ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: অভূতপূর্ব সাফল্য ও গণ উন্মাদনার সাক্ষী রইল শহর কলকাতা। রাজ্যে দুর্গাপুজো কার্নিভালের সেই উজ্জ্বল কৃতিত্বকে মাথায় রেখে সরকার এবার প্রতি জেলায় পুজো কার্নিভাল চালুর কথা ভাবছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক চিন্তাভাবনাও সারা।
প্রশাসন সূত্রের খবর, কার্নিভালের জন্য জেলার সেরা ২৫টি পুজোকে বেছে নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সদর দপ্তর অর্থাৎ, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন হবে। শোভাযাত্রার জন্য বিসর্জনের ঘাট পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটও বেছে নেওয়া হবে। সেই পথেই হবে কার্নিভাল। পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে স্থানীয় আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে সেই এলাকা ছুঁয়েই হবে প্রতিমা বিসর্জন। তার জন্য জেলা সদর দপ্তরেই আবেদন করতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভাসানের শোভাযাত্রার অসম্ভব সাফল্যে খুশি হয়ে রেড রোডে বসেই প্রশাসনের এহেন পরিকল্পনায় একপ্রকার সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই জেলা প্রশাসনের কাছে প্রাথমিক নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে।
[শারদ কার্নিভালে সেরা ট্যাবলোর পুরস্কার পাচ্ছে শহরের এই পুজোগুলি]
কলকাতার পুজো কার্নিভাল দ্বিতীয় বছরে পড়ল। যত দিন যাচ্ছে, তার জৌলুস তত বাড়ছে। বিদেশি অতিথিরা পর্যন্ত তা চাক্ষুষ করতে পাড়ি জমাচ্ছেন দুর্গপাড়ের রাস্তায়। যে উৎসবে দেখে চোখ ঝলসে গিয়েছে জাপান, বার্সার ফুটবলপ্রেমী নাগরিকদের। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রাক্কালে বিশ্বের ক্যামেরাবন্দি হয়ে গিয়েছে বাংলার বহু শিল্পীর কাজ। কার্নিভালের খ্যাতি এতদূর ছড়িয়েছে যে, তাতে অংশ নিতে না পেরে জেলার অনেক পুজো কমিটিরই মুখভার। এমনকী, প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়ার ভুলে কলকাতার দু’-একটি পুজোকেও এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে হয়েছে।
বস্তুত, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, কলকাতার পুজো কার্নিভালের দেখাদেখি একাধিক পুরসভা নিজেরাই নেমে পড়েছে কার্নিভালের আয়োজন করতে। মহানগরের সঙ্গে রীতিমতো টক্করের আমেজ নিয়ে সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া-সহ বেশ কয়েকটি জেলার পুরসভা এমন আয়োজন করেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর দমদম পুরসভা ও নদিয়ার রানাঘাট পুরসভা রয়েছে সেই তালিকার একেবারে উপরে।
রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতার কার্নিভালে সামিল হতে চেয়ে এবার অসংখ্য আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু জায়গা পেয়েছে মোটে ৬৮টি। তা বলে বাকিরা মোটেই পাতে দেওয়ার অযোগ্য নয়। জেলার বহু পুজো কলকাতার সঙ্গে পাল্লা টানতে পারে। কলকাতার কার্নিভালে জায়গা না পেয়ে তারা দমে যেতে পারে। তাই প্রশাসন চাইছে তাদেরও উৎসাহ দিতে।
এবারই যেমন অনেকেই কলকাতার রেড রোডে জায়গা পায়নি। কিন্তু তা বলে তারা আটকেও থাকেনি। পুর এলাকা ধরে বেশ কিছু পুজো কমিটি নিজেরাই আয়োজন করে নিয়েছে। তাতে ভাসান শোভাযাত্রার জৌলুস কতটা বেড়েছে জানা নেই। তবে অসন্তোষ কিছুটা হলেও মাথাচাড়া দিয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। সেই অসন্তোষ যাতে উচ্ছৃঙ্খলতার রূপ না নেয়, সে কথাও মাথায় রেখেছে রাজ্য প্রশাসন। তার পরই নবান্ন থেকে তার সরকারি সিলমোহর যাবে বলে ঠিক হয়েছে।
[কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো: দেবীকে সন্তুষ্ট করতে ভুলেও এই ৩ কাজ করবেন না]
সর্বশেষ খবর
-
ভারত থেকে বিপুল আয় ট্রাম্পের সংস্থার, গুরুগ্রাম যেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের টাকার খনি!
-
শুরুতেই ডার্বি, ঘোষিত ডুরান্ডের পূর্ণাঙ্গ সূচি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের বাকি ম্যাচ কবে-কোথায়?
-
মেসিকে চিঠি লিখে আজ মাঠে আট বছরের খুদে সমর্থক, কীভাবে হল স্বপ্নপূরণ?
-
নাগরিকদের ‘দাস’ বানানোর চেষ্টা! সরকার বিরোধিতার জন্য নির্বাসিত করা অগণতান্ত্রিক, বলছে বম্বে হাই কোর্ট
-
গিরিখাতে পড়ল যাত্রীবাহী বাস, পাকিস্তানে গতির বলি অন্তত ৪০