দিব্যেন্দু মজুমদার: পেনশনের হাতে গোনা কটা টাকা মাত্র সম্বল। তাতেই কোনওক্রমে দিন গুজরান। কিন্তু তাও বোধহয় এবার বন্ধ হতে বসেছে। কেননা মিলছে না হাতের ছাপ। ফলে মিলবে না আধারও। আর আধার বিনে গতি নেই। ফলে একরকম বিপাকেই পড়েছেন ৬৭ বছরের শিবশংকর সাউ।
[ হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের ভূরিভোজ, অন্যরকম বিবাহবার্ষিকী পালন ]
শ্রীরামপুর বটতলার বাসিন্দা তিনি। শ্রীরামপুর ইন্ডিয়া জুট মিলের কর্মী ছিলেন। ২০০৮-এ কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তারপর থেকে মাসিক ৭০৪ টাকা পেনশন পাচ্ছিলেন তিনি। শিবশংকরবাবু জানান, তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রীরামপুর শাখা থেকে পেনশনের টাকা তুলতেন। মাস ছয়েক আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানান ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিংক না করালে আগামী দিনে তাঁর পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। এরপরই তিনি আধার কার্ড করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি শুরু করে দেন। কিন্তু বিধি বাম। বারংবার বহু চেষ্টা করা সত্বেও যন্ত্রে তাঁর হাতের ছাপ ওঠেনি। বহু চেষ্টা করার পরও আজ পর্যন্ত শিবশংকরবাবুর আধার কার্ড হয়নি। অন্যদিকে ব্যাংকে আধার লিংক করানোর সময়সীমা ২০১৮-র মার্চে শেষ হয়ে যাবে। তারপর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে তাঁর পেনশন। শিবশংকরবাবু জানান, দুশ্চিন্তায় তাঁর রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। যত একটা একটা করে দিন চলে যাচ্ছে, ততই তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। হকের সামান্য কটা টাকাও বন্ধ হয়ে যাবে ভেবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
[ বিচারকের দাওয়াইয়ে কাজ, মিষ্টিমুখে পুনর্মিলন সিউড়ির দম্পতির ]
বৃদ্ধ প্রশ্ন তুলেছেন যে, মানুষটা যেখানে সশরীরে উপস্থিত, সেখানে তাঁর জীবনের মূল্যের থেকে কি যন্ত্রের মূল্যায়ণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ? তাঁর হাতের আঙুলের ছাপ যন্ত্রে ধরা পড়েনি তার জন্য কি তিনি অপরাধী? তাহলে তাঁর পেনশন বন্ধ হবে কেন? বৃদ্ধের ছেলে আনন্দ সাউ জানান, তিনি বাবাকে নিয়ে আধার কার্ড করার জন্য বহু জায়গায় গিয়েছেন। যন্ত্রে হাতের আঙুলের ছাপ ওঠেনি। বিকল্প ব্যবস্থা জানতে চাওয়া হলে তাঁকে বলা হয় তার বাবার রেটিনার ছবি তুলতে হবে। কিন্তু বাবার দুই চোখেই দুই বার করে অপারেশন হয়েছে। তাই রেটিনার ছবি তোলাও সম্ভব নয়। আনন্দবাবু এরপর সমস্যার সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে বিষয়টি জানানো সত্বেও কোনও ফল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য যে যন্ত্র মানুষের সমস্যার মূলে, যে যন্ত্রের কারণে এক বৃদ্ধের পেনশন বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে তার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। এদিকে এই সমস্যা দূর করতে ‘ফেস রেকগনিশন’ পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা করেছে আধার কর্তপক্ষ। কিন্তু তা চালু হতেও বেশ খানিকটা দেরি। তার মধ্যে আদৌ আধার হবে কিনা, আর শিবশংকরবাবু পেনশন পাবেন কিনা, সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বৃদ্ধের কাছে।
[ ক্ষোভে ফুঁসছে বাসন্তী, চড়াবিদ্যায় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ ]
সর্বশেষ খবর
-
সমুদ্র স্নানে নিষেধাজ্ঞা, দুর্যোগের পূর্বাভাসে দিঘা-মন্দারমণিতে পর্যটকদের জন্য বড় নির্দেশিকা
-
যুদ্ধের দামামা এবার লোহিত সাগরে! ইয়েমেনের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে মারণ হামলা, নেপথ্যে কারা?
-
সুসম্পর্ক বজায় রাখাই লক্ষ্য! নিজের হাতে চা বানিয়ে স্থানীয়দের খাওয়ালেন বিজেপি বিধায়ক
-
ভোজিনহাদের দেখতে বিমানবন্দরে অগণিত ভক্ত, বিশ্বকাপে স্বপ্ন-সফর শেষে বিরাট লক্ষ্মীলাভ কেপ ভার্দের
-
‘অনুদান গণনায় আমার ভূমিকা নেই’, নীরবতা ভেঙে সাফাই রাম মন্দির ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষের