BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

হেল্প ডেস্ক নয়, অনলাইনেই কলেজে ভর্তি, ছাত্রসংগঠনে বার্তা তৃণমূলের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 1, 2016 9:37 am|    Updated: June 1, 2016 9:45 am

An Images

বিশেষ সংবাদদাতা: দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে দলের সাংসদ-বিধায়ক-সহ সর্বস্তরেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তা এবার কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে চায় তৃণমূল৷ সে জন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা মেধার ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে চাইছে শাসকদলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ৷

গত বছর এই ভর্তিকে কেন্দ্র করে বহিরাগত নেতাদের নানা হস্তক্ষেপ এবং ‘ছাত্র সংসদের কোটা’র দাবি নিয়ে একাধিক কলেজে অধ্যক্ষ নিগ্রহ থেকে শুরু করে বিক্ষিপ্ত গোলমাল ও ভাঙচুর হয়েছিল৷ স্বভাবতই এবার ছাত্রভর্তির শুরু থেকেই দলের ছাত্র শাখার নেতাদের আচরণ এবং ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক তৃণমূল৷ কলেজে ছাত্র ভর্তি নিয়ে তাই এবার দলীয় স্তরে কড়া নির্দেশিকা জারি করল তৃণমূল কংগ্রেস৷ দলের ছাত্র সংগঠনের সমস্ত জেলা সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট প্রধানকে ডেকে জানিয়ে দেওয়া হল, “মেধার ভিত্তিতেই সমস্ত কলেজে অনলাইনে ছাত্র ভর্তি হবে৷ স্বভাবতই কোনও ক্ষেত্রেই কলেজ গেটে সংগঠনের তরফে ‘হেল্প ডেস্ক’ খুলে কাউকে সহায়তার প্রয়োজনও নেই৷ ভর্তির ব্যাপারে ছাত্র সংসদের কোটার দোহাই দিয়েও এবছর কোনওরকম নাক গলানো চলবে না৷” ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে অতীতের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার প্রথম থেকেই দল এবং রাজ্য সরকার যে অত্যন্ত কঠোর, তা এই নির্দেশিকার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি জয়া দত্ত৷ স্নাতক ও অনার্সের ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে দলেরই বহিরাগত ছাত্র নেতাদের হস্তক্ষেপ, চাঁদাবাজি এবং অশান্তির বিষয়টি যে এবছর কোনওমতেই কাম্য নয় তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে তৃণমূল৷

দলের ভাবমূর্তি  বজায় রেখে ছাত্র ও অভিভাবকদের হয়রানি রুখতেই এমন কড়া নির্দেশিকা বলে ইঙ্গিত জয়ার৷ তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ আসে তবে তদন্তসাপেক্ষে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷” এমনকী দলের সাংসদ ও বিধায়কদেরও কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনওরকম হস্তক্ষেপ চাইছে না তৃণমূল৷ কারণ, অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, নেতাদের চিঠি না থাকলে কলেজে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করা যায় না৷ বস্তুত এই প্রথাও এবার বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস৷ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাম জমানায় ভর্তির নামে কলেজে এসএফআইয়ের চাঁদাবাজি এবং ইউনিয়নের প্রভাব চালু ছিল৷ তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সেগুলি বন্ধ করতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে৷ এবার তো কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হল৷” যে সমস্ত কলেজে এসএফআই আছে সেখানেও তৃণমূল নজরদারি চালাবে বলে বৈশ্বানর জানান৷

মধ্য ও উত্তর কলকাতায় স্পর্শকাতর যে কলেজগুলিতে গতবছর অশান্তি হয়েছিল সেগুলি নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালু করেছে তৃণমূল৷ একইভাবে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, মালদহ বা বর্ধমানেও ছাত্র ভর্তি নিয়ে শৃঙ্খলার প্রশ্নে এবার আগে থেকেই একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে শাসক দলের ছাত্র সংগঠন৷ এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতাদের ডেকে বৈঠক করে ভর্তি নিয়ে সরকার ও দলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন জয়া৷ বলেছেন,“মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা অনলাইন ভর্তির ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবন্ধকতা বরদাস্ত করা হবে না৷ কলেজে ভর্তিকে কেন্দ্র করে দল বা রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোনও কাজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কোনওভাবে প্রশ্রয় দেবে না৷”

আবার রাজ্য সরকারের তরফেও স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব এবং অফিসারদের সোমবার ডেকে জানিয়ে দিয়েছেন, “সর্বত্রই অনলাইনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে৷ কলেজগুলির ভর্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত আসন সংখ্যার বেশি ভর্তি করা যাবে না৷ কলেজগুলির মধ্যে সমন্বয় করতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিপিআইকেই৷” বিশ্ববিদ্যালয়কেও এবার প্রথম থেকেই অধীনস্থ কলেজগুলির স্নাতক স্তরের ভর্তি এবং অনার্সের অনুমোদিত আসন সংখ্যার উপর নজরদারি চালাতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement