‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। যেদিকে তাকিয়েছি শুধু জল। গঙ্গার জলে ভূতনি পুরোপুরি প্লাবিত। প্রচুর জল সেখানে। এই জল নামতে অনেক সময় লাগবে।’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বুধবার আকাশপথে ভূতনির ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সরজমিনে দেখার পর এমনই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল হতবাক রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিক দলের।
এদিন বেলা ১২টা নাগাদ কপ্টারে মালদহে পৌঁছন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ সিনহা, ডিজি সিভিল ডিফেন্স সঞ্জয় সিং এবং আইজি নর্থবেঙ্গল সুকেশ জৈন। প্রথমে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তাঁরা। এরপর জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে আকাশপথে বন্যাকবলিত ভূতনির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। কপ্টার থেকে নেমে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বলেন, “ভূতনি পুরোপুরি প্লাবিত। প্রচুর জল সেখানে। এই জল নামতে অনেক দেরি হবে। বন্যা পরিস্থিতির সবদিক এদিন খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে যেন রোগ না ছাড়ায় সেটা দেখা হচ্ছে। বানভাসিদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ত্রাণ সামগ্রী বিলির কাজ চলছে।”
আরও পড়ুন:
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনও গঙ্গার জল চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেচ দপ্তর সূত্রের খবর, মানিকচক ঘাটে জলস্তর বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। ইতিমধ্যে ভূতনির শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ জলবন্দি। হিরানন্দপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মঙ্গলবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে প্রশাসনের তরফে কেটে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলহর নদীর বাঁধ৷ বাঁধের কাটা অংশ দিয়ে উত্তর চণ্ডীপুর এলাকা থেকে গঙ্গার জল ফুলহর নদীর দিকে এগোতে শুরু করেছে৷ বানভাসি চণ্ডীপুরের বাসিন্দাদের বক্তব্য ছিল, ভূতনির একদিকে গঙ্গা, অন্যদিকে ফুলহর৷ তাই যদি দক্ষিণ চণ্ডীপুরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয় তবে চর থেকে গঙ্গার জল দ্রুতগতিতে ফুলহরে মিশবে৷ উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ তাতে স্বস্তি পাবে৷ সেটাই হয়েছে। তবে গঙ্গার মতো ফুলহরের জলও ফুসছে। রতুয়ায় মহানন্দাটোলা পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় ডাকঘর ফুলহর নদীর জলে বন্দি হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র জলে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছেন না।

বৈষ্ণবনগর ও কুম্ভরার মতো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও জল ঢুকেছে। সেখানকার বানভাসিদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, বৈষ্ণবনগর, পারলালপুর সংলগ্ন কিছু এলাকা জলে ভেসেছে। কোথাও দু’ফুট। আবার কোথাও চার ফুট জল দাঁড়িয়েছে। গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। এদিন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মন্ডল অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনকালে ভূতনির বন্যা ও ভাঙ্গন প্রতিরোধের কাজ হয়নি। ভাঙন প্রতিরোধের নামে সরকারি অর্থ লুঠ হয়েছে। পরিনতিতে এবারও লক্ষাধিক মানুষকে বন্যার কবলে পড়তে হয়েছে। তবে এবার ভূতনির বন্যা ও ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার হচ্ছে। রাজ্য সরকার সব রকম পদক্ষেপ করবে।
এদিকে বন্যায় নিজের বাড়িতেই জলবন্দি হয়েছেন রতুয়ার বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের কাটাহা দিয়ারা এলাকায় ফের তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।পটলডাঙ্গা, শ্রীকান্তটোলা, আমিরচাঁদটোলা, কান্তুটোলা, মনিরামটোলা ও জিতুটোলার মতো একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও ভাঙন চলছে। মালদহ জেলা প্রশাসনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, বন্যা ও ভাঙনের জেরে জেলার ৮২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল৷ সেগুলি হল উদয়পুর হাইস্কুল, ভূতনি চণ্ডীপুর হাইস্কুল, উত্তর চণ্ডীপুর হাইস্কুল, আমতলা ননীটোলা হাইস্কুল এবং কাটাহা দিয়ারা হাইস্কুল৷ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। ওই কারণে বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে। বুধবার থেকে নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাসও শুরু হয়েছে৷ বানভাসিদের জন্য জেলায় ২৩টি বন্যাত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ সেখানে আশ্রয় নেওয়া পড়ুয়াদের জন্য মথুরাপুর মডেল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন৷
সর্বশেষ খবর
-
৪ নেতাকে সাসপেন্ড, এক্তিয়ার মনে করিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সভানেত্রীকে শোকজ করল বিজেপি!
-
‘বন্ধু’ ইরানের পিঠে ছুরি! নিজেকে বাঁচাতে তেহরানের আস্থা ভেঙে বোমাবর্ষণের পথে পাকিস্তান
-
৯১ বছরেও তরতাজা তরুণী! অবিশ্বাস্য ভল্টের ভিডিও ভাইরাল হতেই শিরোনামে মার্কিন বৃদ্ধা
-
লক্ষ্মীবারেই কৌশিকী অমবস্যা! তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়ার আগে রইল সমস্ত খুঁটিনাটি
-
সেপ্টেম্বরেই পুজোর বোনাস জুটমিল শ্রমিকদের! উন্নয়নে বাংলাকে গুজরাট করার ডাক অর্জুনের