টিটুন মল্লিক: প্রবল প্রভাবশালী আমলাতন্ত্রের গেরোয় হাঁসফাঁস করছে শাসনব্যবস্থা। ‘সাহেবদের’ খেয়ালখুশির জেরে মাঝে মাঝেই ভূগতে হয় ‘আম আদমিকে’। নেতা থেকে জনতা, সবার উপরেই ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা নাকি ‘গণতান্ত্রিকভাবে’ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষমতার ব্যবহারের চাইতে অপব্যবহারই বেশি নজরে আসে। ‘কলম সর্বস্ব’ সাহেবদের ‘লিখিত নির্দেশ’ মাঝে মাঝেই সমস্যা তৈরি করে জনসাধারণের জন্য। এবার এমনই এক ঘটনার সাক্ষী পশ্চিমবঙ্গ। এক নির্দেশিকা মারফত এবার ফরমান জারি করা হয়েছে যে লিখিত নির্দেশ ছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলায় মোতায়েন করা যাবে না প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সিভিল ডিফেন্সের ভলান্টিয়ারদের। এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যে উস্কে দিয়েছে বিতর্ক।
[বাঁকুড়ায় অনাবৃষ্টির মার, ফসল নষ্ট হলে আন্দোলনের হুমকি কৃষকদের]
বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারদের ডিরেক্টরের অনুমোদন ছাড়া মোতায়েন করা যাবে না। রাজ্য সিভিল ডিফেন্স দপ্তর থেকে গত সোমবার এই নির্দেশই জারি করা হয়েছে। দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল বি বি দাস গত মাসের ২৯ তারিখ সেই নির্দেশ জেলায় জেলায় পাঠিয়েও দিয়েছেন। এহেন নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে খোদ প্রশাসনিক মহলে। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁরা জানিয়েছেন, জেলায় কুইক রেসপন্স টিম তৈরি করে সিভিল ডিফেন্সের বেশকিছু ভলান্টিয়ারকে বিভিন্ন বিপর্যয়ের সময় উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়। এই কাজের জন্য ভল়ান্টিয়ারদের একদিনের পারিশ্রমিক ৪২০ টাকা করে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অনেকের বাঁচামরা নির্ভর করে এঁদের দক্ষতার উপর। এক্ষেত্রে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ও আহতদের উদ্ধার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী লিখিত অনুমতি আনতে গেলে সময় নষ্ট হবে। লাল ফিতের ফাঁসে ব্যয় হয়ে যাবে বহুমূল্য সময়। উদ্ধারকাজে বিলম্ব কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘এই নির্দেশের ফলে আমরা কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যদের মোতায়েন করতে পারব না। ফলে উদ্ধারকার্যের ক্ষেত্রে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যাবে।’ অতিরিক্ত জেলাশাসক সব্যসাচী সরকার নয়া নির্দেশের কথা স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে কিছুই বলতে চাননি। বর্তমানে সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারদের অগ্নিকান্ড, বন্যা কিংবা পুরানো কোনও ভেঙে পড়া বাড়ির উদ্ধারকার্যে মোতায়েন করা হয় । প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, এই দপ্তরের কাজ ক্রমশ বাড়ছে। অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ, সড়ক দুর্ঘটনা, ব্রিজ ভেঙে পড়ার মতো ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নয়া নির্দেশিকা নিয়ে তুঙ্গে চাপানউতোর।
[ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের]
সর্বশেষ খবর
-
তৃণমূলের খোলনলচে বদলে দিলেন মমতা, ‘দল বাঁচাতে’ ডানা ছাঁটা হল অভিষেকের!
-
ভারতে ইবোলার হানা! জয়পুরে উগান্ডার পর্যটকের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ ঘিরে চর্চা
-
১৯৭০-এর মডেল, ৬,১৭৫ গ্রাম সোনা! ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির দাম শুনলে চমকে যাবেন
-
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা আলাপনের স্ত্রীর! সোনালি চক্রবর্তীর পদক্ষেপ ঘিরে জল্পনা
-
শৈশবের ট্রমা সহজে কাটে না! প্রভাব পড়তে পারে প্রেমের সম্পর্কেও, বোঝা যায় এই লক্ষ্মণেই