BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

তৈরি হচ্ছে কটেজ, টাইগার হিলে এবার রাত্রিযাপন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 10, 2016 9:44 am|    Updated: June 10, 2016 9:44 am

An Images

দীপঙ্কর মণ্ডল: মেঘের আদর মাখা আশ্চর্য সকাল৷ হু-হু ঠান্ডা হাওয়া৷ সমুদ্র থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজার ফুট উঁচু৷ দার্জিলিংয়ের সর্বোচ্চ স্থান টাইগার হিল৷ মাউন্ট এভারেস্ট আর কাঞ্চনজঙ্ঘা একসঙ্গে দেখা যায় এখানে৷ সূর্যোদয় দেখতে হোটেল থেকে ভোর রাতে বেরোতে হয়৷ দার্জিলিং থেকে ১১ কিলোমিটার উজিয়ে জিপ উঠে আসে এখানে৷ এখানে এবার রাতে থাকার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রকল্প তৈরি৷ পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই গৌতম দেব টাইগার হিল প্রকল্প দ্রূত রূপায়ণে নজর দিয়েছেন৷
এখনও টাইগার হিলে শুধুমাত্র দিনের বেলা বেড়াতে যাওয়া যায়৷ উঁচু ‘ভিউ টাওয়ার’-এ উঠে হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অংশের দেখা মেলে এক নজরে৷ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিলে ভিড় বাড়ে৷ সিকিমের ওখরে, হিলে বা ভারসেতে থাকার জায়গা আছে৷ যা টাইগার হিলের তুলনায় উঁচুতে৷ মেঘেদের সঙ্গে থাকতে অনেকেই পাড়ি জমান৷ রাতের বরফ ঠান্ডা হাওয়ায় আগুনে গা সেঁকে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে৷ স্থানীয় গরম পানীয়ে চুমুক দিয়ে তৃপ্তির শ্বাস নেওয়া যায়৷ চারিদিকে চোখ জুড়িয়ে যাওয়া পর্বতের সারি৷ শীতকালে বরফের উপর রোদের ঝিকিমিকি৷ অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য চারিদিকে৷

tigerhill1_web

একই অনুভূতি টাইগার হিলেও৷ পর্যটকরা দার্জিলিংয়ের হোটেলে থাকেন৷ তাঁদের বড় অংশ ভোর রাতে বেরোতে না পেরে সূর্যোদয় দেখা থেকে বঞ্চিত হন৷ সূর্যাস্তের পর ফের নেমে আসতে হয়৷ এবার সেই আফসোস আর থাকছে না৷ দফতরের নতুন দায়িত্ব নেওয়া গৌতম জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছায় এবার টাইগার হিলে কটেজ তৈরি হবে৷ সেখানে থাকা-খাওয়ার অসুবিধা হবে না৷” ইউনেস্কো এই জায়গাকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ ঘোষণা করেছে৷ নিয়ম মেনে এই এলাকাকে প্লাস্টিক বর্জিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে৷ ধূমপানও নিষিদ্ধ হতে পারে এই এলাকায়৷
দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার আগেই মমতা এখানে সরকারি ‘হোম স্টে’ গড়ার ইচ্ছার কথা ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছিলেন৷ মন্ত্রিসভা গঠনের পর তিনি গৌতমকে নির্দেশ দিয়েছেন টাইগার হিলে কটেজ তৈরি করতে হবে৷ নবমহাকরণে টাইগার হিল প্রকল্প তৈরি৷ এর সঙ্গে রাজ্যে আরও ২৪টি নয়া প্রকল্প গড়ার সুপারিশ যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ এর আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর সামলেছেন গৌতম৷ পাহাড় বিষয়ে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা৷ রাজ্যের অন্য কয়েকটি দফতরের সাহায্য নিয়ে. দ্রূত টাইগার হিলকে আরও সুন্দরী করতে চান তিনি৷ শুধু পাহাড় নয়৷ গাজোলডোবা, সুন্দরবন, দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শঙ্করপুর, তারাপীঠ, মুকুটমণিপুর, ঝড়খালি, গঙ্গাসাগরের মতো জনপ্রিয় জায়গাগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করতে চান গৌতম৷ পর্যটন দফতর থেকে নবান্নে নয়া প্রকল্পের রূপরেখা পাঠানো হচ্ছে৷ ১৮ জুন ঝড়খালি যাবেন পর্যটনমন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যের পর্যটনকে বিশ্ব মানচিত্রে আরও উঁচুতে দেখতে চান৷ তাঁর নেতৃত্বে আমরা নিশ্চিতভাবে আরও সাফল্য পাব৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement