রাজা দাস, বালুরঘাট: প্রধান না করায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন দণ্ডি কাণ্ডে শিরোনামে আসা শিউলি মার্ডি ও তাঁর পরিবার। এমনকি আশাহত এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজনও। আশা দিয়েও শেষ মূহূর্তে প্রধান করা হয়নি বলে দাবি শিউলির। অবশ্য তৃণমূল রাজ্য নেত্রী অর্পিতা ঘোষ জানান, “দণ্ডি কাণ্ডের জন্য অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে দল পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘটনায় নির্যাতিতাকে দল টিকিট দিয়েছে। কিন্ত কাকে প্রধান করা হবে এটা আলোচনার মধ্যে দিয়ে স্থির হয়। রাজনীতির সঙ্গে লেগে থাকতে হবে শিউলিকে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাজের মাধ্যমেই পাবেন তিনি।”
এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তপন ব্লকের গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েয়েতের চকবলিরাম সংসদ থেকে শিউলি মার্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৃণমূলের হয়ে। সেখানে তিনি ১০৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীকে। বুধ ও বৃহস্পতিবার ছিল ৬৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন। নির্বাচিত হয়েছেন প্রধান এবং উপপ্রধান। আরজিনা বিবি নামে অন্য এক নির্বাচিতকে পঞ্চায়েত প্রধান করা হয়। এরপরেই এলাকার তৃণমূল মনোভাবাপন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্তদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়।
শুক্রবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিউলি মার্ডি। নির্বাচিত ওই আদিবাসী মহিলা বলেন, “দলের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছিল নির্বাচিত হলে পঞ্চায়েত প্রধান করা হবে। আমি নির্বাচিত হয়ে আশা ও ভরসায় ছিলাম প্রধানের দায়িত্ব পাব। কিন্ত তা হল না। আমাকে দেওয়া কথা রাখা হল না। এতে আমার পরিবার ও এলাকার আদিবাসী মানুষজন মর্মাহত। আমাকে ওই পদে ভরসা করেনি। এখন সাধারণ সদস্য হয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। তবে এনিয়ে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব।”
[আরও পড়ুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুতে কড়া প্রশাসন, পুলিশের জালে প্রাক্তনী]
শিউলির সঙ্গে দণ্ডি কাণ্ডে শামিল থাকা ওই গ্রামের আদিবাসী মহিলা মার্টিনা কিস্কু বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম দলের পক্ষ থেকে হয়ত শিউলিকে প্রধান করা হবে। আদিবাসী মানুষজনের মন জয় করে থাকবে তৃণমূল। কিন্ত তা হল না।” এদিকে, প্রধান করা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরের মতপার্থক্যকে উসকে দিতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “আমরা একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষকে রাষ্ট্রপতি করেছি। আদিবাসীদের জন্য আমাদের ভাবনা কোথায় তা দেখেছে সকলে। কিন্ত তৃণমূল আদিবাসীদের কোন জায়গায় রেখেছে তা এই ঘটনা থেকে আবার স্পষ্ট হল।”
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসের শুরুতে বিজেপিতে গিয়েছিলেন গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিউলি মার্ডি, মার্টিনা কিস্কু-সহ বেশ কয়েকজন মহিলা। পরেরদিন তাঁরা ফের তৃণমূলে যোগ দেন। তৎকালীন জেলা মহিলা তৃণমূল জেলা সভাপতির প্ররোচনায় শিউলি-সহ তিন আদিবাসী মহিলা রাস্তায় দণ্ডি কাটেন প্রায়াশ্চিত্ত করতে। এনিয়ে সরগরম হয় জেলার রাজনীতি। আসরে নামে বিজেপি-সহ কিছু আদিবাসী সংগঠন। তৃণমূলকে ওই এলাকায় কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্ত ওই তিন আদিবাসী মহিলার মধ্যে শিউলিকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থী করে তৃণমূল। বিজেপি ও বাম প্রার্থীকে পিছনে ফেলে জয়ও ছিনিয়ে নেন শিউলি।
[আরও পড়ুন: নিয়ম বহির্ভূতভাবে হস্টেলে ছিলেন স্বপ্নদীপ! বিস্ফোরক দাবি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের]
সর্বশেষ খবর
-
ঢাকা হত সিসিটিভি, শৌচাগারে লুকনো টাকা! রাম মন্দিরে ‘চুরি’র নীল নকশায় তাজ্জব তদন্তকারীরা
-
‘দ্বিতীয়বার আসতে হলে ভালো হবে না’, মাফিয়ারাজ রুখতে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রী শঙ্করের
-
মেঘ-বৃষ্টির পাহাড়ে রোমাঞ্চের হাতছানি, টিকিট কাটার আগে এই ভুল করলেই বিপদ!
-
জমি জেহাদ থেকে ধর্মান্তকরণে নতুন আইন, ‘হিন্দু হোমল্যান্ড’ রক্ষায় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
পেটে লাথি মেরে দেব! সিএবি নির্বাচনে তৃণমূল নেতার ‘হুমকি’, এবার ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ আরেক জেলার