ২০১৬ সালে নিরুপমবাবুর মানসপুত্র আইনুল হককে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। তিনিও পরাজিত হন। এখন দল থেকেই বিতারিত হয়েছেন আইনুল। সিপিএম বিরোধী রাজনৈতিক দলে পা বাড়িয়েছেন আইনুল।

[জোট চেয়ে কংগ্রেসের ডাকের অপেক্ষায় সিপিএম]

পূর্ব বর্ধমান জেলা সিপিএমের তরফে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে নিরুপমবাবুর মৃত্যুতে। জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক বলেন, “অপূরণীয় ক্ষতি হল।” দলের প্রাক্তন সম্পাদক তথা কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক অমল হালদার বলেন, “এই প্রজন্মের কাছে অভিভাবক ছিলেন তিনি। অপূরণীয় ক্ষতি। শুধু বর্ধমান নয় রাজ্যেরও বিরাট ক্ষতি।” অমলবাবু জানিয়েছেন, ২৬ ডিসেম্বর বর্ধমানে নিরুপমবাবুর দেহ আনা হবে কলকাতা থেকে।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement